আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজন দায়িত্বশীল ভূমিকা

18

গত বছর ডিসেম্বরে চীনের ওহান রাজ্য থেকে সংক্রমিত করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকে রোগাক্রান্ত করে এক দুঃসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এটি শেষ পর্যন্ত মহামারিতেই রূপ নেয়। আর এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে সাড়ে ৫ কোটির অধিক মানুষ সংক্রমিত হয়, মৃত্যুবরণ করেন প্রায় ১৩লাখ ২০ হাজার মানুষ। এরমধ্যে বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়,৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭২ জন। মৃত্যুবরণ করেন ৬ হাজার ২শ ১৫জন। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্ব এক চরম দুঃসময় অতিক্রম করছে। মধ্যখানে ৩ সপ্তাহ প্রায় করোনা সংক্রমণ কমলেও আগের চেয়েও ভয়াবহরূপে ফিরে এসেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। যেমনটি আশঙ্কা করা হয়েছিল প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশেও দ্বিতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গতকাল মঙ্গলবার মৃত্যু ও আক্রান্তের হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামেও ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দুটিই। আশার কথা, এ দুঃসময়ে সুখবর দিচ্ছে একাধিক কার্যকর টিকা তৈরির খবরে। বেশ কয়েকটি টিকা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সরকার ও গণমাধ্যম সূত্র নিশ্চিত করেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু টিকাই করোনা থেকে আমাদের মুক্ত করতে পারবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে আরো অনেক বেশি সচেতনতা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে আমরা সেই সচেতনতা থেকে এখনো অনেক দূরে।
ইউরোপে করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করছে কয়েকটি দেশের সরকার। ইউরোপ ও রাশিয়ায় নতুন করে লকডাউনের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক আগেই বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফা করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করে বর্তমান অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকার এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে, ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’। বিশেষজ্ঞরা সব সময়ই জোর দিচ্ছেন মাস্ক পরার ওপর। ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরী ও নগরীর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় চলছে অভিযান, দেয়া হচ্ছে জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি। তার পরও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক ব্যবহারে সতর্ক হচ্ছে না। অনেকেই মাস্ক না পরেই চলাফেরা করছেন। চলছে হাট-বাজারে অবাধে কেনাবেচা, এমনকি গণপরিবহনের চালক-হেলপার ও যাত্রীসহ কর্মস্থলে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষও মাস্ক ব্যবহার করছে না। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বলা যায় একেবারে কমেই গেছে। সব মিলিয়ে স্বাস্থবিধি মানা নিয়ে চলছে রীতিমতো বিশৃঙ্খল অবস্থা।
বহু আগে থেকে শীতের সময় সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে সরকার ও বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় ঘরের বাইরে এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। অর্থাৎ মাস্ক ব্যবহারকেই সংক্রমণ মোকাবেলার অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে আপাতত বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানহীন মাস্ক তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের গাইডলাইন থাকলেও সে অনুযায়ী মাস্ক তৈরি বা আমদানি হচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি নেই। এসব মাস্ক কোনো ধরনের জীবাণু বহন করছে কি না, তা বোঝার উপায় নেই। এ বিষয়টির প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে-অতীতে তাদের দায়িত্বের প্রতি অবহেলা প্রকটভাবে লক্ষ করা গেছে। এবার তারা সজাগ এবং প্রস্তুত রয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে বললেও অবস্থাদৃষ্টে তা লক্ষ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। এখন আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। করোনা প্রতিরোধে সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন সকল নাগরিকের সম্মিলিত প্রয়াস।