ইলিশের প্রজনন সময়ে মা-মাছকে সংরক্ষণ করতে হবে

5

বর্তমানে সাগরে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। ৬ -২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সাগরে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধকালীন সময়ে সাগরে মাছ ধরলে ধীবরদের জন্য শাস্তি মূলক ব্যবস্থা রয়েছে।
ইলিশ বাঙালির ঐতিহ্য। মাছে-ভাতে বাঙালি এ প্রবাদে জাতীয় মাছ ইলিশের প্রতি বাঙালির বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। ছড়া কাটা হয়েছে ‘ইলিশ ভাজা খেতে মজা গরম গরম হলে’। ইলিশ মাছ সুস্বাদু মাছ। বাঙালি বরাবরই ইলিশের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে আসছে। মাছের ডিমের ক্ষেত্রে ইলিশের ডিম একটু বেশি সুস্বাদু বলে বাঙালি ইলিশের ডিম ও খেতে চায়। কিন্তু ডিমালী মাছ নিধন করে ডিমের স্বাদ নিতে গিয়ে ইলিশের বংশবিস্তার ধ্বংস করা যৌক্তিক নয়। একটা বিশেষ সময়ে ডিমালী ইলিশ সাগরে ডিম ছাড়ে। জেলেরা নির্বিচারে ইলিশ ধরলে ইলিশের বংশ বিস্তার সম্ভব নয়। অতীতে নির্বিচারে ইলিশ ধরার কারণে এক সময় বাজারে ইলিশের আকালর পড়েছিল। বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গভীর ভাবে অনুভব করে ইলিশ ধরা বিষয়ক নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। একসময় সাগরে ৩/৪ কেজি ওজনের বড় বড় ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। মা মাছ নিধন ও নির্বিচারে ঝাটকা ইলিশ ধরার কারণে ইলিশের বংশ নিপাত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। বাজারে মৌসুমেও ইলিশের আকাল পড়তে দেখা যায়। ইলিশ সোনার হরিণে পরিণত হয়। মৎস্য আইন ও সরকারি বাধ্যবাদকতা জারি কার্যকর হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে বাজারে ইলিশ মাছ আসছে। দামও মোটামুটি ক্রয় ক্ষমতার ভেতর রয়েছে।
নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ থাকলে প্রজনন সময়ে মা মাছেরা ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে এবং ইলিশ মাছ বংশ বিস্তারের সুযোগ পাবে। সরকারের এ উদ্যোগ ইলিশ প্রজাতিকে বাচিয়ে রাখার স্বার্থে। মাছের এ প্রজাতিকে বাঙালির ঐতিহ্যের স্বার্থে বাচিয়ে রাখা প্রয়োজন। মা-মাছকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দানের পাশাপাশি জাটকা মাছ নিধনের উপর নিষেধাজ্ঞা যথাযথ কার্যকর রাখাও প্রয়োজন। ইলিশ মাছও সাধারণের মাছের ক্ষেত্রে জাতীয় মৎস্য নীতিমালা জেলেরা মেনে চললে এদেশে মাছের বাজারে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাবে। আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে হবে। কঠিন ভাবে জাটকা মাছ ও মা-মাছ নিধনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে কোন রকম শীথিলতা পদর্শন করা যাবে না। আমরা আশাকরি, জাতীয় মৎস্য আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।