সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন

আ.লীগ-বিএনপিসহ তিন প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল

শহিদুল ইসলাম বাবর, সাতাকানিয়া

14

আগামী ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম জমাদানের শেষ দিনে গতকাল আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে চেয়ারম্যান পদে মোট তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আর ভাইস-চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস-চেয়ারম্যান পদে জমা দিয়েছেন মোট ১২ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার এসব মনোনয়নপত্র জমা দেন তারা। মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব সিআইপি, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাতকানিয়া বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোনায়েম মুন্না চৌধুরী।
বিগত কয়েক যুগ ধরে জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাতকানিয়ায় এবারের উপজেলা নির্বাচনে দলটির কোনো প্রার্থী নেই। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেওয়া হয়নি বলে একাধিক জামায়াত নেতা নিশ্চিত করলেও তারা কেউই নাম প্রকাশ করতে চাননি। এর আগের নির্বাচনে কারাগারে আটক থাকাবস্থায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। ভাইস চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছিল জামায়াত সমর্থিতরা।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সিকদার, উপজেলা বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সালাউদ্দীন হাসান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মো. আছিফুর রহমান, নগর বিএনপির সদস্য বশির আহম্মেদ, উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি লুৎফুর রহমান, মো. জসিম উদ্দীন ও মো. ওমর ফারুক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতকানিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনজুমান আরা বেগম, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জান্নাতুল নাঈম রিকু, সাতকানিয়া পৌরসভা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিকু আরা বেগম ও তারান্নুম আয়েশা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জামাদানের সময় দলটির দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি এম ইদ্রিস, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মিনহাজুর রহমানসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিএনপিদলীয় প্রার্থী মনোনয়ন জমাদানের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এহছানুল মৌলা, সাবেক কাউন্সিলর নবাব মিয়া, যুবদল নেতা মোজাম্মেল হক, সেফায়েত উল্লাহ চক্ষুসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় বিএনপি প্রার্থীর :
আসন্ন সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মনোনয়নপত্র জমাদান শেষে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংশয় প্রকাশ করেন। স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আজকে মাত্র মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন। এই দিনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে শো-ডাউন করে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি করা হয়েছে। কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে গুরু জবাই করে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। এটি নির্বাচনী আচরণ বিধির লঙ্ঘন। এভাবে চলতে থাকলে সাম্প্রতিক দিনগুলোর মতো সাতকানিয়ার এই নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। নির্বাচনী আইন ও নীতি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনের প্রতি প্রার্থী ও ভোটারদের চলমান অনাগ্রহ বেড়ে যাবে।
শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল। এ দলের প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ নির্বাচনের শেষ সময় পর্যন্ত মাঠে থাকবো।
সংবাদ সম্মেলনে সাতকানিয়া বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি হাজি মোহাম্মদ রফিকুল আলম, সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক, উপজেলার সভাপতি সেফায়েত উল্লাহ চক্ষুসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শেখ ফরিদ জানিয়েছেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে ১ জন করে, স্বতন্ত্র হিসেবে ১ জনসহ মোট ৩ জন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ তিনি এখনো পাননি বলে জানান। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।