আরশি নগর

4

শাহীন মাহমুদ

মনের আয়নায় ধরা পড়ে মহাশূন্য।
নক্ষত্রমালা আদি -অন্ধকার জ্যোতিরেখা
কানে ভেসে আসে বাঁশি, নূপুর
ঘণ্টাধ্বনি,পতঙ্গের স্বর। আশ্চর্য দৈবীগন্ধে

ভরে যায় সব। মুখের ভিতরে কোন এক অজানা সাধে জেগে উঠে যোগমুদ্রা।
ঘরের পাশে পড়ে থাকে আরশি নগর;চেনা হয়না কখনো আর পড়শিকে।
যে ধ্যানমালায় সঁপেছি প্রাণ, বুঝেছি অবশেষে তা ছিল বায়ু রশ্মির বেগ
চেতনা প্রবাহের চিত্রিত ছেঁড়া কাগজ মন চুপসে যাওয়া নিউজ প্রিন্ট
টুকরো টুকরো রিবনের ক্ষতে উদ্বাস্তু।
জৈবিক না মানবিক-মস্তিষ্ক না দেহ!
দ্বৈতবাদের ঘোরে অমাবস্যা নামে
নির্ঘুম চলে ঘাস আর শিশিরের ফোঁটা ফোঁটা প্রেম।

মেঘ পবনের সার্কাস
দ্বীপ সরকার

তারার ঝুল ছুঁতে আসমানে গিয়েছিলাম
তাকে ছুঁয়ে দেখা যায় কিনাÑ
মাটি থেকে লেজপুচ্ছটা লম্বাটে দেখতে লাগে
অথচ নিকটে গেলে খোঁচা খোঁচা দাড়ির মতোন
ধোয়া ধোয়া আলতা মাখা গায়েÑ

বিষুব রেখার কিনারা ঘেঁষা বাজারে তারারা বসে প্রতিদিন Ñ আশ্বিন কার্তিক মাসে
ওখানে নাটাই দূরত্বে ভাসাভাসি খেলে
মেঘ পবনের সার্কাসে ডানা মেলে ধরে উঁচিয়ে
এটা জানলাম এক বৃদ্ধ তারার সাথে কথা বলেÑ
যে তারা জন্মলগ্ন থেকে সন্ধ্যাতারা নামে পরিচিত
তারার হাটে মুদ্রিত কিছু শাদাকে পেলাম খুঁজে
জোসনা রাতে ওরা ছিটিয়ে দেয় নিজেদের শাদা শাদাÑ
মাঠেÑঘাটে, কাশবনে, দিঘির জলে

ফেরার পথে আসমানের উঠোনে দাঁড়ালাম
ওরা কিছু উপঢৌকন তুলে দিলো ব্যাগেÑ
একটুকরো নীল দিলো পাঠের জন্য
এক আঁজলা মেঘ দিলো গায়ে জড়ানোর জন্য
আর কিছু তারা দিলো ঠোঙায় করে
সেটা আমি আত্মীয়দের বিলিয়ে দিলাম ফিরে এসে
সেই থেকে এই পৃথিবীতে শরৎ আসলে
পূর্ণিমা আসে, ঠোঙা ভরা জোসনা আসে, শুভ্র রাত আসেÑ
আহ, সমগ্র রাত্রীটা আয়না আয়না লাগে এখন !

পিঠের ওপর পথ
রফিকুজ্জামান রণি

পথ কখনো পথিক মনে রাখে না
পথের শূন্যতা এবং পূর্ণতার ইতিহাস
একদিন সবাই ভুলে যায়…

প্রেমিকার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে
ভুলায় যে পথ রাত ও দিনের তফাৎÑ
সে পথের রক্তেই আবার
ভিজে ওঠে সূর্যের শরীর

পথ কখনো পুরোহিতের, পথ কখনো ডাকাতের
পথ কখনো সতীর, পথ কখনো বেশ্যার

তারপরও কে মনে রাখেÑ
মানুষের পিঠের ওপরেও যে একখানা পথ রহিয়াছে!

বিশ্বাসের নামতা
বজলুর রশীদ

নিশিজাগা ভাগ্যের পরিণতি
নিকোটিনের নেশায় হারিয়ে ফেলি
বিশ্বাসের জ্যামিতিক সূত্র।
হারিয়ে যায় ভালোবাসার বন্ধন,
মরীচিকা-অন্বেষণে
অন্তহীন ভাবনায় আমার আমিত্ব..
বসতী গড়েছে কুৎসিত আঁধার।

অতঃপর.. যুবতী চাঁদের প্রণয়ের হাসি
স্পষ্ট করেনা জীবনের মূল্যবোধ।
বিশ্বাসের নামতা পড়ে এখন শুধু খুঁজে পাই
অমীমাংসিত মানুষের ভালোবাসা।

বিবর্ণ সময়
হাসান ইকবাল

সময়ের প্রয়োজনে অনেক কিছুই বদলে যায়
যেমন ঘোলাটে হয়ে যায় দেয়ালের চুনকাম,
সময়ের বিবর্তনে মাঠের সবুজ
সেও হারিয়ে ফেলে তার নিজস্ব স্বকীয়তা
উত্তাল সমুদ্র পরিণত হয় নিস্তরঙ্গ অধঃক্ষেপে।

দুর্মূল্যের বাজারে এখন ভালোবাসার পড়ন্ত বেলা
পরিচিত পথের কল্যাণে তবু এতদূর আসা ,
বাজারের ব্যাগ,খরচের খতিয়ান ক্রমশই বদলে যায়
সময়ের সহনশীলতা বুকে নিয়ে বদলে যায় প্রকৃতি
যেমন বদলে গেছো তুমি।