ঈদগাঁও বাঁশঘাটা সেতু নির্মাণে বিলম্ব যাতায়াত দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ঈদগাঁও প্রতিনিধি

21

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীর উপর দিয়ে নবনির্মিতব্য বাঁশঘাটা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এসটিএম রাজা মিয়া সেতু সংযোগ নির্মাণে চরম গাফিলতি ও নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। যার ফলে সেখানকার অর্ধ লক্ষাধিক জনগণকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ আর ভোগান্তি। অপরদিকে নদী পারাপারে অস্থায়ী নৌ-ঘাটে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, বিগত তিন বছর পূর্বে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ধসে পড়ে পুরাতন ব্রিজটি, পর্যায়ক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার লোকজন তাৎক্ষণিক চলাচলের জন্য গাছের একটি সাঁকো তৈরি করেন। পরের বছর সেটিও ঢলের পানিতে ভেসে যায়। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা টেন্ডার দেয স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিআরডি)। টেন্ডারটি পায় নোয়াখালী এলাকার একজন ঠিকাদার। তিনি কাজ সম্পাদনের লক্ষে কাজ শুরু করেন বিগত ১ বছর পূর্বে। নির্মিতব্য ব্রিজের ৩০% কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যতটুকু হয়েছে সে কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেন স্থানীয় সচেতন সমাজ। অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রিজ নির্মাণে গাফিলতি করায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোগী, শিক্ষার্থী, নারীদের এক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে ঈদগাঁও বাজারে। আরকান সড়ক দিয়ে চলাচল করতেও আতংক বিরাজ করে।
স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কক্সবাজারের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকার এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। প্রতিদিন নৌকা করে পারপারের ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যে কয়েকটি দূর্ঘটনায় প্রাণহানির মত অবস্থা হয়েছে।
ঘাটের ইজারাদার আবু তাহের নামের এক ব্যক্তি বলেন, পথচারীদের সুবিধার জন্য নদী পারাপারে জন্য বসানো হয়েছে নৌকা। যেটি উপজেলা কার্যালয় থেকে টেন্ডার হয়েছে ৫ লক্ষ ১২ হাজার টাকা দিয়ে। এসময় জনপ্রতি ২ টাকা ৫০ পয়সা এবং আসা যাওয়া বাবদ ৫ টাকা করে নির্ধারণ করে দিলেও প্রশাসনকে না জানিয়ে জনপ্রতি ৫ টাকা, আসা যাওয়া ১০ টাকা নিচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে পারাপার করার নিয়ম থাকলেও তা মানছে না। তাছাড়াও এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ এক বছর আগে থেকে শুরু হওয়ার পরও দৃশ্যমান কাজ শেষ না হওয়ায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। স্থানীয়রা ব্রিজের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নৌকা ভাড়া নির্ধারণের জোর দাবী জানিয়েছেন।
ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক বলেন, যাতে ঠিকাদার দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করে সেজন্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করাচ্ছি। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে কোন অভিযোগ আসেনি আমার কাছে। সাব-কন্ট্রাক্টর রবিউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। ব্রিজ নির্মাণের ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজ করতে একটু সমস্যা হয়েছিল। কাজ চলমান রয়েছে আগামী ৩/৪ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গার্ডারগুলো স্থাপন করতে একটু সময় লাগে। ইতিমধ্যে ৪টি গার্ডার স্থাপন করা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। ২/৩ মাসের মধ্যে ব্রিজের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।