ইসলামাবাদের আচরণে ক্ষুব্ধ দিল্লি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহবান

4

ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ইসলামাবাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দিল্লি। শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাবিশ কুমার বলেছেন, পাকিস্তানের এমন আচরণ যথার্থ নয়। তাদের পদক্ষেপে দিল্লি ক্ষুব্ধ। পাকিস্তানকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহবান জানাচ্ছে ভারত।রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার আইসল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ভারতীয় প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের। প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে ওই অনুরোধ সরাসরি নাকচ করে দেয় পাকিস্তান। মূলত ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে দিল্লির ব্যাপক দমন-পীড়নের প্রতিবাদে এ সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামাবাদ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজেই ভারতের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে পাকিস্তানের বালাকোটে দিল্লি বিমান হামলা চালানোর পর ভারতের জন্য নিজ দেশের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছিল ইসলামাবাদ। তখন প্রায় চার মাস পাকিস্তানের আকাশসীমা হয়ে ভারতের বিমান চলাচল বন্ধ থাকে। ২৬ ফেব্রুয়ারি বন্ধ করে দেওয়ার পর গত ১৬ জুলাই ফের আকাশপথ খুলে দেয় পাকিস্তান। পরে কাশ্মির ইস্যুতে ফের একই পথ অনুসরণ করে ইসলামাবাদ। এতে করে বিপাকে পড়ে ভারত। কেননা, স্বাভাবিক সময়ে ভারতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার কমবেশি ৫০টি বিমান বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করে। এই বিমানগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেয় দিল্লি। ওই দিন সকাল থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে নিমজ্জিত হয় দুনিয়ার ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মির উপত্যকা। একে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে পাকিস্তান। দুই দেশের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়। কাশ্মির সীমান্তে চলছে টানটান উত্তেজনা। একইসঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত ও ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে কালো দিবস হিসেবে পালন করেছে ইসলামাবাদ। এর মধ্যেই ভারতের রাষ্ট্রপতিকেও নিজ দেশের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালো পাকিস্তান।