আ-ই ওয়াশ

আবদুল হাই

79

মাউত ওয়াশ, হ্যান্ড ওয়াশ, লেগ ওয়াশ, বডি ওয়াশ এসব ওয়াশের পাশাপাশি আ-ই ওয়াশ, আর একটি শব্দযুক্ত হয়েছে অভিধানের মধ্যে। এই আ-ই ওয়াশ বিষয়ে তন্ময়তা সৃষ্টির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশের জন্য আমার লেখা। চাকরির দরখাস্ত আহবান করা হয়েছে, সংগে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা সনদপত্র। দরখাস্তকারী অভিজ্ঞতার জায়গাতে লিখেছেন ১২০। ইন্টারভিউ গ্রহণকারী অভিজ্ঞতার স্থানে ১২০ দেখে আগ্রান্বিত হয়ে তাকে ইন্টারভিউতে ডেকেছে। অভিজ্ঞতার স্থানে ১২০ দেখে প্রথম এ বিষয়ের ওপর প্রশ্ন ছুড়েন। অভিজ্ঞতা ১২০ এর অর্থটা কি বলবেন? আবেদনকারী বললো চাকরির জন্য ১২০বার আবেদন করেছি এটাই আমার অভিজ্ঞতা প্রশ্নকর্তা বলেন, আপনাকে কোন ধরনের প্রশ্ন করতে পারি? আবেদনকারী বলেন, আপনার যা ইচ্ছা। এবার প্রশ্নকর্তা বলেন, আকাশে তারা কয়টি? আবেদনকারী বলেন, আগ যতো ছিলো ততটা।
প্রশ্নকর্তা: আপনার সঠিক বয়স কত?
উত্তরদাতা: ৩ বছর যোগ ৩০ বছর।
প্রশ্নকর্তা:৩ বছর যোগ করলেন কেন?
উত্তরদাতা: স্কুলে ভর্তির সময় ৩ বছর কম বলেছিলাম তাই।
প্রশ্নকর্তা: এ দেশের জনসংখ্যা মারাত্মক রকমের বৃদ্ধি পাচ্ছে এ ব্যাপারে করণীয় কি বলে মনে করেন?
উত্তরদাতা : পুরুষকে পুুরুষ এবং মেয়েকে মেয়ে বিয়ে করালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবার আশঙ্কা নেই।
প্রশ্নকর্তা: যে বেপরোয়াভাবে আপনি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, আপনাকে মনে করেন, আপনি যোগ্য প্রার্থী হিসেবে চাকরি পেয়ে যাবেন।
উত্তরদাতা বলেন, না মোটেই না: এ সব কিছুতো আ-ই ওয়াশ বা চক্ষুধৌত।
আমার এক বন্ধু একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তারপর ও সৌভাগ্যক্রমে একটি প্রাইভেট স্কুলে চাকরি পেয়ে যান। তিনি আবার হেড টিচার। বয়সের চাপ আছে, পাকাচুলের অভিজ্ঞতার সাইনবোর্ড, কলপমাখা সুন্দর দাড়ি, চোখে কালো চশমা, বেশভ‚ষাতে চোখে লাগার মতো। এককালে নটার্ডেম কলেজে শিক্ষক। স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষহস্ত, অবশ্য স্কুলের মালিক তাকে সমীহ করে বাক্যালাপ করেন। কারণ আমার বন্ধুটা ধরতে গেলে একজন তৈরি মানুষ। স্কুলে একবার দারুণ অর্থ সংকট উদ্ভব হয়। মালিক কিন্তু তড়িৎ বুদ্ধি পাকাতে ওস্তাদ। সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকায় আকর্ষণীয় বেতনে শিক্ষকের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়েন। প্রতি আবদেনকারীকে দরখাস্তের সঙ্গে দিতে হবে ১০০’র টাকার পে-অর্ডার। এভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদনকারী আবেদনপত্র সংযুক্তকৃত পে-অর্ডার সমেত জমা পড়ে। নির্ধারিত সময়ে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীদের কেউ কেউ পরীক্ষা ভালো হওয়ার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করে যার যার অবস্থানে ফিরে যায়। মালিক উত্তরপত্রের খাতাগুলো শক্ত করে গাঁট বেঁধে রেখে দিতে বলেন, স্কুলের এক পিয়নকে। খাতাগুলো দেখা হয়নি কাটা হয়নি। কে কত নম্বার পেয়েছে জানাও হয়নি, কে নিয়োগপ্রাপ্তি হচ্ছে তাও জানা যায়নি। শেষপর্যন্ত উচ্ছিষ্ট দ্রব্যে পরিণত হয়ে গেলো। পে অর্ডারগুলো যথারীতি ব্যাংকে জমা হলো। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। আমার বন্ধুর কাছে শ্রুত এ গল্পকাহিনী। এ কেই বলে আই-ওয়াশ বা চক্ষুধৌতকরণ প্রক্রিয়া।
এক মৌলানা সাহেব ওয়াজ মাহফিলে নসিহত করেন একে-লাখ। আপনি দান দখিনা করলেন এক টাকায় লাখ টাকা আসবে। কিভাবে আসবে বলতেই পারবে না মৌওলানা সাহেবের স্ত্রী দূরে অবস্থান করে এ নসিহত অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে হৃদয়ঙ্গম করে পরের দিন সকালে এক ভিখারিনীকে তার স্বর্ণের কানের দুল জোড়া দান করে দেয়। তার স্বামী ঘরে এসে দেখেন স্ত্রী কানের স্বর্ণের দুল নেই। অগত্যা জিজ্ঞেস করেন দুল জোড়া কি করেছো? স্ত্রী জবাব দেন ফকিরণীকে দান করে দিয়েছি। তুমি না বলেছো একে-লাখ জোটে। মৌওলানা বলেন, আহারে এটাতো আ-ই ওয়াশ। কথাটা বলেছিলাম গৃহস্থ যাতেআমার সেলামী বাড়িয়ে দেয়; তুমি এটি করলে?
বড় মাপের শহরের ক্লিনিকে গেলেন ২ বা তিনদিন পর রোগীর রিলিজ নিতে গেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে লম্বা একটা খসড়া বিল আপনার হাতে তুলে দিলেন। তা কমপক্ষে ৭০,০০-৮০,০০০ টাকা মধ্যে তো হবে। ডাক্তার ফি ১৫০০ টাকা + ভ্যাট ১৫০ টাকা, ঔষধ ১২০০ টাকা, ভ্যাট ১২০০ টাকা, অক্সিজেন ১৪০০ টাকা দৈনিক + ভ্যাট ১৪০ টাকা এভাবে প্রতিটা ক্ষেত্রে ১০% অধিক। এমনিতে সাধারণতঃ ডাক্তার ফি ৮০০ টাকার অধিক না সেক্ষেত্রে ৭০০ টাকা অধিক তার ওপর আবার ১৫০ টাকা। শুভঙ্করের ফাঁক-ফোকরে সেবার নামে রোগীর ওপর এমন ধরনের শোষণের মাধ্যমে বেপরোয়া রমরমা চিকিৎসা বাণিজ্য করে যাচ্ছে। তেনাদের ডাক দোহাই দেবার কেউ নেই, রোগীর পক্ষে কেউ চেঁচামেচি করলে ২-৩০০০ টাকা ডিসকাউন্ট দিয়ে সন্তুষ্ট করে দেয়। এ ধরনের আ-ই ওয়াশ অর্থাৎ কৈ মাছের তেল দিয়ে কৈ মাছ রন্ধন করে তা থেকে তেল বের করে সেই তেলে তরকারি পাক। বাজার থেকে মাছ কিনলেন নির্ঘাত তাতে কেজিতে ১-১৫০ গ্রাম মাছ কম দেবেই এরপর একু হাত তোলা। এটাও আ-ই ওয়াশ ঘরে গিয়ে মেপে দেখুন, দেখবেন ন্যূনতম পক্ষে ১০০ গ্রাম কম পেয়েছেন ঐ হাত তোলা অংশটা আ-ই ওয়াশ।
ফুটপাতে যাদু দেখাতে দেখাতে যাদুকর বললো এবার ‘দেখাবো ১টা টাকা মাটিতে পুঁতে দিলাম বীজ হিসেবে থেকে কিভাবে টাকার গাছ জন্মায় তা দেখবেন, ভাইয়েরা টাকা পয়সা থাকলে পকেট সাবধান করুন। যাদে টাকা পয়সা আছে তারা সাবধান হতে শুরু করে। এরাই পকেটমারের টারগেট হয়ে পড়ে অনায়াসে। এরপরে বলে ম্যাজিকটা শুরুর আগে আপনাদের কাছে দু’চারটি কথা বলবো, মন দিয়ে শুনুন। আপনার মা, আমার মা, আপনার বাবা, আমার বাবা, আপনার স্ত্রী, আমার স্ত্রী, আমার স্ত্রী, আমার স্ত্রী। দেখলাম এক ভদ্রলোক লোকমা ছুড়ে বলবো এই ব্যাটা আপনার স্ত্রী আমার স্ত্রী এটা কি বলছো? এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করলো আসলে ঐ ভদ্রলোক যে তার লোক পরে বুঝতে বাকী থাকলো না। দেখুন জনাব, আপনাদের জন্য আজ এমন একটা যাদুর ঔষধ এনেছি দীর্ঘদিন ধরে যারা আমবাত, জামবাত, গিরাবাত, ক্ষুদামন্দা, কৌষ্ঠকাঠিন্যতায় ভুগছেন, উঠলে বসতে পারেন না, বসলে উঠতে পারে না। চোখে ঝাপসা দেখেন, মাতা ঘোরাই, আজ পর্যন্ত অনেক ডাক্তার, কবিরাজ, হেকিম দেখিয়েছেন কাজের কাজ কিছুই হয়নি, বেয়াদপী নেবেন না আমার এই ঔষধ কামরুপ কামাইক্যার যাদুমন্ত্রে তৈরি, প্রতিটি ফাইলে দুটা ভরি আছে। খাঁটি যষ্টিমধু স্বর্ণসিন্দুর কামাচকো লৌহা জারণের সাথে খালি পেটে সকালে ১টা করে ২দিনে ২টা বড়ি খেয়ে ফেলবেন, আপনার শরীরে বৃদ্ধ বয়সে শক্তি আসবে। এ হাজার রকমের রোগের কাজ করে। প্রতি ফাইল ঔষধ ১০০ টাকা ক্রেতার সাড়া শব্দ নেই। হঠাৎ বলে ওঠে। দেখুন এডভেরটাইজ ও পাবলিসিটির খাতিরে ১০০ টাকাকে ২ ভাগ করলে হয় ৫০ টাকা, ৫০ টাকার অর্ধেক কত হয় একজন বলে ওঠে ২৫ টাকা। স্রেপ ২৫ টাকা, ২৫ টাকা, ২৫ টাকা। দরকার মনে করেন টাকা দেবেন ঔষধ আপনার হাতে পৌঁছে যাবে। লেকচার শেষ হলে দোহাই আল্লাহর, মাফ করবেন তখন ঔষধ বিক্রি বন্ধ। লাখ টাকা দিলেও ঔষধ পাবেন না। আমার মরা মা কবর থেকে উঠে এসে ঔষধ দিতে বললেও ক্ষমা করবেন জনাব। লোকজনের ভিড়ের মধ্যে তার নিজস্ব দু’চার জন ২৫ টাকা দিয়ে ঔষধের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়।
তখন যাদুঘরের স্প্রিট বৃদ্ধি পায়। এবার বলতে থাকেন, দেখুন, ভদ্র শিক্ষিত লোকদের বেশী বলার দরকার নেই। আক্কেল বা কা লিয়ে ইশরাশে কাফি। এদের দেখা দেখিতে আরো অন্য সাধারণ লোক ঔষধ পেতে হাত পাতে। বেশ ভালো রকমে ধান্ধা হয়ে গেলো। আস্তে আস্তে বাক্স পেটি বন্ধ করে যাত্রার পালা। টাকার গাছের যাদু দর্শন আর হয়নি। এটা ছিলো এক প্রকার আ-ই ওয়াশ।
হুমায়ুন আহমদ এর নাটকে মিয়ার ব্যাটা ছিলেন শক্তিমান অভিনেতা খলিল, তার চামচা ছিলেন হুমায়ুন ফরিদী, মিয়ার ব্যাটা তার চামচাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যেতেন এ ঘর ও ঘরে বিবিধ মতলবে ঘুরতেন। গৃইকর্তা কারো সাথে সাক্ষাৎ হলে মিয়ার ব্যাটা গম্ভীর কণ্ঠে বলতেন আরে আমি তো তোমাদের লোক…। তোমাদের ভালো-মন্দ দেখবাল করাতো আমার দায়িত্ব। এখানে এসেছি শুধু তোমাদের জন্য। চামচা গাঢ় নেড়ে তাল মিলাতেন। আসলে এসব কিছু হচ্ছে মিয়ার ব্যাটার আ-ই ওয়াশ।
এবারে রমজান মাসে রমজানে ইফতারি সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এলাকায় এলাকায় আ-ই ওয়াশের তেমন ঘাটতি হয়নি। দান-খয়রাত গোপনে করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তোষ্টি লাভ করা যায়। এটা হাদিসে বর্ণিত আছে। কিন্তু ইফতারসামগ্রী বণ্টনের এমন আনুষ্ঠানিকতার পেছনে নির্দিষ্ট কোন আ-ই ওয়াশ আছে। যার খোদাকে সেই জবাব দেবে। কারণ আসলে এ পৃথিবী একটা ক্ষণিকের নাট্যমঞ্চ।
হরিণ নামের প্রাণীটা সুদর্শন এবং আকর্ষণীয়ও বটে। হরিণের চাইতে আরো বেশি আকর্ষণীয় হচ্ছে সোনার হরিণ। আগেরকার দিনে ঘরের গৃহিণীরা হরিণের নকশাতে রেশমের সুতায় কাজ করে ঘরের দেয়ালে সুন্দর্য বর্ধণের জন্য স্থাপন করতো, তথায় লেখা থাকতে সোনার হরিণ কোন বনেতো থাকো? সোনার হরিণ শব্দদ্বয়ের মধ্যে একটা আলাদা মাহাত্ম্য আছে। সরকারি চাকরিকেই বলা হয়ে আসছে সোনার হরিণ (এড়ষফবহ উববৎ) একটা সরকারি চাকরি থাকলে সকালে শয্যা ত্যাগ করে বালিশের নিচে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে হয় না চাকরি আছে কিনা? না নট। নাকে তৈল দিয়ে নাক ঢেকে বিলম্ব যাবৎ শয্যায় শায়িত থাকা যায়। চাকরি স্থলে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে খাজুরি আলাপ। অত্যন্ত জরুরি ফাইলটা একদিকে তুয়ে চায়ের কাপে চুমু বা বাহারি ভঙ্গিমায় সিগারেট টান। এ করতে করতে সময় কাবার এরছাড়া আছে উপরি উৎকোচ, মাসের শেষে হ্যান্ডসাম মাসান্তে বেতন, বেতনভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বোনাস ইত্যাদি ইত্যাদি। সোনার হরিণ কোন বনেতে থাকো। সোনার হরিণের আবাসস্থল, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে শুল্ক কর্তৃপক্ষর অফিসে, আয়কর, ভ্যাট অফিসে নামি দামি সরকারি অফিসে যেসব আবাস স্থলে সোনার হরিণ পেতে আগাম চুক্তিতে আসতে হয়। সোনার হরিণ নিয়োগের জন্য পত্রিকাতে বিজ্ঞপ্তি প্রচারও হয়। প্রার্থীরা দলে দলে নিয়োগ পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের ভাগ্যে অশ্বডিম্ব ছাড়া কিছুই জুটে বলে মনে হয় না। এ নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন ও কর্মসূচি আ-ই র্ওয়াশ ছাড়া কিছুই মনে হয় না। আমাদের দেশে আ-ই ওয়াশ মাত্রা মাত্রারিক্তভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ আ-ই ওয়াশ হচ্ছে এক প্রকার প্রতারণা ও ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। তারপরও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ড. সলিমুল্লা খান টিভির পর্দায় স্বল্পউন্নয়ন বাংলাদেশকে কালো মেয়ের জায়গায় শ্যামলা মেয়ে বিশেষণ দিয়েছেন। এটা কুরুচিপূর্ণ, তিনি বলতে পারতেন শালাকে শালা না বলে বাইসাব বলা অনেকাংশে শোভনীয়।
বিয়ের একটি জায়ফর্দ প্রণীত হলো তাতে দেন মোহরের অংক চল্লিশ লক্ষ টাকা স্বর্ণালঙ্কার ৪০ ভরি বরপক্ষকে জিজ্ঞেস করি, দেন মোহর এর অংকটা আর স্বর্ণের পরিমাণ টাকা অত্যধিক হলো না। কি মনে করেন। বরপক্ষ আমাকে বললেন আরে ভাই এসবতো মজলিশের মানসম্মানের জন্য আ-ই ওয়াশ। মনে মনে বললাম এই আ-ই ওয়াশ যেমন কোন বিপদের কারণ না ঘটায়। যেকোন সামাজিক সংগঠন, ক্লাব, শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোতে কার্যনির্বাহী পদে লবিং, গ্রæপিং তো আছে তার উপর আছে আ-ই ওয়াশ। শেষমেষ কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্যে কাউন্সিলরদের জন্য সান্ত¡না পুরস্কারস্বরূপ বিরানী প্যাকেট এবং চটাং, চটাং বক্তব্য এরপর হুট করে কার্যনির্বাহী ব্যক্তিবর্গের নাম ঘোষিত হয়। তা পত্রিকার পাতায় ছবির মাধ্যমে স্থান পায়। এটাও আ-ই ওয়াশ। রাজনৈতিক দলে নির্বাচন পূর্বকালে মনোনয়ন বাণিজ্যের কথা ও এক আধটু শোনা যায়। তাও এক প্রকার আ-ই ওয়াশ। এ ধলনের প্রবণতা কুষ্ঠ রাজনীতি ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চলার পথে অন্তরায়। একটা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত মানুষদের সামনের কাতারে সুযোগ করে দেওয়া আবশ্যক। ছলে বলে কৌশলে যদি এদেরকে পেছনে ফেলে রাখা হয় তা হবে দেশের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আ-ই ওয়াশ এক প্রকাশ জঘন্য প্রতারণার নামান্তর। এতে সমাজে, রাষ্ট্রের দারুণ ক্ষতির কারণ হতে পারে। বর্তমানে মানুষের চোখ কান খোলা। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির যুগে কোন কিছু আড়াল রাখার সুযোগ নেই। এখন সবকিছুই উন্মুক্ত রহস্য। এখন ক্ষণিকের জন্য যেমন মানুষকে বোকা বানানোর সুযোগ নেই-তেমনি দীর্ঘকালীন সময়ে ও বোকা বানিয়ে রাখার পথ অবরুদ্ধ।

লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক