হিজরি বর্ষ ও শাহাদাতে কারবালা মাহফিল

ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশে অনন্য দৃষ্টান্ত রাখছে চট্টগ্রাম

আ ব ম খোরশিদ আলম খান

8

অনেকেই চট্টগ্রামকে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী আখ্যা দিয়ে পুলক অনুভব করে থাকেন। অন্যদিকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামের নাম দীর্ঘদিন ধরে উচ্চারিত হলেও সত্যিকার অর্থে চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী হতে পেরেছে তা নির্দ্বিধায় বলা যাবে না। কারণ বাণিজ্যিক রাজধানীর তকমা পেতে যত গুণ-বৈশিষ্ট্য-কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজনÑ এর কোনোটিই নেই চট্টগ্রামে। তবে চট্টগ্রাম যে দেশের সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে পীঠস্থান এতে বোধহয় কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। দেশে বহু পথ-মতের মানুষ আছে। প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি রয়েছে। বহু ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে চর্চিত কৃষ্টি সংস্কৃতি এখানকার বহুত্ববাদী সংস্কৃতির সহাবস্থান জানান দেয়। এদেশে সংখ্যাগুরু মুসলিম সম্প্রদায়ও নিজেদের ধর্মীয় কৃষ্টি সংস্কৃতি মেনে জীবনযাপন করে আসছে।
রোজার মাস শেষে খুশির বার্তা নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর। এর দুই মাস দশ দিন পর আসে ত্যাগের উৎসব ঈদুল আজহা। ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুনিয়ায় শুভাগমনকে ঘিরে সারা বিশ্বে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ) উদযাপিত হয়। ১৪ শাবান শবে বরাত এবং ২৭ রজব ঈদে মেরাজুন্নবী (দ) উদযাপনেও মুসলমানদের মাঝে আনন্দ-খুশি লক্ষ্য করা যায়। হিজরি সনের প্রথম মাস মুহররমের দুটি দিন অতীব মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে গণ্য। ১ মহররম হিজরি নববর্ষের প্রথম দিনটিও গুরুত্বপূর্ণ। ১০ মহররম আশুরা আমরা বেশ শোকাতুর চিত্তে পালন করি। কেননা, এদিনে দুনিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মন্তুদ ট্র্যাজেডির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে কারবালা ময়দানে। নবী পরিবার তথা আহলে বায়তে রাসূলের (দ) নিষ্পাপ পূতপবিত্র সদস্যগণ ৬১ হিজরিতে কারবালা ময়দানে দ্বীন ও ইসলামের জন্য অকাতরে জীবন উৎসর্গ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মহররম মাসে আহলে বায়তে রাসূল (দ) স্মরণে ১৯৮৬ সন থেকে চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১০ দিনব্যাপী পালিত হয়ে আসছে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। এবছর এ মাহফিল ৩৪ বছরে পদার্পণ করেছে। আর চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে বেশ ঘটা করে ধুমধামে শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা হলেন জমিয়তুল ফালাহর প্রথম খতিব অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আলকাদেরী (রহ)। আর শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের শুরু থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বর্তমানে জমিয়তুল ফালাহ আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক। জমিয়তুল ফালাহর এ কারবালা মাহফিল বেশ কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সাড়া জাগিয়েছে। দেশি-বিদেশি ইসলামী স্কলার, উলামা মাশায়েখ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বরেণ্য ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে অংশগ্রহণ করে এর শোভা-সৌষ্ঠব বাড়িয়ে তুলেছেন। বিশেষত, শাহাদাতে কারবালা মাহফিল আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও অনন্য অবয়ব প্রাপ্তির নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখছেন ইসলামী চিন্তাবিদ শিল্পপতি আলহাজ্ব সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। প্রতি বছর ১০ দিনব্যাপী এ শাহাদাতে কারবালা মাহফিল আয়োজনে সূফী সাহেব বড় ধরনের আর্থিক ত্যাগ স্বীকার ও উদার পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন। বিদেশি অতিথি ও আলোচকদের আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়া ও সম্মানী বাবদ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে প্রতিনিয়ত দ্বীন-মাজহাব-মিল্লাতের জন্য নিজেকে উৎসর্গীত রেখেছেন আলহাজ্ব সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। দেশে বহু প্রখ্যাত শিল্পপতি আছেন। এই শিল্পপতিদের কেউ কেউ নিজেদের কর্পোরেট শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজসেবা ও জনকল্যাণে ভূমিকা রাখলেও এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ভূমিকায় আছেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি তাঁর শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবং সূফী মিজানুর রহমান ফাউন্ডেশনের দ্বারা সমাজসেবা ও জনকল্যাণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দ্বীনি খেদমতেও অনন্য অবদান রেখে আসছেন। অসহায় গরিব দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত রাখছেন। কেউ অসুস্থ হলে বা চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষম হলে তার চিকিৎসার জিম্মাদারি নিচ্ছেন তিনি। শত শত অসহায় গরিব পরিবারকে তিনি গোপনে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। গরিব অসহায় আলেম-উলামা ও কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি তাদের নানা অভাব অনুযোগ পূরণ করে যাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা, খানকাহ, এতিমখানাসহ স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভবন ও নানা অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করে যাচ্ছেন। তাঁর উদার পৃষ্ঠপোষকতায় ইতিমধ্যে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে। চট্টগ্রাম ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া, নগরীর আছদগঞ্জস্থ ছোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা, হাটহাজারী ছিপাতলী জামেয়া গাউসিয়া মুঈনীয়া কামিল মাদ্রাসা, চন্দনাইশ বরকল ছালামতিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদ্রাসাসহ বহু মাদ্রাসার বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে এবং হচ্ছে সূফী মিজানুর রহমানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায়। এসব মাদ্রাসার একেকটি ভবন নির্মাণের পেছনে তিনি ৫/৬/৭/১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করে আসছেন। ইউআইটিএস নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।
অনেকেই শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামকরণের ক্ষেত্রে ‘গ্রæপ’ বা ‘ইন্ডাস্ট্রিজ’ লিখে থাকে। আর এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম সূফী মিজানুর রহমান। তিনি তাঁর শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন ‘পিএইচপি ফ্যামিলি’ অর্থাৎ ‘পিএইচপি পরিবার’। তাঁর অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদেরকে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যই মনে করেন। পিএইচপি নামকরণও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। পিস, হ্যাপিনেস ও প্রোসপারিটিÑ পিএইচপি; শান্তি-সুখ ও সমৃদ্ধি নামে ভিন্নধর্মী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সত্যিই তিনি শান্তি, জনগণের সুখ ও দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে অনন্য সাধারণ কীর্তির স্বাক্ষর রাখছেন।
জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে মহররম মাসে আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের দেখাদেখি সারা দেশে বহু স্থানে আজ আহলে বায়তে রাসূল (দ.) স্মরণে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল আয়োজিত হচ্ছে। এর পথিকৃৎ হচ্ছেন খতিবে বাঙাল উস্তাজুল উলামা অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আলকাদেরী (রহ) এবং আলহাজ্ব সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। আল্লামা কাদেরী হুজুর কেবলা (রহ) প্রায় সাড়ে চার দশক কাটিয়েছেন চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস ও অধ্যক্ষ হিসেবে। বত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি জামেয়ার অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বহু ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর জামেয়ায় অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকা এক বিরল দৃষ্টান্ত। জামেয়ার ইতিহাসে এতো বছর ধরে কোনো আলেমের অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন সত্যিই বিস্ময়কর। আর ১৯৮৬ সন থেকে ২০১৬ সন ইন্তেকাল পর্যন্ত ৩১ বছর ধরে তিনি জমিয়তুল ফালাহর খতিব পদে ছিলেন এবং ততোদিন পর্যন্ত শাহাদাত কারবালা মাহফিল আয়োজনেও ছিলেন অগ্রণী ও দিশারীর ভূমিকায়। আহলে বায়তে রাসূলের (দ) প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ এ শাহাদাত কারবালা মাহফিল। যতোদিন এ কারবালা মাহফিল চলমান থাকবে ততোদিন পর্যন্ত ইতিহাসে কালজয়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন দুই কৃতীজন অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আলকাদেরী (রহ) এবং আলহাজ্ব সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের জন্য এই দুই ব্যক্তিত্বের ত্যাগ ও অবদান ইতিহাসে অমর-অক্ষয় হয়ে থাকবে।
হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। ১ মহররম হিজরি নববর্ষ। এদেশে বাংলা ও খ্রিস্ট্রিয় নববর্ষ বেশ সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়ে এলেও হিজরি নববর্ষ পালনে উদাসীনতা চোখে পড়ে। তবে আশার কথা, দেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে বেশ ঘটা করে হিজরি নববর্ষ পালিত হয় ২০১০ সনে, নগরীর ডিসি হিলে। প্রথম আয়োজনে ছিল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। চট্টগ্রামের সমমনা ইসলামী সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের ব্যানারে ২০১১ সনের ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম ডিসি হিলে দ্বিতীয় বারের মতো হিজরি নববর্ষ পালন করা হয়। হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এবারসহ দশম বারের মতো চট্টগ্রাম লালদীঘি মাঠে ১ সেপ্টেম্বর (২০১৯), ১ মহররম (১৪৪১ হিজরি) রোববার বর্ণাঢ্য আয়োজনে হিজরি নববর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে হিজরি নববর্ষ পালনে যাঁরা দিশারীর ভূমিকায় আছেন তাঁরা হলেন বর্তমানে হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান পীরজাদা মাওলানা মুহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ শাহ, রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ আল্লামা তৈয়ব আলী, পরিষদের সাবেক কো-চেয়ারম্যান প্রয়াত মুহাম্মদ জাকের হোসাইন, পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মুহাম্মদ এনামুল হক ছিদ্দিকী, কো-চেয়ারম্যান মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশনা ও মিডিয়া সচিব আ ব ম খোরশিদ আলম খান (বর্তমানে যুগ্ম মহাসচিব) ও সংগঠক সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম (পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব) সহ আরো অনেকে। মূলত, এই কয়জনের মিলিত প্রচেষ্টা ও অবদানে হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের ব্যানারে চট্টগ্রামে হিজরি নববর্ষ উদযাপিত হয়ে আসছে। চট্টগ্রাম এক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
হিজরি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিগত নয় বছরে অনেক বিদগ্ধ ব্যক্তি, পীর মাশায়েখ, ইসলামী চিন্তাবিদ, কবি-সাহিত্যিক-শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবীসহ নানা স্তরের ব্যক্তিবর্গ অতিথি ও আলোচক হিসেবে এসেছেন। আসাদ চৌধুরীর মতো খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, পীরে তরিকত শাহসূফি মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আলহাসানী, সাবেক চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, অধ্যাপক ড. নূ ক ম আকবর হোসেন, রাজনীতিবিদ মাওলানা এম এ মতিন, সংগঠক-গবেষক অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনিসহ আরো অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তি হিজরি নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এবার চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে হিজরি নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চউক চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান ইসলামী চিন্তাবিদ আলহাজ্ব সূফী মিজানুর রহমান, গবেষক-সংগঠক মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ারসহ আরো অনেকে অতিথি ও আলোচক হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। হিজরি নববর্ষকে ঘিরে চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৭৪ সন থেকে চট্টগ্রামে ১২ রবিউল আউয়াল মহানবীর (দ) শুভ জন্মদিন উপলক্ষে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ) উদযাপিত হয়ে আসছে। আর এ জশনে জুলুসের মতো ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের ইসলামী সংস্কৃতির প্রবর্তক হলেন আওলাদে রাসূল (দ) গাউসে জমান শাহসূফি আল্লামা হাফেজ সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ)। এই জশনে জুলুস আজ সারা দেশে সাড়ম্বরে আয়োজিত হচ্ছে বিভিন্ন দরবার ও সংগঠনের পক্ষ হতে। বলা যায়, জশনে জুলুস, শাহাদাতে কারবালা মাহফিল ও হিজরি নববর্ষের মতো মহত্তর ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশে অনন্য দৃষ্টান্ত রাখছে চট্টগ্রাম। যা হয়তো এক সময় দেশের গÐি পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।
লেখক : সাংবাদিক, গবেষক