আমরা গর্বিত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে পিপিই বানাচ্ছে স্মার্ট গ্রুপ

31

কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাসের অপ্রতিরোধ্য সংক্রমণে বিশ্বের প্রায় দুইশত দেশ হয়ে পড়েছে স্থবির। মানবতার আর্তনাদে আকাশ ভারি হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যুগে উন্নত বিশ্বের সকল কলা-কৌশল যেন অসার প্রমাণিত হচ্ছে। এ মহামারি করোনাকে ঠেকাতে কোন ভেক্সিন বা প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার হয়নি। শুধু তাই নয়, চিকিৎসাসেবার জন্য ন্যূনতম যে পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) প্রয়োজন তাও বিশ্বে অপ্রতুল। এ অবস্থায় এ কোভিড সংক্রমণ ঠেকাতে চিকিৎসক এবং সেবাদানকারী মহল ও ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য সরকারের পাশে এসে দাঁড়াল চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্মার্ট গ্রুপ। এ গ্রুপটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্মার্ট জেকেট এ ইক্যুইপমেন্টটি তৈরি করছে। জানা যায়, আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠান পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) তৈরির জন্য বেশ আগেই বুকিং দিয়েছিল এ কোম্পানিকে। কিন্তু দেশের দুর্যোগ মুহূর্তে কোম্পানি সেই অর্ডার বাতিল করে বাংলাদেশের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সেবাকর্মীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করছে এক লাখ পিস পিপিই। সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধালয় স্মার্ট গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডকে এক লক্ষ পিপিই তৈরির কার্যাদেশ দিয়েছে। সিইপিজেডের বিশেষায়িত এই পোশাক কারখানা ৫০ হাজার পিপিই তৈরি করে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছে। বাকি ৫০ হাজার তৈরির কাজ কয়েকদিনের মধ্যে শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেবে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় জড়িত ডাক্তার, নার্স এবং সেবাদানকারীদের জন্য এই পিপিই ব্যবহার হবে বলে কার্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
দৈনিক পূর্বদেশসহ বিভিন্ন সহযোগী দৈনিক, ইলেক্ট্রিক ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, স্মার্ট গ্রুপের এ প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) তৈরি করে আসছে। আগে এসব পিপিই আমেরিকায় রফতানি করা হত। এই প্রথম দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাঁর ভাষায় ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি জানতে পেরে যোগাযোগ করে। আমরা প্রথমে স্যাম্পল পাঠাই। তারা সেটা দেখে পছন্দ করেন এবং প্রথমে ৫০ হাজার ও পরে আরও ৫০ হাজারের কার্যাদেশ দেয়। প্রথম চালানের ৫০ হাজার (মঙ্গলবার) আমরা ৯টি ট্রাকে করে ঢাকায় পাঠিয়েছি। পরশুদিনের মধ্যে বাকিগুলো পাঠিয়ে দেব। দেশের এই দুর্যোগময় মুহ‚র্তে সরকারের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমাদের ভালো লাগছে।’ কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধালয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত কার্যাদেশ ২৩ মার্চ পৌঁছে প্রতিষ্ঠানে। একদিনের মধ্যে ৫০ হাজার পিপিই তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এজন্য আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের বুকিং বাতিল করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা যায়, চট্টগ্রামের সিইপিজেডে স্মার্ট জ্যাকেটের কারখানায় চতুর্থ তলায় একটি বিশেষায়িত ফ্লোরের ১৩টি লাইনে ৭৩০ শ্রমিক পিপিই তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারদের নির্দেশ আছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করার। ১৩টি লাইনের আলট্রাসনিক মেশিনে পিপিইগুলো তৈরি করা হচ্ছে। কোনো ধরনের সেলাই ছাড়াই তিনটি রঙের পিপিই তৈরি হচ্ছে, যেগুলো পানি ও বায়ু প্রতিরোধক। চট্টগ্রাম সবার আগে, ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনকালে ‘মহাত্মা গান্ধী’ চট্টগ্রামে এসে নানা বিশ্লেষণে এ কথাটি বলেছিলেন। দেশের যেকোন গণতান্ত্রিক সংগ্রাম-আন্দোলনে, অর্থনৈতিক প্রবাহ সৃষ্টিতে এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম সবার আগেই ছিল এখনও সবার আগে-স্মার্ট গ্রুপ তা আরো একবার বুঝিয়ে দিল। এ কোম্পানি বুঝিয়ে দিল ‘অর্থ বড় কথা নয়, দেশপ্রেমই বড়’- স্মার্ট গ্রুপের এ ভূমিকায় আমরাও গর্বিত। কারণ দৈনিক পূর্বদেশ স্মার্ট গ্রুপ পরিবারের অংশ। দেশ ও জাতির সংকটকালে এ গ্রæপ তাদের এ ধরনের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে-এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের।