প্রতিজ্ঞা সংগীত একাডেমির বার্ষিক সংগীতানুষ্ঠান

‘আমিও গান গাইব’ সিজন৩

দেবাশীষ কান্তি বিশ্বাস

13

সুরের কলতানে প্রকৃতি, মাটি ও মানুষের গানে মুখরিত ফুলকি-একে খান স্মৃতি মিলনায়তন। বর্তমান ক্ষয়িঞ্চু সমাজে সঙ্গীতের বিকাশ জরুরি। সঙ্গীত মনের কালিমাকে দুর করে সুন্দরের পথে পরিচালিত করে, বিবেককে পরিশুদ্ধ করে। এক্ষেত্রে একটি শুভ্র ও সুশৃঙ্খল সমাজ বিনির্মাণে সংস্কৃতি কর্মী ও শিল্পীদের ভ‚মিকা অপরিসীম। সমাজ কল্যাণ সমিতি পরিচালিত চট্টগ্রামের নন্দিত সৃজনশীল সঙ্গীত চর্চা প্রতিষ্ঠান প্রতিজ্ঞা সংগীত একাডেমি’র বার্ষিক সংগীতানুষ্ঠান সিজন৩ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নন্দনকাননস্থ ফুলকি এ কে খান স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ঘড়ির কাঁটা ছয়টা বাজতে সঞ্চালক ঘোষণা মঞ্চ থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের আসন গ্রহণের আহবান জানান। অতঃপর অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রতিজ্ঞা সংগীত একাডেমির পরিচালক তপন চক্রবর্তী উদ্বোধক সমাজ কল্যাণ আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ কামরুল পাশা ভূইঁয়া, প্রধান অতিথি বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য, বিশেষ অতিথি সংস্কৃতি সংগঠক দেবাশীষ কান্তি বিশ্বাস’কে সাথে নিয়ে আসন গ্রহণ করেন। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পরে হল ভর্তি দর্শকদের মাঝে প্রতিজ্ঞা সংগীত একাডেমির প্রতিষ্ঠিত শিল্পী ও ক্ষুদে শিল্পীরা একে একে দলীয় সংগীত, একক সংগীত, দ্বৈত সংগীত, উচ্চাঙ্গ সংগীত রাগ, নৃত্য পরিবেশন করে এক অনবদ্য সৃষ্টিশীল পারফরম্যান্স উপহার দেয় শ্রোতাদের। যন্ত্রসংগীতের সুমধুর শৃঙ্খলিত তানে অনুষ্ঠান হলে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়। শ্রোতাদের মুহ‚র্মুহু করতালির মধ্য দিয়ে শিল্পীদের উৎসাহ ও প্রেরণা বৃদ্ধি পেতে সহযোগিতা যোগায়। এসময় শিল্পীরা হারানো দিনের মা, মাটি ও প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্কিত নৃত্য ও গানগুলি একে একে পরিবেশন করতে থাকেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সাত ভাই চম্পা, দূর দ্বীপবাসিনী, হলুদিয়া পাখি, মিলন হবে কতদিনে, সালাম সালাম হাজার সালাম, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, পলাশ ডাকা, গ্রীষ্ম বর্ষা, শুকনো পাতার, আমরা সবাই রাজা, প্রজাপতি প্রজাপতি, আমরা নুতন যৌবনের দূত, চমকে চমকে, ঝিক ঝিক চলে গাড়ি। সুকান্তা দেবী ও রাসেল রহমানের উপস্থাপনায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশন করেন সোমা দেবী, হারমোনিয়ামে ছিলেন মেঘলা দাশ এবং নৃত্য পরিবেশনায় মৌসুমী দেবী ও জয়া দেবী। অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে একক সঙ্গীত ও দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন যথাক্রমে প্রিয়ম, তৃষা, তোয়াছিন, ঈষিকা, অর্চিশা, দুর্জয়, অন্বেষা, অনুশা, মুফরাত, উপাসনা, ইক্্রা, পুষ্পিতা, অন্বেষা, লিপা, জুঁই, লিপি, প্রীতি, স্বর্ণালী, প্রলয়, প্রতাপ, সুপ্রিয়া ও জাকির।
অনুষ্ঠানটির সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন তপন চক্রবর্তী ও সোমা দেবী। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন মৌসুমী দেবী। যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন তবলায় তপন চক্রবর্তী, কী-বোর্ডে সৈকত নন্দী, অক্টোপ্যাডে সেতু দেব, পোশাক পরিকল্পনায় প্রিয়াংকা চক্রবর্তী।
সমাজের তৃণমূল পর্যায় থেকে তুলে নিয়ে আসা সম্ভাবনাময় শিল্পীদের বিকশিত হওয়ার প্রতিজ্ঞার সুন্দর প্রয়াসে একাত্মতা প্রকাশ করে সমগ্র অনুষ্ঠানটির কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন সৃজনশীল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ‘চ্যানেল আর এ ’।