আবুধাবী প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সাইফুল ইসলাম তালুকদার, ইউএই

37

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে চতুর্দশ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে (আইডিইএক্স-২০১৯) যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জার্মানির মিউনিখ থেকে শনিবার রাতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে রওনা হয়ে স্থানীয় সময় রোববার ভোর সাড়ে ৬টায় আবুধাবি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। এরপর আবুধাবী ন্যাশনাল এক্সিবশিন সেন্টারে প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে যান শেখ হাসিনা। আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং আমিরাত অব দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মাদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে তিনি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। আবুধাবী ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীর পাশাপাশি আবুধাবিতে নেভাল ডিফেন্স অ্যান্ড মেরিটাইম সিকিউরিটি এক্সিবিশনও আয়োজন করা হয়েছে। এই এক্সিবিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিএনএস ধলেশ্বরী অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে আমিরাতের প্রধানমন্ত্রীর পাশেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বসানো হয়।
এই সমারিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া ছাড়াও আরব আমিরাত সফরে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া আবুধাবির সেন্ট রেগিস হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি।
জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছয় দিনের সফরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মিউনিখে পৌঁছান শেখ হাসিনা। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটাই
শেখ হাসিনার প্রথম বিদেশ সফর।
বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ ছয় শতাধিক নীতি-নির্ধারক, চিন্তাবিদ, ব্যবসায়ীসহ সমাজের অগ্রগামী শ্রেণির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শুক্রবার ৫৫তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন শেখ হাসিনা। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন আয়োজিত ‘হেলথ ইন ক্রাইসিস-হু কেয়ার্স’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাঝে ২০১৭ সালের নোবেলবিজয়ী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস-আইসিএএনের নির্বাহী পরিচালক বিয়াত্রিস ফিন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর ফাতোও বেনসুদা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি সিমেন্স এজির প্রেসিডেন্ট ও সিইও জোয়ে কাইজার এবং ভেরিডোস জিএমবিএইচের প্রধান নির্বাহী হ্যান্স উল্ফগাং কুনজও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ভেরিডোস জিএমবিএইচ বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট বাস্তবায়ন করছে।
শনিবার সিমেন্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ওই বৈঠকের পর পটুয়াখালীর পায়রাতে ৩৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এলএনজিভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে জার্মান কোম্পানিটির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সই হয়। সফর শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ফিরবেন শেখ হাসিনা।