‘আমাদের মা কষ্ট পেলে আমাদের কিছু যেতে আসত না’

.

55

নগরীর থিয়েটার ইন্সিটিটিউট চট্টগ্রাম (টি.আই.সি) মিলনায়তনে গত ২২ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম’র আয়োজনে আবৃত্তি সন্ধ্যায় সমসাময়িক ঘটনা প্রবাহের প্রাধান্য ছিল তাৎপর্যময়। প্রকৃতির বিরূপ মুহূর্তেও সংস্কৃতিমনা মানুষের দায়িত্ববোধ যে থেমে থাকে না। তা বোধনের আবৃত্তি সন্ধ্যায় পরিলক্ষিত। যেখানে সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বের সাম্প্রতিক ন্যাক্কারজনক ঘটনাসমূহের করুন আর্তনাদ ভেসে আসে। অনুষ্ঠানের শুরুতে আবৃত্তিশিল্পী পারভেজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় কবি মল্লিকা সেনগুপ্তার কন্যাশ্লোক’র অংশ বিশেষ আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী পুনম দাশ। এরপর  তসলিমা নাসরিনের ‘আমাদের মা কষ্ট পেলে আমাদের কিছু যেতে আসত না’ কবিতার পরিবেশনায় মায়েদের নিরন্তন কষ্টের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। আবৃত্তিশিল্পী অসীম দাশ কবি শুভ দাশগুপ্ত ও আবুল বাসার সারনিয়াবাতের রচিত কবিতায় আমাদের বাবাদের জীবনযাত্রা এবং চে গুয়েভারার সংগ্রামী জীবনের প্রতিকৃতির নির্মোহ দিক উঠে এসেছে। এদিকে গতানুগতিক সময়ের সঙ্গ এড়িয়ে, সময়ের চাহিদা মানিয়ে নিয়ে আবৃত্তিশিল্পী শিমুল নন্দী পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্ভয় , সুনির্মল বসু’র অসম্ভব দুজন এবং শেখ ইমানুর রহমানের পাথর। বর্তমান অস্থির এ সময়ে শিশু ও নারীদের ওপর অবর্ণনীয় হত্যা ও লৌম হর্ষক লাঞ্চনার শিকারের নির্মমতা দেখা যায় গণমাধ্যমে। তারই বেদনার স্রোত মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে দেশ থেকে দেশান্তরে। সেই নিধারুন মুহূর্ত  আবৃত্তিশিল্পী সঞ্জয় পাল তার অনন্য নির্মাণশৈলী গ্রন্থনায় ও নির্দেশনায় দলীয় প্রযোজনা ‘নারী’ পরিবেশনায় ভাবিয়ে তোলেন দর্শকদের। এতে অংশ নেন আবৃত্তিশিল্পী সঞ্জয় পাল, শারমিন মৃত্তিকা , তৈয়বা জহির আরশি, ইসমাইল সোহেল, সুচন্দা চৌধুরী, রমিজ বাবু, সেহেলি হাসনাত, বেনজীর বিনতে শওকত, শ্রাবণী দাশ, আারফুননেসা সিদ্দিকা, শ্রেয়সী স্রোতস্বিনী, ইতু সাহা, তারনিম পুষ্পা, মোহিনী সংগীতা সিংহ, প্রজ্ঞা পারমিতা এবং আবু সাঈদ রিয়াদ। প্রায় ঘন্টা দুয়েক এ আয়োজনের সবশেষে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পী ড. অমিতাভ কাঞ্জিলাল ব্যতিক্রমী ভাবধারার কবিতার প্রাণবন্ত আবৃত্তি পরিবেশনায় মাতিয়ে রাখেন আবৃত্তিপ্রেমীদের। তিনি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির প্যাশোনেটপারফরমার একজন সক্রিয় সংগঠক।