দক্ষিণ চট্টগ্রাম

আবাসনের দ্বার খুলবে কর্ণফুলী টানেল

42

একটি প্লট বা এক টুকরো জমির মালিক হওয়ার স্বপ্ন কার না থাকে। নিজের জমিতেই হবে স্বপ্নের বাড়ি। সে সাধ পূরণের ক্ষমতা না থাকায় মানুষ ঝুঁকে ফ্ল্যাটে। সামর্থ্যবান মানুষের প্রথম পছন্দ প্লট হলেও আবাসন কোম্পানিগুলো ঝুঁকছে ফ্ল্যাটের দিকে। শহর সম্প্রসারিত না হওয়া, পর্যাপ্ত জায়গার অভাব এবং কিছু আবাসন কোম্পানির ফ্ল্যাট বিক্রিতে প্রতারণার কারণে প্লট ব্যবসা আজ বন্ধের পথে। অবশ্য কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামে আবাসনের জন্য প্লট ব্যবসা নতুন মাইলফলক হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কথা হলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং সোসাইট অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, প্লট ব্যবসা চট্টগ্রামে নেই বললেই চলে। এর পেছনে কিছু কারণও আছে। আমাদের শহরটা ছোট। এখানে প্লট করার মতো এতো জায়গাও নেই। আবার শহরটা প্রসারিতও হয়নি। উপশহরও গড়ে উঠেনি।
তিনি বলেন, কর্ণফুলী টানেল হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামকে ঘিরে প্লট ব্যবসার বিরাট একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। তবে আমরা প্লটের চেয়ে ফ্ল্যাটের প্রতি মানুষকে বেশি উৎসাহিত করতে চাই। কারণ ফ্ল্যাট হলে কম জায়গায় অনেক মানুষের আবাসন নিশ্চিত হবে।
সূত্র মতে, বর্তমানে রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনের অধীনে ৯০টি আবাসন কোম্পানি ব্যবসায় নিয়োজিত আছে। রিহ্যাব সদস্য এসব কোম্পানির কারো প্লট ব্যবসা নেই। তবে নামসর্বস্ব কিছু আবাসন কোম্পানি উপজেলা পর্যায়ে প্লট ব্যবসায় নেমেছে। এসব কোম্পানি নানা ধরনের চলছাতুরির আশ্রয় নিয়ে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে। ইতিমধ্যে প্রায় সবগুলো কোম্পানিই নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে লোভনীয় বিজ্ঞাপন টাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে। প্লট দেয়ার কথা বলে বাহারি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার কারণে নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো প্লট ব্যবসা থেকে দূরে সরে আসে। প্রতারণা থেকে বাঁচতে রিহ্যাব সদস্য ছাড়া কোনো আবাসন প্রতিষ্ঠানের সাথে প্লট বা ফ্ল্যাটের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ না হওয়ার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা।
কথা হলে রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির মেম্বার ও মিডিয়া কমিটির আহবায়ক আবদুল গফ্ফার মিয়াজী বলেন, প্লট ব্যবসার জন্য যে পরিমাণে জমির দরকার তা চট্টগ্রামে নেই। কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান প্লট ব্যবসার নামে প্রতারণা করছে। তাদের কারণে প্লট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত কোনো কোম্পানি আসতে চায় না। আবার অনেকে কষ্ট করে প্লট কিনলেও ঘর করার মতো সামর্থ্য থাকে না। এতে করে নানা সমস্যার
সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, নামসর্বস্ব আবাসন কোম্পানিগুলোর কারণে এ খাতের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। অনেকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ঝুঁকি এড়াতে শুধু রিহ্যাব মেম্বারদের সাথে আবাসন ব্যবসায় নিয়োজিত হওয়া আবশ্যক। রিহ্যাব সদস্যরা জবাবদিহিতার মধ্যে থাকেন। এ ক্ষেত্রে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি নেই বললেই চলে।