ব ই আ লো চ না

ইউনুস আহমেদ-এর লেখা ছোট্ট বন্ধুদের গল্প সংকলন

পিচ্চি অ্যালিয়েনের কান্ড

মোহাম্মদ অংকন

8

ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা শিশু-কিশোর। ঠিক মনের মতো করেই, তোমাদের মানসিকতা নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ইউনুস আহমেদ ‘পিচ্চি অ্যালিয়েনের কান্ড’ শিরোনামে একটি গল্প সংকলন রচনা করেছেন। জানো তো, গল্পগুলো যখন পড়ছিলাম, তখন আমি ভাবছিলাম, লেখক একজন শিক্ষক হওয়ার কারণে শিশু-কিশোরদের সাথে মেলামেশার সুযোগ পায় বলেই এত নিগুঢ়ভাবে গল্পগুলো তৈরি করতে পেরেছেন। তোমরা যারা গল্পগুলো পড়বে, তারা ভাববে- এতো আমাদের নিয়ে লেখা। সত্যিই, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর আবহে লেখা গল্পগুলো ছোট্ট বন্ধুদের মন ছুঁয়ে যাবে।
‘পিচ্চি অ্যালিয়েনের কান্ড’ গল্প সংকলনটিতে মোট সাতটি গল্প স্থান পেয়েছে। সংকলনটির নামকরণের গল্প দিয়েই লেখক গল্প বলা শুরু করেছেন। শ্রেণির সবচেয়ে অলস ছাত্র হল রাহান। রাহানকে নিয়েই যত কল্পনা-জল্পনার সূত্রপাত। বটগাছের ওপর ঝাপ্পাস করে একদিন একদল পিচ্চি অ্যালিয়েন পড়ল। তারপর তারা ঢুকে গেল রাহানের স্কুল ব্যাগে। এরপর যত অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে লাগল। সবচেয়ে মজার কাহিনী হল, শ্রেণির অলস রাহান ধীরে ধীরে ভাল ছাত্র হয়ে উঠল। কী করে এমনটা সম্ভব হলো, সে আছে আরেক মজার কাহিনী। পুরো গল্পটি তোমরা পড়তে পারলে, হয়তো তোমাদেরও ইচ্ছা জাগত অ্যালিয়েনের কন্ড-কারখানায় কিভাবে ভাল ছাত্র হয়ে উঠা যায়। ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা কি মজার গল্পটি পড়তে চাও না?
ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদেরকে সংকলনটির দ্বিতীয় গল্প প্রসঙ্গে বলা যাক। সে গল্পটির নাম যেমন অদ্ভুত, তেমনি গল্পের কাহিনীও অদ্ভুত। ‘ট্রাইটানের প্রান্তরে’। প্রথম শুনলে বুঝি? একবার ইউরিককে আটক করে ভিনগ্রহ টুাইটানের প্রান্তরে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হল। একা ইউরিক সেখানে ঘুরে বেড়াতে লাগল। ট্রাইটানের অদ্ভুত জীবরা ওকে নিয়ে গবেষণাগারে গিনিপিগ বানাতে চাইল। আহ! কি বিপদ। ইউরিক কি সেখান থেকে মুক্ত হতে পেরেছিল? জানতে খুব আগ্রহ হচ্ছে না? সত্যই গল্পটি অদ্ভুত ধাঁচের। একটু পড়ে ফেলে রাখলে তার উত্তর মিলবে না। তোমরা কখনও বিপদে পড়লে কি কি উপায় বের কর? ইউরিক কি সেসব উপায় জানত?
জানি, তোমরা পাঠ্য বই পড়ার পাশাপাশি গল্পের বই পড়ে উঠতে সময় পাও না। তবে ‘পিচ্চি অ্যালিয়েনের কাÐ’ সংকলনটি না পড়লে কত কি যে মিস করবে তার ইয়াত্তা নেই! সংকলনটির তৃতীয় গল্পের কথা বলা যাক। ‘জঙ্গলের দানব’। ভয় পেলে না কি তোমরা? ভয় পেওনা, সে অনেক অতীতের কথা। নগর থেকে গরীব মানুষদেরকে ট্রাকে করে গভীর জঙ্গলে ফেলে আসা হতো। সেখানে বন্য প্রাণীর খাবার হয়ে তারা শেষ হয়ে যেত। আর কোনো দিন ফিরতে পারত না। সেখানকার নগরপিতা ছিল মার্টিন। তার ইচ্ছাতেই এমনটা হতো। তবে গরীবদেরকে বাঁচাবে কে? তাই তোমাদের মত কিশোর রিকি শিকারী দলের সাথে একদিন জঙ্গলে ঢুকে পড়ল। হেবুকা নামক ভয়াল এক হিংস্র প্রাণী হঠাৎ তাকে আক্রমণ করে বসল। এখন তাকে বাঁচায় কে? গরীবদের বাঁচাতে গিয়ে তোমাদের বন্ধু রিকিও বিপদগ্রস্থ! এবার রিকি’র কি হবে?
এবার ‘টিয়না ও টুডু’ নামক গল্পের কথা বলা যাক। দুরন্ত আর সাহসী এক মেয়ের নাম হল টিয়না। মেধাবী টিয়ানা ছোট্ট বয়সেই কথা কলা বাহন ‘টুডু’ আবিষ্কার করে ফেলে। তারপর ওরা দারুণ সব কান্ড-কারখানা করতে থাকে। যন্ত্র ‘টুডু’ মানুষের মত কথা বলতে পারত, সুখ, দুঃখ বুঝতে পারত। তাই টিয়ানা টুডুকে নিয়ে সারাক্ষণ মেতে থাকত। ‘টুডু’ যেন ওর বন্ধু। ছোট্ট বন্ধুরা, এমন একটা বন্ধু তোমাদের হলে কি করতে? ধারণা পাচ্ছ না। তাহলে তো তোমাদেরকে ‘টিয়ানা ও টুডু’র গল্প পড়তেই হবে। শুধু ‘টিয়ানা ও টুডু’ পড়লেই হবে? গ্রন্থটিতে আরও মজার গল্প রয়েছে। যেমন ‘টিংকুর সুপার সাইকেল’। তোমাদের নিশ্চয়ই অনেকের সাইকেল আছে। তবে সেটা কি টিংকুর সাইকেলের মত সুপার? না, মনে হয় না। শুনতে চাও সে সুপার সাইকেলের গল্প? প্রায়ই মুখ ভার করে মাঠের পাশে বসে থাকতো টিংকু। সমবয়সী ছেলেমেয়েরা সাইকেল চালাত আর ও দেখত। ভাবত, যদি আমার একটি সাইকেল থাকত! একদিন সত্যই সে সাইকেল পেল। কিভাবে জানো? একদিন বনের ভেতর পেয়ে যায় অদ্ভুত সাইকেল। ভিনগ্রহের সাইকেল! সুপার তো হবেই। তারপর ঘটতে থাকে অদ্ভুত ঘটনা। ঐ সাইকেল নিয়ে রেস করে প্রতিবার জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় টিংকু।
ছোট্ট বন্ধুরা, সংকলনটিতে আরও দু’টি চমৎকার গল্প রয়েছে। ‘নেবুরা গ্রহের নাহিনা’ ও ‘ট্রাইফিফটি ওয়ান’। অন্য গল্পগুলোর মত এ দুটোও মজার গল্প। থাক, আজ আর তেমন কিছু বলছি না। আমি হাঁপিয়ে উঠেছি। তোমরা জেনেছ, ইউনুস আহমেদ একজন শিক্ষক। বুঝতে পারছ কিছু? শুধুমাত্র তোমাদের মনকে প্রফুল্ল করতে ও পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটাতে তিনি এত সুন্দর সুন্দর গল্প দিয়ে বইটি সাজিয়েছেন। আশা করছি, তোমাদের প্রত্যেকের কাছেই গল্পগুলো ভাল লাগবে। সে প্রত্যাশায় আজ শেষ করছি।
পিচ্চি অ্যালিয়েনের কাÐ। লেখকঃ ইউনুস আহমেদ। প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি ২০১৮। সপ্তডিঙা প্রকাশনী, মূল্য: ১০০ টাকা।