আশীষ কুমার লোহ (১৯৩৭ – ১৯৯৪)

2

বিশিষ্ট নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, লেখক, অভিনেতা ও কৌতুক অভিনেতা আশীষ কুমার লোহ ১৯৩৭ সালের ১০ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলায় এক সম্ভ্রান্ত সাংস্কৃতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালে স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলে লেখাপড়া শেষে তিনি ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে ভর্তি হন। জেলা স্কুল থেকে ১৯৫৩ সালে ম্যাট্রিক পাশ করে ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। কলেজে ছাত্র থাকাকালীন তিনি কৌতুক নাটকে অভিনয়সহ অভিনয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কলেজের বার্ষিক নাটক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অভিনয় ও কৌতুক এবং স্থানীয় টাউন হল মঞ্চে নিয়মিত নাটকে অভিনয় করে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নাটকে অংশগ্রহণ এবং কৌতুক অভিনয় দেখাবার জন্য তাঁর ডাক পড়তো। আনন্দমোহন কলেজ থেকে ১৯৫৫ সালে আইএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকার বিভিন্ন মঞ্চ নাটকে অভিনয় ও কৌতুক প্রদর্শন করে ঢাকায়ও প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেন। এই সময় তিনি বেতার ও টেলিভিশনে তালিকাভূক্ত অভিনয় শিল্পী হয়ে যান। শিল্পী হিসাবে তিনি বেতার ও টেলিভিশনে বিভিন্ন নাটকে অংশগ্রহণ করা বাদেও তিনি বেতার ও টেলিভিশনের জন্য নাটক লেখা শুরু করেন।
কালক্রমে আশীষ কুমার লোহ একজন খ্যাতনামা নাট্যকার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং নাট্যাভিনয়ে নিজ যোগ্যতার পরিচয় দেন। ষাট দশকে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন ঢাকা কেন্দ্রের প্রথম ধারাবাহিক কৌতুক নাটক ‘হীরা-চুনি-পান্না’ নাটকে হীরার ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের মাঝে দারুণ সাড়া জাগিয়েছিলেন। ষাট দশকেই তিনি চলচ্চিত্র জগতে অভিনয় করা শুরু করেন। সারাজীবনে তিনি প্রায় চল্লিশটারও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন। প্রতিটা সিনেমায় আশীষ কুমার লোহ অনবদ্য অভিনয় করেন। প্রতিটি চরিত্রকে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতেন। এ জন্য তাঁর অভিনীত প্রতিটি চরিত্র প্রাণবন্ত হয়ে উঠতো। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রথিতযশা শিল্পী ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো হারানো দিন (তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র) কারওয়্যাঁ, বেগানা, ও কায়সে কঁহু (ঊর্দু সিনেমা) ভাওয়াল সন্ন্যাসী, নদী ও নারী, সুতরাং, অঙ্গার, অচেনা অতিথি, রূপালী সৈকতে, মৌচাক, সখী তুমি কার, কার বউ, আপন দুলাল, নয়ন তারা, অনেক দিন আগে, দুই পর্ব, বাদল, রাজার রাজা, জন্ম থেকে জ্বলছি, পাগলা রাজা, সোহাগ মিলন, আলী বাবা ৪০ চোর, মধুমালতী, শাস্তি, ঘরে বাইরে, পরিণীতা, ইত্যাদি। ছোট গল্পকার হিসাবেও তিনি সুনাম অর্জন করেন। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। কৌতুক অভিনেতা হিসাবে তার স্থান অতি উচ্চে। অভিনেতা আশীষ কুমার লোহ ১৯৯৪ সালের ৩ নভেম্বর মাত্র ৫৭ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। সূত্র : ইন্টারনেট