ইরানি তেল বিক্রি বন্ধে মার্কিন প্রচেষ্টা চীনে ব্যর্থ

21

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব জুড়ে ইরানের কাছ থেকে তেল না কেনার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের প্রচারণা চীনের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। দেশটি ইরানের কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডিল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইরানের কাছ থেকে তেল কিনতে থাকা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ইরান থেকে উল্টো তেল আমদানি বাড়িয়েছে চীন।গত চার জুলাই ইরানের ওপর আবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত যে চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশগুলো করেছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে চুক্তি থেকে বের হয়ে গেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বøুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী শুধু জুলাই মাসেই চীন ইরান থেকে তেল আমদানি বাড়িয়েছে ২৬ শতাংশ। অথচ দেশটি আগে ইরান থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি না করার ঘোষণা দিয়েছিল।অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার বদলে পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর শর্ত মেনে নেওয়া ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করছে। তারা তেল রফতানিতে কোনও বাধা না মানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির কারণে দেশটি আসলেই অনেক চাপে পড়েছে। তবে তা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষকে অসুবিধার বদলে সুবিধা এনে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চাপের শিকার হওয়া দেশটির জনগণের মধ্যে মার্কিনবিরোধী চেতনা দৃঢ় হয়ে উঠতে পারে, যা শক্তিশালী করে তুলবে দেশটির সরকারকে।
গত সোমবার ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কোনও শর্ত ছাড়াই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানি পারমাণবিক চুক্তিটি আবার মেনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। হামিদ আবুতালেবি নামের রুহানির ওই উপদেষ্টা টুইটারে লিখেছেন, ‘ইরানের জাতীয় অধিকারকে সম্মান দেওয়া , শত্রæতা কমানো ও পরমাণু চুক্তিতে ফিরে আসার মধ্য দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠানের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।’