ইটিপি অকার্যকর রেখে উৎপাদন এশিয়ান পেপার মিলকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা

হাটহাজারী প্রতিনিধি

10

হাটহাজারীর এশিয়ান পেপার মিলের ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) বা তরল বর্জ্য শোধনাগারটি অকার্যকর রেখে উৎপাদন অব্যাহত রাখার দায়ে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ে শুনানি শেষে এশিয়ান পেপার মিলকে এ জরিমানা করেন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসাইন। এছাড়া মিলের তরল বর্জ্য শোধনাগারটি আগামী এক মাসের মধ্যে কার্যকর করার অঙ্গিকারনামা প্রদানেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মিলের বিষাক্ত তরল বর্জ্য পাশের মরা ছড়া দিয়ে ডোমখালি খাল হয়ে হালদা নদীতে পড়ছে। এতে হালদার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। বর্জ্য শোধনাগারটি অকার্যকর রেখে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। যখন ভারী বৃষ্টিপাত হয়, তখন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে বিষাক্ত বর্জ্য ছড়ায় ছেড়ে দেয়।
গত ৩০ মে দুপুরে সত্তারঘাটে হালদার উভয় তীর সংরক্ষণ প্রকল্প পরিদর্শন এবং স্থানীয় ব্যক্তি ও পোনা সংগ্রহকারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, অতিরিক্ত সচিব রোকন উদ্দৌলাহকে এশিয়ান পেপার মিলের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন।
এছাড়া একই মাসে এশিয়ান পেপার মিল পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়জ্জম হোসাইন। এ সময় তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করে, তা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় পরিবেশ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তাদের কাছে প্রতীয়মান হয়, কর্তৃপক্ষ তরল বর্জ্য শোধনাগারটি অকার্যকর রেখে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। পরে তাদের গতকাল সোমবার শুনানিতে হাজির হতে নোটিশ দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মোয়াজ্জেম হোসাইন জানান, তরল বর্জ্য শোধনাগারটি অকার্যকর রেখে এশিয়ান পেপার মিল কর্তৃপক্ষ উৎপাদন অব্যাহত রাখায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া এক মাসের মধ্যে শোধনাগার চালু করার অঙ্গীকারনামা প্রদানেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কার্যকর করা যাবে না- এমন দাবী করে এশিয়ান পেপার মিলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী আর এন চৌধুরী জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করব। তাদের এসব শর্ত মানতে হলে কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে। যদিও ২০১৮ সাল থেকে পরিবেশের শর্র্ত মেনে শতভাগ জিরো ডিসচার্জ এ কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। তিনি আরও জানান, শর্ত পূরণ করতে আমাদের কমপক্ষে ৬ মাস সময় লাগবে।