আর্মেনিয়াকে আজারবাইজানের ভূখন্ড ছাড়তে হবে : এরদোয়ান

6

আজারবাইজানের ভূখন্ডে আর্মেনীয় দখলদারিত্ব বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। সোমবার ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। অন্যদিকে বিদ্যমান সংঘাত থেকে তুরস্ককে দূরে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আর্মেনিয়া।
এরদোয়ান বলেন, আর্মেনিয়া কর্তৃক কারাবাখ দখলের মাধ্যমে এ অঞ্চলে যে সংকট শুরু হয়েছিল অবশ্যই তার অবসান ঘটাতে হবে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আর্মেনিয়াকে অবশ্যই অবিলম্বে আজারবাইজানের ভূখন্ড ছাড়তে হবে। এর মাধ্যমেই এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এর আগে আজারবাইজানের বিরুদ্ধে আর্মেনিয়ার হামলাকে উসকানি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তুরস্ক। দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ায় আর্মেনীয়দের প্রতি দেশটির শাসকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, যেসব নেতা আর্মেনিয়াকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন এবং নাগরিকদের পুতুলের মতো ব্যবহার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আর্মেনীয়দের রুখে দাঁড়ানো উচিত।
টুইটারে এরদোয়ান লিখেছেন, দখল ও নির্মমতার বিরুদ্ধে বিশ্বকে আজারবাইজানের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এ সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়।
কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখন্ড হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। মূলত এ নিয়েই সংঘাতের সূত্রপাত। নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘ বিবাদের জেরে ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। এতে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উভয় পক্ষের অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক লোকজন, নারী ও শিশুও রয়েছে। নতুন করে সংঘাতের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া।