আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি

11

করোনাভাইরাসের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিভিন্ন দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় লকডাউন এর কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন সংকটজনিত কারণে কোন কোন দেশ খাদ্য রপ্তানি করে থাকলেও দেশে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা বিবেচনা করে তারা বিদেশে খাদ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। সুতরাং কৃষি প্রধান এ দেশের কৃষি খাতকে আরো শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে দেশের খাদ্য সংকট মোকাবেলা করতে হবে আমাদের। পত্রিকান্তরে সরকারি নীতি নির্ধারকদের নানা মন্তব্য থেকে জানা যায় যে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য ও কৃষ্টি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ যতই উন্নতি করুক না কেন গণস্বাস্থ্যের নিশ্চিত সুরক্ষার মতো অবস্থা এখনো দেশের হয়ে উঠেনি। তাই স্বাস্থ্য সেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে অতীতে যে বরাদ্দ ছিল তাতে স্বাস্থ্য খাতকে সুরক্ষার পর্যায়ে রাখা সম্ভব নয়। আগামীতে এসব ক্ষেত্রে অর্থ বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর পক্ষে সরকার ও নীতি নির্ধারক মহল খুবই তৎপর। এদেশের স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। আমরা মনে করি বিশ্বের প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাতকে স্বাভাবিক রাখার জন্য স্বাস্থ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আরো বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করতে হবে। এদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের যে দুরাবস্থা লক্ষ করা যাচ্ছে তা কাটিয়ে হাসপাতাল গুলোকে সেবাদানের উপযোগী করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরো গভীর মনোযোগ দিতে হবে এমন ধারণা দেশের সর্বস্তরের মানুষের। বাংলাদেশ মূলত কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু ইদানীং শিল্প ও অন্যান্য খাতে গুরুত্ব বাড়ানোর কারণে কৃষিখাতে স্বয়ং সম্পূর্ণতা যতটুকু এসেছে তাতে দেশের খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় বিদেশ থেকে খাদ্য সামগ্রী আমদানী করতে হচ্ছে। দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্বেও পেঁয়াজ উৎপাদনে গুরুত্ব না বাড়ানোর কারণে পেঁয়াজ নিয়ে নিকট অতীতে দেশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, পেঁয়াজ, ইত্যাদি খাদ্যশস্য দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দিয়ে দেশের কৃষিখাতকে আরো শক্তিশালী করার প্রয়োজন।
করোনা ভাইরাস জনিত কারণে দেশের লকডাউন অবস্থা-শিথিল হলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করে দেশের ঘাটতি মোকাবেলা সম্ভব হবে বলে মনে করে না বিশেষজ্ঞরা। তাই দেশীয় উৎপাদনের উপর জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে আসন্ন সমস্যা মোকাবেলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিষয়টি সরকারি নীতি নির্ধারণী মহলকেও ভাবিয়ে তুলছে। এমতাবস্থায় কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ ছাড়া কোন বিকল্প নেই।
আগামী বাজেটে কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে গণস্বাস্থ্য স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের বর্তমান সংকট তথা করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় যেমন সরকারসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হচ্ছে তেমনি করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধ হলে যে সকল সংকট দেখা দিতে পারে এসব বিষয় বিবেচনা করে আগামী অর্থ বছরের বাজেট তৈরি করা প্রয়াজন বলে অর্থনীতিবিদদের অভিমত।