‘আবে পেহেলে বাংলাদেশ বানাকে দেখাও’

এস এম মনসুর নাদিম

19

পাকিস্তানের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান পাকিস্তানি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন আগামী পাঁচ বছরে তিনি পাকিস্তানকে সুইডেন বানিয়ে দেবেন। তার একথা নিয়ে পাকিস্তানি জনগণের মাঝে বিস্তর হাসি-তামাশা চলছে। পাকিস্তানি ক্যাপিটেল টিভি চ্যানেলে প্রচারিত একটি টকশো’তে তিনজন আলোচকের মধ্যে একজন সিনিয়র উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক জায়গাম খান বেশ জোরালো গলায় বললেন- ইমরান খান পাকিস্তানকে অনেক কিছুই বানাতে চান। অন্য কোন দেশের উদাহরণ দিয়ে লাভ নেই, পাকিস্তানের উচিৎ প্রথমে বাংলাদেশ হওয়ার চেষ্টা করা। তা হতে কমপক্ষে দশ বছর সময় লাগবে। ততদিনে বাংলাদেশ উন্নয়নের দিক দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এসময় বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে কতটা এগিয়ে গেছে সে দৃষ্টান্ত দেখিয়ে ইমরান খানের উদ্দেশ্যে বলেন- আবে খোদাকি ওয়াস্তে হামে পেহেলে বাংলাদেশ বানাকে দেখাও। (আল্লাহ্র ওয়াস্তে আমাকে আগে বাংলাদেশ বানিয়ে দেখান)। তিনি আরও বলেন, কোনও একটি দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে হলে তার জন্য চাই যোগ্য নেতৃত্ব যা বাংলাদেশ দেখিয়েছে। দশ বছর পর বাংলাদেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বাকি দুই আলোচকও তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। (সূত্র : দৈনিক পূর্বদেশ)
পাকিস্তানিদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যারা মাঝে মধ্যে মুখ ফসকে বাংলাদেশের প্রশংসা করে ফেলে। এরকম একজন ফাইয়্যাজ আহমেদ। একদা দুপুরে লাঞ্চ করতে বসে অফিসের লাঞ্চ রুমে খেতে খেতে আড্ডা হচ্ছিল। ফাইয়্যাজ অন্য পাকিস্তানিদের বলল- এক বাত তো ইয়ে সাচ হ্যাঁয়, এডুকেশন আওর ফাইন্যান্স মে বাংলাদেশ পাকিস্তান ছে বাহুত আগে নিকাল গিয়া। (একটি কথা, এটা তো সত্যি, শিক্ষা আর অর্থনীতিতে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।) দেখি বাকি পাকিস্তানিদের গলা দিয়ে আর খাবার নামছে না। বিস্ফারিত নয়নে ফয়েজ এর দিকে তাকিয়ে আছে। আমি সুযোগ হাতছাড়া করলাম না। ফয়েজ কে বললাম, মনে হয় তুমি বেশ খবর-টবর রাখো। সত্যিকারের শিক্ষিতদের এটাই পরিচিতি। তারা তাদের বিবেককে পঙ্গু হতে দেয় না। আর ক্রিকেটের খবর তো অবশ্যই জানো। সে সাথে সাথে বলল, আরে ভাই, কিয়া বাত হ্যায়। ক্রিকেট মে তো আপ লোগ কামাল কারদিয়া। আপকা সাকিব আল হাসান আওর মাশরাফি কা তো ফেন হু ম্যাই। (আরে ভাই, কী আশ্চর্য, ক্রিকেটে তো আপনারা চমৎকার দেখিয়েছেন। আপনাদের সাকিব আল হাসান আর মাশরাফির তো ভক্ত আমি।) লক্ষ করলাম, আমি আর ফয়েজ যখন কথা বলছিলাম বাকিদের খাওয়া শেষ করে পালানোর তাড়া ছিল। অনেকের চেহারাটা এমন হয়েছিল যেন এইমাত্র তার মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনেছে। আমি মজা পাই। বেশ মজা পাই। দুর্ভাগ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধে বয়সের জন্য অংশগ্রহণ করতে পারিনি বলে। কিন্তু এখন ওদের সাথে প্রতিদিন আমার যুদ্ধ হয়। মনে হয় মুক্তিযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। আমার মতো প্রচুর প্রবাসী বাঙালি আছে, যারা পাকিস্তানিদের সাথে চাকরি করছে। রাস্তায় চলাফেরায় ওদের সাথে মিশতে হচ্ছে তাদেরকেও আমার মতো প্রতিনিয়ত ওদের সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। কখনো ধর্ম নিয়ে, কখনো কালচার নিয়ে, কখনো রাজনীতি ও খেলা নিয়ে। একথা সত্য, দুবাইতে না আসলে বুঝতে পারতাম না পাকিস্তানি কী জিনিস। তাদের সাথে না মিশলে উপলব্ধি করতে পারতাম না চামচাগিরি কী, মিথ্যাবাদিতা কতো অপূর্ব ভয়ঙ্কর। বিশ্বাসঘাতকতা কতো সুমিষ্ট গরল। অহংকার আর দাম্ভিকতা কতো নিকৃষ্ট সুন্দর।
বিস্মিত হই যখন বাংলাদেশের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাঙালিদের হাতে পাকিস্তানি চাঁদ তারা পতাকা দেখি। পাকিস্তানের পক্ষে লেখা প্লেকার্ড ও ব্যানার দেখি বাঙালিদের হাতে। লজ্জিত হই কোন বাঙালি রমনী যদি বুকে মেরি মি, শোয়েব আক্তার, অথবা মেরি মি আফ্রিদি লেখা পোস্টার সেঁটে বসে থাকতে দেখি গ্যালারিতে। মনে মনে নিজেকে তখন আন্তর্জাতিক বে-শরম বলে মনে হয়। একদা ১৪ আগস্টের দিন ছিল। পাকিস্তানিদের স্বাধীনতা দিবস। শৈশবে ১৪ আগস্টে আমরাও স্কুলে ইয়াউমে জশন বানাতাম। সকালে লাইন ধরে গাইতাম-‘পাক ছার জমি ছাত ওয়ার’…… এই তারানা টার একটি লাইনও বুঝতাম না। পরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মনের সুখে প্রাণ খুলে নিজ ভাষায় গাইতাম ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’…………এই ভালোবাসা এখনো আছে। আজীবন থাকবে। এই চৌদ্দ আগস্টকে পাকিস্তানিরা বলে ‘ইয়াউমে আজাদী’। ইয়াউমে আজাদী’র অর্থ স্বাধীনতা দিবস। এই রকম একটা দিনে আমাদের মেস হলের টিভি’তে সংবাদ চিত্রে কায়েদে আজম এর ছবি দেখাতেই আমার এক পাকিস্তানি কলিগ দাঁড়িয়ে স্যালুট দিল। তার দেখাদেখি আরও দুইজন অনুরূপ করল। বুঝতে বাকি ছিল না আমরা কয়জন বাঙালির উপস্থিতিতে এটা করার মানে হল, আমাদেরকে বিব্রত করা। আমাদের মাঝে বাঙালিরা পরস্পর চাওয়া-চাওয়ি করল। আমি বাংলায় আমাদের বাঙালিদের বললাম- বিদেশি এক দার্শনিক বলেছিলেন-‘অতি দেশপ্রেম বদমায়েশদের শেষ সম্বল’। বোধহয় এই কওমটার জন্যই বলেছিলেন। যেই জাতি ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। স্বাধীনতার জন্য নয়মাস যুদ্ধ করেছে। সেই অকুতোভয় বাঙালি জাতিকে পাকিস্তানিরা ভয় করে না এমন কথা না। তবে হায়েনার মতো দলবদ্ধ থাকলে তারা কিছু পরওয়া করেনা। একবার রাত্রে শুতে যাবো, অমনি দরোজায় নক। দরোজা খুলে দেখি সাত/আটজন পাকিস্তানি দরোজায় দাঁড়িয়ে। সালাম দিয়ে ভিতরে আসার অনুমতি চাচ্ছিল। আমি বিরক্ত হলেও সরে দাঁড়ালাম। মাঝে মাঝে কিছু পাকিস্তানি রুমে রুমে দলবেঁধে আসে তবলীগ করার জন্য। আমি এই তবলীগ একদম পছন্দ করিনা। কারণ তবলীগ মানে ধর্মপ্রচার। আর ধর্ম প্রচার কার নিকট করতে হয় ? আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম কখনো মুসলমানদের নিকট ধর্মপ্রচার করতে যান নি। তিনি তবলীগ করেছিলেন কাফেরদের নিকট। অমুসলিমদের নিকট। যারা একবার কলেমা পড়েছেন তাদের নিকট তিনি দ্বিতীয়বার কলেমার দাওয়াত নিয়ে উপস্থিত হননি। কিন্তু পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশি তবলীগদেরকে দেখি তারা মসজিদে মসজিদে বসে মুসলমানদের কাছে তবলীগ করেন। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের কাছে তারা ভুলেও দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে যান না। তাই আমি এটাকে তাবলীগ না বলে বলি ফিতনাবাজি, দলাদলি। ঘরে ঢুকেই তারা ফ্লোরে পাতানো কার্পেটের ওপর বসে পড়লো। দেখি তাদের মধ্যে কয়েকজন আমাদের কলিগ। বড় ভাই তাদের দেখে বিস্মিত হলেও আমাকে ইশারায় বললেন ফ্রিজ থেকে কোল্ড ড্রিঙ্ক বের করে দিতে। বুঝলাম, এরা তবলীগ করতে আসেনি, অন্য কাজে এসেছে। তারা ভাইকে বলল, আপনি আজ একটা খুবই খারাপ কথা বলেছেন, যা আমাদের জাতিগত সম্মানে লেগেছে। ভাই বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন- কোন কথাটা আমি বলেছি ? তাদের একজন বললেন- আপ হাম লোগোকো কুত্তা বোলা। আপনি আমাদেরকে কুকুর বলেছেন, ভাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন- কখন তোমাদেরকে আমি কুকুর বলেছি ? সেই লোকটাই আবার বলল- আপনে বোলা বাঙ্গাল মে আপ লোক পাঞ্জাবি কো কুত্তা কেহতা হ্যাঁয়। [আপনি বলেছেন, বাংলাদেশে আপনারা পাঞ্জাবিদের কুকুর বলেন।] ভাই হাসতে হাসতে তাদের একজনের গায়ের জামা ধরে জিজ্ঞেস করলেন- আপ লোক ইসকো কিয়া বোলতে হে। [আপনারা এটাকে কী বলেন ?] তারা সমস্বরে বলল- কুর্তা। এবার হাসতে হাসতে ভাই বললেন, হাম লোগ কুত্তা কো পাঞ্জাবি বোলতা হ্যাঁয়। ভাই কুর্তার শুদ্ধ উচ্চারণ করতে না পারায় তারা ঐ কুর্তা কে কুত্তা [কুকুর] শুনেছে। পরে ভুল উচ্চারণের দরুন অর্থ বিকৃতির কথা বুঝতে পেরে তারাও হাসাহাসি করে পানীয় পান পূর্বক বিদায় হয়েছিল। পাকিস্তানিরা পান থেকে চুন খসলে আমাদেরকে নাকে দম করে রাখে। প্রবাস জীবনে পাকিস্তানি সহকর্মীদের মাঝে আরেকটি জিনিস লক্ষ্য করেছিলাম। সেটা হল, আমাদের দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তারা আমাদের সমবেদনা জানাতে আসতো। কিন্তু এই সমবেদনার মাঝে লুকিয়ে থাকতো তাদের কু-মানসিকতার আসল রূপ যা আমাদের সহজ সরল অনেক দেশি ভাইয়েরা অনুধাবন করতে ব্যর্থ ছিলেন। বর্ষাকালে বন্যায় ডুবে যায় আমাদের দেশের অধিকাংশ জনপদ। সেরকম এক বন্যায় আমার কিছু কলিগ আমাকে সমবেদনা জানাতে এসে ধরাপড়া চোরের মত মুখ নিয়ে পালিয়েছিল। আমাকে এসে তারা বলল-বহুত আফসোস হুয়া, আপকা মুল্লুক মে ছয়লাব আয়া আওর বহুত জান-মালকা নোকসান হুয়া’। পরে বলল-আল্লাহ্ মাফ কারে। ইয়ে তো গজব হ্যাঁয়। আল্লাহ্ কি গজব ছে ডারনা চাহিয়ে। তার মানে ওরা আমাকে বোঝাতে চাচ্ছিল যে, বাঙালিদের ওপর আল্লাহ গজব আসছে। পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য। কিন্তু তারা ভুল জায়গায় এসেছিল। আমি সাথে সাথে বললাম, তুমি কী জানো ? গজব কাকে বলে, আর রহমত কাকে বলে ? ঝড়, বৃষ্টি ও বন্যা আমার নদী মাতৃক দেশের মৌসুমি আবহাওয়া’র ধারাবাহিকতা। এটা গজবের সংজ্ঞায় পড়েনা। গজব হল ওটা যেটা অপ্রত্যাশিত এবং হঠাৎ সংঘটিত হয়। গজব কখনো সতর্ক সংকেত দিয়ে আসে না। আমাদের ষড় ঋতুর দেশে ঝড়, বৃষ্টি ও বন্যার জন্য মাইকিং করা হয়। রেডিও, টিভি’তে ঘোষণা করা হয়। সর্বোপরি সতর্ক সংকেত দেখানো হয় কয়েকদিন আগে থেকে। সুতরাং আপনার সমবেদনা আপনার পকেটে রাখেন। আপনি সমবেদনা না, আমার কাটা ঘা’য়ে লবণ ছিটাতে এসেছেন। আমার কথা শুনে দুইজনেই ধরা পড়া চোরের মত চেহেরা নিয়ে পলায়ন করেছিল সেদিন।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে পাকিস্তানের আইএসআই এর প্রত্যক্ষ হাত ছিল বলে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে গোয়েন্দাদের হাতে। ২০০৪’এর ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার মিটিং এ গ্রেনেড হামলায়ও কিছু একাধিক সাক্ষী বলেছেন, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাকিস্তানে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল। ট্রেনিংয়ের পর তাদেরকে আর্জেস গ্রেনেডও সরবরাহ করে পাকিস্তান। আর হামলা শেষে পাকিস্তান তাদেরকে আশ্রয়ও দেয়। হামলায় যে আর্জেস গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে তা শুধু পাকিস্তানই উৎপাদন করে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশ এই আর্জেস গ্রেনেড বানায় না। সুতরাং যে গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে তা যে পাকিস্তান থেকে এসেছে এতে নিশ্চিত হয়েছেন মামলার সংশ্লিষ্টরা। প্রসঙ্গক্রমে মনে প্রশ্ন জাগে, খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবসকে হঠাৎ করে তার জন্মদিন বানাতে গেলেন কেন ? প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিশ্চয়ই তার উপদেষ্টাদের পরামর্শে তিনি তা করেছেন। পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মাজেদুল হক, কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমানরা খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে তার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। সর্বোপরি পাকিস্তানের সিআইএ সার্বক্ষণিকভাকে খালেদা জিয়ার পেছনে আছে। কর্নেল মুস্তাফিজ পাকিস্তান সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর নামকরা অফিসার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এরা নয় মাস পাকিস্তানে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। সুতরাং এই কথা আদৌ অতিরঞ্জিত নয়’ যে পাকিস্তান এখনো বাংলাদেশকে মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারছেনা। তাই বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা খুশিতে বগল বাজাবে এমনটি ভাবার কোন অবকাশ নেই। এখনো পাকিস্তান মনস্ক লোকদেরকে তারা পছন্দ করে। এবং স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ধ্বংস করতে তাদের এদেশীয় বন্ধুদের সাথে এখনো ষড়যন্ত্রে নানাভাবে মেতে আছে। এই ব্যাপারে তাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর নানা এজেন্ডা দেখে সচেতন নাগরিকদের নিকট ব্যাপারটা জলবৎ তরলং।

লেখক : প্রবাসী সাংবাদিক