আসিয়ানসহ ১৬ দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি প্রত্যাখ্যান ভারতের

3

আসিয়ানসহ ১৬টি দেশের মধ্যে অবাধ বাণিজ্য চুক্তিতে (রিজিওনাল কম্প্রিহেনশন ইকোনমিক পার্টনারশিপ) যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। সোমবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আসিয়ানের এ সংক্রান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের স্বার্থে কোনও আপস করা হবে না। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য বিরোধের জেরে সম্মেলনে চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে চাপ দেয় বেইজিং।
তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘সব ভারতীয় নাগরিকের পক্ষে যখন আমি এই চুক্তির মূল্যায়ন করি, আমি কোনও ইতিবাচক উত্তর পাইনি। না গান্ধিজির আদর্শ, না আমার নিজের বিবেক! কেউই চুক্তির পক্ষে মত দেয়নি। ফলে জাতীয় স্বার্থে কোনও আপস নয়।’ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, দিল্লি পারস্পরিক সুবিধাযুক্ত চুক্তি চেয়েছে, যাতে ভারতও উপকৃত হয়। এরমধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার ও শুল্কের মতো বিষয়গুলো। দিল্লির দাবি, এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সস্তা দামের চীনা পণ্যে সয়লাব হয়ে যাবে ভারতের বাজার।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতকে বাদ দিয়েই একটি অস্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অবাধ বাণিজ্য চুক্তিতে যোগদানকারী ১৬টি দেশ। ২০২০ সাল নাগাদ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি, চুক্তিতে ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়নি। আমদানি বৃদ্ধি, বাণিজ্য ঘাটতি ও দেশীয় শিল্পকে বাঁচানোর মতো বিষয়গুলো নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন ভারত। সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের মর্যাদা না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে দিল্লি।
চুক্তি নিয়ে বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। তাদের উদ্বেগ, এর ফলে সস্তা চীনা পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যাবে। কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতে, ভারত ব্যাপক আর্থিক মন্দার মুখোমুখি। বিজেপির ছয় বছরের শাসনে ইতোমধ্যে ৯০ লাখ কর্মসংস্থান কমেছে। আরও বেশি করে বেকারত্ব বাড়াবে এই চুক্তি।
উল্লেখ্য, রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ হচ্ছে একগুচ্ছ চুক্তি। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিশ্বের ১৬টি দেশ। এই ১৬টি দেশের মধ্যে রয়েছে আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ এবং চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভারত। ভারত এবং ১৫টি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের নেতারা সোমবার থাইল্যান্ডে ‘আরসিইপি’ তৈরির ক্ষেত্রে সাত বছরের আলোচনার সফল সমাপ্তি ঘোষণা করবেন, এমনটাই আশা করা হয়েছিল।