আলো ছড়াচ্ছে সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান

তৈয়ব চৌধুরী

33

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে ভবিষ্যত প্রজন্মকে হাতে হাত ধরে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালে তরুণ সমাজসেবক ফারাজ কমির চৌধুরীর হাত ধরে চট্টগ্রামে রাউজানে জন্ম নেয় সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান নামে এ সংগঠনটি। যখন এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয় এর পরপরই দেশপ্রেম, মেধা, মনন, কর্মদক্ষতা, সৃজনশীলতা, প্রগতিশীল চিন্তা ভাবনা আর বহুমুখী জ্ঞানের সমাবেশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ সংগঠনের জন্ম। সংগঠনটি এখন পর্যন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, উপজেলার সকল মেধাবী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনা, শিক্ষাসামগ্রী প্রদান ও শিক্ষামূলক নানান প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় সংগঠনটি এলাকায় শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি মেধার বিকাশ ঘটাতে নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে চলেছে। যা জাতীয় পর্যায় ও বিটিভির বিতর্ক প্রতিযোগিতায়ও বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণ করে কৃতীত্বের স্বাক্ষর রাখে। বিশেষ করে দেশের মুক্তিযুদ্ধের নানা চিত্র নতুন প্রজন্মদের কাছে তুলে ধরার লক্ষে নিয়মিত আয়োজিত হচ্ছে অনুষ্ঠানমালার। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ সংগঠনের অনুষ্ঠানমালা নজর কাড়ে সকলের।
নতুন শিক্ষাবর্ষে উপজেলার গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই সংগঠন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এতে চলতি বছর উপজেলার ৫ হাজার শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো এবং রাউজানের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সঠিক মাপের জাতীয় পতাকা বিনামূল্যে প্রদানের মত ব্যতিক্রমধর্মী এই ঘটনা চট্টগ্রামে প্রথম। এ বিষয়টি পুরো চট্টগ্রামে বেশ প্রশংসিত হয়। অন্যদিকে উপজেলা প্রশসানের সহযোগিতায় এই সংগঠন উপজেলার সবকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রতিবছর আয়োজন করে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপজেলার শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে এসব কৃতী শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগসহ বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ নানান বেসরকারি চ্যানেলের আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে কৃতীত্বের স্বাক্ষর রাখছে। এতে বয়ে আনছে রাউজানের সুনাম। সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান সমাজের স্ব-স্ব ক্ষেত্রে স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা জানিয়েও গুণীজন সম্মাননা’ প্রদানও করে থাকে। এ সংগঠনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মজয়ন্তী পালন করে আসছে। আর এসব অনুষ্ঠানের বেশ কয়েকটিতে অংশ নিয়েছেন রাউজান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপিসহ দেশের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ। সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিশুদের মধ্যে প্রদান করা হয় মেধাবৃত্তির। সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান ইতোমধ্য বেশি স্কুল ভিত্তিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রদান করা হয় বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ। এ সংগঠনের আয়োজনে উপজেলায় মাদকবিরোধী সেমিনারটিও বেশ প্রশংসিত হয়। এতে যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে শপথবাক্য পাঠ করা হয়। আর এসব কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ২০১৭ সনে তাদেরকে সু-পরিসর কার্যালয় দিয়েছেন।
সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজানের ভবিষ্যৎ কর্মকান্ড সম্পর্কে সংগঠনের প্রধান পৃষ্টপোষক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা বলেন, সংগঠনের সকল সদস্যই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এতে তারা দেশ ও সমাজের কল্যাণে এমন বিষয় নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করে যা কখনো ফেলে দেওয়ার মত নয়। যার কারণে আমি প্রতিটি কর্মকান্ডে সহযোগিতা করে থাকি।সংগঠনের সভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, তরুণ সমাজসেবক ও তরুণ প্রজন্মের আইকন ফারাজ করিম চৌধুরীর নির্দেশে ২০১৫ সনে এই সংগঠনের জন্ম। এতে জন্ম থেকেই সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নানান কর্মকান্ডে পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হাতে হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এ সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে সৃজনশীল কর্মকান্ড তরুণ ও যুব সমাজের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করা। এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে সাহায্য করা। সমাজের অবহেলিত শিশুকিশোরদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও নিয়মিত বিতর্ক কর্মশালার মাধ্যমে প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বার্তা ছড়াবে যুগ যুগ ধরে- প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।
বিষয়টি নিয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামিম হোসেন বলেন, উপজেলায় যেসব সংগঠন আছে তার মধ্য এই সংগঠন বিভিন্ন দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। এই সংগঠনের কর্মকান্ড সত্যিকার অর্থে দেশ ও সমাজের কল্যাণে। তাই ভবিষ্যতে রাউজান উপজেলা প্রশাসনের কোন অনুষ্ঠানে এই সংগঠনকে পুরষ্কৃত করার চিন্তাও মাথায় আছে।