তারুণ্যের ভাবনা

ইচ্ছাশক্তি দিয়েই পৃথিবী জয় করা যায়

মোহাম্মদ আতিকুর রহমান

10

সৃষ্টির শুরু মাত্র একটা পরমাণু থেকে। যাকে চৎরসবাধষধ ধঃড়স বা আদি পরমাণু বলে। তেমনি একটা কোষ থেকেই মানুষ বৃদ্ধি লাভ করে। ১০ মাস ১০ দিনের অন্ধকার ঘর থেকে আলোময় এক পৃথিবীতে জন্ম নেয় শিশু। আর সেই শিশুর ১ম অভিভাবক তার মা। সে তার মায়ের কাছ থেকে প্রথম যে শব্দটি শুনে ‘মা’ ডাক। এ মা ডাক থেকে সে সকল শব্দ এক সময় শিখে ফেলে। শব্দ যোজন করে একসময় কথা বলে। পরিপক্বতা লাভ করে তার মাতৃভাষায়। কোনো দেশে এমন কোনো শিশু পাওয়া যাবে না, যে তার মাতৃভাষা ভালো যানে না। অভ্যাসের মাধ্যমেই তার অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়, সে অভ্যাসেই তার কর্মের বিকাশ ঘটিয়ে তাকে সে সে কর্মে অভ্যস্ত করে তোলে। শিশুকালের প্রথম দিকের সময়টা কত অজানা থাকে আমাদের কাছে। ভাবিত হয় না। কখনোই কীভাবে হলো। ধীরে ধীরে শুরু হয় প্রত্যেকের জীবনে অজানাকে উদ্ভাবন করা। কথা কাজে কর্মে তার প্রতিফলন দেখতে পায়। ক্ষুদ্র কাজে কর্মে শিখতে হয় বড় অভিজ্ঞতা। এগিয়ে চলে যেন জীবনের মুহূর্তগুলো। সে মুহূর্তে কিছুটা সুখের আবার কিছুটা দুঃখের। এভাবে যেন সুখ দুঃখের ছড়া রচনা করে সারা জীবন ধরে। জীবনের পাতায় যুক্ত হতে থাকে প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা একসময় পা দিয়ে চলতে শেখে আকাশে উড়তে শিখি। সময়ে সময়ে রচনা করতে থাকি, সফলতা, অসফলতার কর্ম মানুষ জীবনে বেশিরভাগ সময় অসফল হলে ও অসফলতার কিছু না কিছু মূল্য আছে। কারণ মানুষ কোন কর্মে কখনো ১০০% সফল ও ১০০% বিফল হতে পারে না। তাই অসফলতার মাঝে লুকিয়ে যাকে সফলতা, অর্থাৎ মানুষ কোনো কর্মে অসফল হলেও সে কিছু না কিছু সফলতা অর্জন করে। কিন্তু অসফলতার পরিমাণ বেশি হয় বলে মাঝে মাঝে আমরা ব্যর্থ হয়ে যাই। কখনো কখনো আমরা সে অসফলতার কিছু সফলতা বুঝতে পারি। যা একসময় আমাদের বড় সফলতা অর্জনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উদাহরণ দিলে পৃথিবীর ১ম বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারক টমাস এডিসন যখন বাল্ব তৈরি করতে ব্যস্ত তখন তিনি দেখলেন তার বাতিটির ক্যাথোড প্রান্ত বার বার পুড়ে যাচ্ছিল। তিনি এর কারণ বুঝতে পারেন এবং একটি নিরপেক্ষ প্লেট সিল করে ঢুকিয়ে দিলেন। ফলে বাতিটি আগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাই এ অভিজ্ঞতা থেকেই বলা যায় অসফলতার মধ্যে সফলতা লুকিয়ে থাকে। আমাদের কাজ শুরু সে সফলতাটুকু খুঁজে বের করা। তাই দৃষ্টি দিয়ে দেখার চেয়ে অন্তর দিয়ে দেখা খুবই জরুরি। তাহলে আমরা সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারব। একজন মানুষ নিজেকে নিজের শিক্ষক মনে করে শিক্ষা দান করলে সেও প্রকৃত শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে। তাইতো কবি বলেছেন সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। ইতিহাসের পাতায় দেখা যায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া অনেক মানুষ নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। আসলে প্রত্যেক কাজের অনেক উপায় থাকে। তাই বলা হয়ে থাকে ইচ্ছা থাকিলে উপায় হয়। ইচ্ছাশক্তি দিয়েও পৃথিবী জয় সম্ভব। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ স্টিফেন হকিং। মানুষ যদিও অনেক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে কিন্তু কোনো কোনো দিকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। মানুষ ধ্বংস করে চলেছে গাছপালা, জীববৈচিত্র্য, ওজোন স্তরের ক্ষয়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আসলে আমরা দুটি জগতের সাথে পরিচিত একটি ভৌত জগৎ, অপরটি মনোজগৎ। আমরা যা কিছু দেখছি ও পরিমাপ করতে পারছি তাই ভৌত জগৎ। আর যা আমাদের কাছে অদৃশ্য তা মনোজগৎ। সেগুলো হলো আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসা, আবেগ, অনুপ্রেরণা ও মনোবলসহ অনেক কিছু। এই দুই জগতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনোজগৎ। তাই মনোজগতকে বড় না করলে বস্তুজগৎ আমাদের কোনো কাজে আসবে না। ভৌতজগৎ তথা প্রকৃতি নিজস্ব নিয়ম মেনে চলে। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, আবার চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে। অভিকর্ষের ফলে গাছ থেকে আম পড়ে যায়, উল্কা ও ধূমকেতু মাঝে-মধ্যে ভেসে উঠে। বাস্তবতার মাঝেও অবাস্তবতা বাস করে, তেমনি অজানাও জানার মাঝে। আমার এসব কথার উদ্দেশ্যে হলো আমরা যে দিকটা বড় করে দেখব, সে দিকটা সবচেয়ে ভালো চিনব। বলতে গেলে মানুষের মনুষ্যত্ব মানুষের সৃজনীতে, উদ্ভাবনে, চিন্তায়, ইচ্ছায় ও অভ্যস্ততায়। মানুষের জীবনের কয়েকটি ধাপ আছে বাল্যকাল, কৈশোরকাল, যৌবনকাল ও বৃদ্ধকাল। এ সবকয়টি ধাপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তারুণ্য। যা আমাদের জীবনের মাঝামাঝি। আসলে এই ধাপগুলো যেন কিছু সময় পর হাত মিলিয়ে বৃদ্ধাবস্থায় পৌঁছায়। সামনে আগত যৌবনকাল কেমন হবে তা নির্ভর করে তারুণ্যের উপর। জীবনের প্রতিপি ধাপে একটির সাথে আরেকটির সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং একটিকে বাদ দিয়ে অন্য ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই জীবনচলার পথে জীবনের প্রক্রিয়া জানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানুষের জীবনকে নদীর স্রোতের সাথে তুলনা করেছেন, মোতাহার হোসেন চৌধুরী জীবন ও বৃক্ষ প্রবন্ধে লিখেছেন বৃক্ষের জীবনের উপলব্ধি ও বিকাশকে উপলব্ধি করার দরকার। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে মনুষ্যত্বের প্রকৃত শিক্ষা রয়েছে আমাদের প্রকৃতিতে। সে জন্য কাগজ-কলমে মনুষ্যত্ব শিখার প্রয়োজন নেই। কারণ মানুষের আত্মা, আর প্রকৃতির মেলবন্ধন একই সূত্রে বাধা। মানুষের জীবনে অভিজ্ঞতার শেষ নেই। কিন্তু তাই বলে অভিজ্ঞতা আমাদের পিছু ছাড়ে না। কিছু মানুষের কর্মনির্ভর করে তার চিন্তায়, অভিজ্ঞতায়, বুদ্ধিতে। তাই সমাজের মানুষে তৈরি হয় বৈচিত্র্যতা। আর এ বৈচিত্র্যতাই যেন মানব সমাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। কোনো কর্মে সফলতার প্রথম ধাপ সঠিক দিক নির্দেশনা। উদাহরণ আমার সামনে, আমি যেই লেখাটি লেখছি তা যদি সঠিক দিক সহযোগে না রাখি তাহলে তা সম্পন্ন করতে পারব না। তাছাড়াও অধ্যবসায়, অভ্যাস, পরিশ্রম ও সফলতার সন্ধান দিতে পারে। কিছু সামান্য ব্যাপারই পারে মানুষের জীবনকে বদলে দিতে। তাই যারা সামান্যকে সামান্য মনে করেননা। তারাই এর রস বুঝতে পারবেন। আবার একটা ভুলও পারে বড় সাফল্য অর্জনের পথ ছিটকে দিতে। তাই সফলতা অর্জনের সাথে সতর্কতা অত্যন্ত প্রয়োজন। জটিল বাক্যকে সাধারণ বাক্যে পরিণত করতে পারাটাই সত্যিকার অর্থে বুদ্ধিমত্তা। তাই কাজে-কর্মে জটিল সমস্যার সমাধান সাধারণ বাক্যেও করা সম্ভব। মানুষের চাহিদা অনেক, কিন্তু প্রাপ্তি বিন্দুমাত্র। এই প্রাপ্তি বিন্দু পরিমাণ হলেও এর বিশেষ মূল্য থাকে। যে একে মূল্য দিতে জানে সেই একসময় বড় হয়ে থাকে।
তাই প্রকৃতপক্ষে কোন কর্মই ছোট নয়। আমাদের দেখাতে ছোট মনে করি বলেই তা পরিপক্ব হয় না। এমন অনেক অভিজ্ঞতার কথা শুনতে পাওয়া যায় জীবনে যে অনেকে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কবুতর পালন করে ভিটেমাটি তৈরি করেছেন। উপরোক্ত কথার উদাহরণ এছাড়া আর কি হতে পারে। একজন মানুষ নিজেরই প্রেরণাদায়ক হতে পারেন, ফলে তাকে অন্যের প্রেরণার উপর নির্ভরশীল হতে হয় না। যেমন, মানিক বন্দোপাধ্যায় মাত্র ২০ বছর বয়সে আতশিমামী লিখে খ্যাতি অর্জন করেছেন। যা তার অন্যান্য রচনার প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই বড় হওয়ার জন্য প্রেরণা দরকার। আমাদের প্রেরণাই হলো আমাদের কাজ কর্ম। কিন্তু আমরা আমাদের কাজ কর্মকে ছোট করে দেখি বলেই তার প্রেরণা শূন্য হয়ে যায়। জীবনের অভিজ্ঞতা কখনো শেষ হওয়ার নয়। কিন্তু সবকিছুরই একটা পরিসমাপ্তি আছে। কিন্তু সেই পরিসমাপ্তির মাঝেই অমরতা লুকিয়ে থাকে। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কর্ম সাধন করা। সে কর্ম শুধু শরীরের নয়, মনেরও বটে। বলতে গেলে পৃথিবীর অস্তিত্ব ততদিন থাকবে যতদিন সে তার প্রতিদিনের নিয়ম মেনে চলবে।

লেখক : শিক্ষার্থী

প্রসঙ্গ : তরুণ ভোটার

মুহাম্মদ তাফহীমুল ইসলাম
দেশজুড়ে চলছে এখন নির্বাচনের আমেজ। আগে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে নানা ধরনের শর্ত দিলেও শেষ পর্যায়ে সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বললেও তফসিল ঘোষণার নির্বাচনে অংশগ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপিও খালেদা %A