আসছে বর্ষা করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুও ঠেকাতেহবে

28

বর্ষা আমাদের দ্বারপ্রান্তে। বর্ষাকে সামনে রেখে কিছু ক্ষেত্রে জোরালো প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। বিশেষ করে মশককুলের বংশবৃদ্ধি, মশাবাহিত রোগবালাই, ডেঙ্গু ইত্যাদি থেকে প্রাণরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুতি নেয়ার উত্তম সময় এখনই। শীত চলে যাবার সাথে সাথে নগরীতে মশার উৎপাত ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তাই নাগরিক মাত্রেরই প্রত্যাশা চসিক কর্মযজ্ঞ নিয়ে মশা দমাতে এখনই মাঠে নেমে পড়ুক। কারণ প্রতি বছরই দেখা যায় মশা দমনে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে অনেক সময় কেটে যায়। তাতে রোগবালাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার শংকা দেখা দেয়। অনেকে ডেঙ্গু ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। ঘরে ঘরে এরিসল ব্যবহার করে মশা দমন করতে হয়। চসিক কার্যকর ঔষধ ছিটাতে গতির সঞ্চার হয় না। নগরবাসি চায় কার্যকর ব্যবস্থা। একই সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। কর্তৃপক্ষকে মশার উৎপত্তিস্থল যেমন ধ্বংস করতে হবে, জনসাধারণকেও ময়লা আবর্জনার স্তূপ যাতে মশক প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত না হয় সেদিকে কঠোর মনোযোগ দিতে হবে।
চসিকের একার পক্ষে কোনো সমস্যাই একদিন সমাধান করা সম্ভব নয়। দরকার নাগরিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা। বিশেষ করে নগরীর বসতি ও ঝুপড়িগুলো ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয় সবচেয়ে বেশি এবং এর থেকে আশপাশের এলাকায় দূষণ ও মশক ছড়িয়ে পড়ে। নালা নর্দমায় মশক প্রজনন বন্ধে ঔষধ ছিটাতে হবে এখনই। এপ্রিলের শেষার্ধ্বে রমজান শুরু। মুসল্লিদের জন্য মসজিদগুলো মশকমুক্ত রাখতে হবে। শুরু হবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এপ্রিলের শুরু থেকে।
শিক্ষার্থীরা যাতে মশার উপদ্রবমুক্ত পরিবেশে প্রস্তুতি নিতে পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। আশার বিষয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রক গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বর্ষার আগে মশক নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়ার জন্য ৫টি নির্দেশনা দিয়েছে। চসিক মুখপত্র আশার বাণী শুনিয়েছেন পত্র পাওয়ার আগেই তারা কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছেন। ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া থেকে নগরবাসি যাতে পরিত্রাণ পায় এমন আশা প্রতিটি নাগরিকের। যখন সারাবিশ্ব করোনার আতংকে আতংকিত তখনই আসছে বর্ষা মৌসুম। সময় থাকতে নাগরিক স্বাস্থ্য নিরাপদ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।