ইরাকে ‘আবার জেগে উঠছে’ আইএস

14

ইরাকে নিয়ন্ত্রণ হারানোর দুই বছরের মাথায় আবারও দেশটিতে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) শক্তি সঞ্চয় করছে বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি। ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন লক্ষণ বিশ্লেষণ করে এবারের আইএসকে আগের চেয়ে শক্তিশালী ও বিপজ্জনক বলে ধারণা করছে তারা। সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কুর্দি ও পশ্চিমা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানায়, স¤প্রতি দেশটিতে আইএসের হামলা বেড়ে চলেছে। ইরাকের উত্তরাঞ্চলে পাহাড়ঘেরা কুর্দিস্তানের সুলাইমানিয়া ঘাঁটিতে কর্মরত লাহুর তালেবানি। কুর্দিস্তানের জানইয়ারি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান তিনি। এ কর্মকর্তা জানান, এখনকার আইএস আল কায়েদার চেয়ে দক্ষ ও বিপজ্জনক।
‘তাদের প্রযুক্তি ও কৌশল আরো উন্নত।
এছাড়া বর্তমানে আরো অনেক বেশি অর্থের যোগান রয়েছে তাদের। তা দিয়ে সহজেই তারা অস্ত্র, যানবাহন, খাদ্য ও যন্ত্রপাতি কিনতে সক্ষম। ফলে তাদের নির্মূল করা আরো কঠিন। এই আইএসকে বলা চলে স্টেরয়েড নিয়ে শক্তিশালী এক আল কায়েদা।’ তালেবানি জানান, আইএস খেলাফত পতনের পর গত এক বছরে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন নিজেদের পুনর্গঠিত করেছে। ‘আমরা খেয়াল করছি স¤প্রতি তাদের কর্মতৎপরতা বেড়েছে। মনে হচ্ছে তারা পুনর্গঠন পর্যায় অতিক্রম করেছে।’
বর্তমানে ভিন্ন ধারার আইএসের উত্থান হচ্ছে। যাতে শত্রুপক্ষের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হতে না হয়, সে জন্য তারা আর আগের মতো বিশেষ কোনো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহী নয়। বরং এরা পূর্বসূরি আল কায়েদার মতো ইরাকের হামরিন পার্বত্য অঞ্চলে আত্মগোপনে থাকছে। তালেবানি বলেন, ‘এই মুহূর্তে হামরিন পার্বত্য অঞ্চলই আইএসের কেন্দ্র। হামরিন দীর্ঘ এক পার্বত্য এলাকা। ইরাকি সেনাবাহিনীর জন্য এ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। এ অঞ্চলে প্রচুর গুহা ও গোপন আস্তানা রয়েছে।’ এদিকে বর্তমানে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে চলমান অস্থিতিশীলতাও আইএসকে পুষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন লাহুর তালেবানি। তারা এ অঞ্চলের সংখ্যালঘু সুন্নি মুসলিমদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা তার। এটি ইরাকে এক পরচিত ও রক্তক্ষয়ী কৌশল।