ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির অপেক্ষায় জব্বারের বলীখেলা

11

জব্বারের বলিখেলা। শতবর্ষী পুরানো চট্টগ্রামের সার্বজনীন এক উৎসবের নাম। বাংলা পঞ্জিকার বৈশাখ মাসের ১২ তারিখে প্রতি বছরই ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে এই আয়োজন করা হয়। খেলাকে ঘিরে লালদিঘী মাঠের আশপাশের সব এলাকাজুড়ে বসে বৈশাখি মেলা।
তবে আসল সংবাদ হলো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, জামদানি, বাউল গান, মঙ্গল শোভাযাত্রার পথ ধরে চট্টগ্রামের শতবর্ষী এই খেলাকে বিশ্ব ঐতিহ্য করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর কাছে এই বিষয়ে আবেদন করতে যাচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
এছাড়া চলতি বছর থেকে বলিখেলা আয়োজনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ও সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলিখেলার আয়োজকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন।
এ বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মূল বিষয় ছিল বলিখেলা বা কুস্তি প্রতিযোগিতা। কিন্তু ১১০ বছর পার করে এখন আমরা কি দেখছি ? বলিখেলা বা কুস্তির প্র্যাকটিস সেভাবে হচ্ছে না। মেলাটাই বড় হয়ে গেছে। আমরা এই ঐতিহ্যটাকে ধরে রাখতে চাই এবং আরও চাঙ্গা করতে চাই।
‘ইউনেস্কোতে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাবার জন্য আবেদন করা হবে। এছাড়া আমরা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। আব্দুর জব্বারের উত্তরাধিকার এবং আয়োজক কমিটির সভাপতিকে মন্ত্রণালয়ে আসতে বলেছি। উনাদের সঙ্গে কথা বলে করণীয় ঠিক করব। ’
জব্বারের বলিখেলার ইতিহাস বেশ প্রাচীন। ১৩১৬ বঙ্গাব্দের ১২ বৈশাখ। গ্রেগরিয়ান হিসাব মতে সনটি ছিল ১৯০৯। চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এক কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন বেগবান করতেই তিনি এ খেলার সূচনা করেছিলেন বলে জানা যায়।
বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ আর বাঙালি যুবকদের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলা এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আবদুল জব্বার এ বলিখেলার প্রবর্তন করেন। তার মৃত্যুর পরে এ খেলা পরিচিতি পায় জব্বারের বলিখেলা নামে। সেই থেকে প্রতি বছর একই তারিখে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী এ বলিখেলা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মানুষ একত্রিত হন অন্যতম এ সামজিক উৎসবে। আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে মেলা।