কূটনীতিকদের জানালেন নেতারা

আ.লীগ নির্বাচনে বিএনপিকে চায়

পূর্বদেশ ডেস্ক

23

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে চায় বলে কূটনীতিকদের জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। কূটনীতিকদের তারা জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন যথারীতি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। আর সরকারও সর্বাত্মক সহযোগিতাও করছে। সোমবার (২৮ মে) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ৩৩টি দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, এমন একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মতবিনিময় সভায় অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডসহ প্রায় ১২টি দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্য দেশের প্রতিনিধিরা ছিলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বøুম বার্নিকাট বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত দেশে না থাকায়, তিনিও বৈঠকে ছিলেন না। তবে তাদের প্রতিনিধি ছিলেন। সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অ্যাম্বাসেডর জমির, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মণি, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, উপ দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। খবর বাংলা ট্রিবিউনের
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা ও মাদকবিরোধী অভিযান, তথ্য অধিকার আইন ও আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে জানতে চেয়েছেন কূটনীতিকরা। নির্বাচন জোটগতভাবে হবে না পৃথক হবে তাও জানতে চেয়েছেন তারা। জবাবে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, আমাদের একটি জোট হলো আদর্শিক জোট, ১৪ দলীয় জোট। অন্যটি ভোটের জোট। সেটি জাতীয় পার্টির সঙ্গে। আদর্শিক জোট থাকবে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট থাকবে কিনা, সে সম্পর্কে এখনই বলা যাবে না।
মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, এটা নিয়মিত অভিযান। দুই হাজারের মতো মাদক ব্যবসায়ীকে আটক-গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যও আহত হয়েছেন।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের বিষয় জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, এখানে সব দলই অংশ নেবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব, এখানে সরকারের কিছুই করার নেই।
কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের পর্যবেক্ষণ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই, এসব অভিযোগ পুরনো বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল।
এ সময় নির্বাচনি সহিংসতা নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলেই নির্বাচনে কেবল সহিংসতা হয়।’ তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সহিংসতা তুলে ধরেন। এ সময় বিএনপি যে একটি দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী সংগঠন তার পক্ষে দালিলিক তথ্য-উপাত্ত কূটনীতিকদের হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।