আবারও হকারের দখলে ফুটপাত

42

হকার উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে নগরীর সৌন্দর্য ফেরানোর কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। একবার উচ্ছেদ হলেও পুনরায় দখল হয়ে যাচ্ছে ফুটপাত। এতে করে নগরজুড়েই চলছে ফুটপাত যন্ত্রণা। এসব ফুটপাত দখলে সরকারদলীয় নেতাদের ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ফুটপাতের দৈন্যদশার চিত্র। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মেয়র আপাতত হকারদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। নিয়ম মানা না হলে আবারো অ্যাকশনে যাবে চসিক।
নগরীর নিউমার্কেট চট্টগ্রামের ব্যস্ততম কয়েকটি এলাকার মধ্যে অন্যতম। বুধবার বিকেল তিনটায় দেখা গেছে, এখানকার ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ হলেও এখন পুরো নিউমার্কেট এলাকাটি পুনরায় দখলে গেছে হকারদের। বিকেল পাঁচটার পর হকারদের বসার নিয়ম ঠিক করে দিলেও চসিকের সেই নিয়মে ‘তোরাই কেয়ার’ করছেন হকাররা। দুপুরের পর থেকেই পুরো ফুটপাত দখলে চলে যায় হকারদের। নিউমার্কেট সংলগ্ন জিপিও, জহুর হকার্স মার্কেটের মুখ থেকে শুরু করে আমতল, স্টেশন রোড এলাকার ফুটপাত দখল করে চলছে হরেক রকমের বিকিকিনি। সদরঘাটের দিকে যাওয়ার পথে রাস্তার ধারে সাইকেল ব্যবসায়ীরা দখল করে নিয়েছেন ফুটপাত থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত।
নিউমার্কেট এলাকায় কথা হলে সৌমেন দাশ নামের এক পথচারি বলেন, ‘প্রতিদিন অফিস থেকে বেরিয়ে বাসায় যেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সকালে ফুটপাত হকারমুক্ত থাকলেও দুপুর থেকে ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের চলাচলের কোন পথ পাওয়া যায় না।’
নিউ মার্কেট মোড়ে জসিম উদ্দিন নামের এক হকার বলেন, ‘এখানে আমরা পুলিশ ও নেতাদের চাঁদা দিয়ে দোকান বসাই।’ তবে কোন নেতাকে চাঁদা দেন, জানতে চাইলে তিনি কারো নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘নাম বললে কালকে থেকে আমাকে বসতে দেবে না।’
একইভাবে লালদিঘি মোড় থেকে শুরু করে সিনেমা প্যালেসের রাস্তার মুখ হয়ে টেরিবাজার পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে নিয়েছেন হকাররাই। নগর ভবনের সামনেই ফুটপাত দখল করে আছে হকাররা। বিশেষ করে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মার্কেটের সামনের সড়কেও চলে হকারদের ব্যবসা। এখানে দুপুরের পর থেকে শুরু হয় ফুটপাতসহ মূল সড়ক দখল। এতে ওই এলাকায় যানজট লেগে থাকে। আন্দরকিল্লা মোড়ে কথা হয় আবদুল গফুর নামের এক ফল বিক্রেতার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভ্যানে করে ফল বিক্রি করি। তারপরেও এখানে দোকান বসাতে পুলিশকে টাকা দিতে হয়। পুলিশের নির্ধারিত লোক রয়েছে।’
নগরীর চট্টগ্রাম কলেজের হোস্টেল গেটের সামনে রিকশা ভ্যানে কাপড়সহ নানা ষ পৃষ্ঠা ১১, কলাম ১.
ষ প্রথম পৃষ্ঠার পর
সামগ্রীর পসরা সাজিয়েছেন হকাররা। সামনে এগুলে দেখা যায়, চকবাজার গুলজার মোড়, অলি খাঁ মসজিদের সামনে দুপুর থেকে ফুটপাতে অবস্থান নিয়েছেন হকাররা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকে রাস্তার দুইধারে রয়েছেন পুরোনো হকাররাই। প্রবর্তক মোড়ে, একইভাবে নাসিরাবাদ দুই নম্বর গেটের ফুটপাত দখল করে বাঁশ-ত্রিপল টাঙিয়ে দোকান বানানো হয়েছে। দুপুরের পর থেকে এখানকার ফুটপাতে হকারদের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে।
একইভাবে ওয়াসার মোড়েও ষ পৃষ্ঠা ১১, কলাম .
ষ প্রথম পৃষ্ঠার পর
ফুটপাতে কয়েকজন হকার রয়েছেন। কাজির দেউড়ি থেকে জুবিলী রোডে ঢুকার মুখে রাস্তার একপাশের ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে চায়ের টং দোকান। এনায়েত বাজার মসজিদের মুখ, তিনপুল গোলাম রসুল মার্কেটের সামনের ফুটপাতও দখলে গেছে হকারদের। গোলাম রসুল মার্কেট থেকে শুরু করে আমতল পর্যন্ত রাস্তার উত্তর পাশের ফুটপাতে ভীড় হকারদের। এখানে ফুটপাত বাদ দিয়ে রাস্তা দিয়ে চলতে হয় হকারদের। আবার রাস্তার উপর কার-পিকআপ, রিকশা দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে এ সড়ক দিয়ে চলমান গাড়ির গতি ধীর হয়ে যায়। অনেক সময় ধীরসময় ধরে যানজট লেগে থাকে এখানে। আমতল থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত রাস্তার দুইধারের ফুটপাত দুপুর থেকে হকারদের দখলে চলে যায়।
একই চিত্র বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদেও। এখানে পুরোনো চেম্বারের চারিদিকের ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বসে জুতোর দোকান। আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ সড়কে জুতোর পাশাপাশি কাপড়ের দোকান বসে ফুটপাতেই। এখানকার ফুটপাতে বসে চায়ের টং দোকানও। আবার সোনালী ব্যাংকের সামনে মূল সড়কের ফুটপাতও দখল করে হকাররা নানা পণ্যের দোকান বসিয়েছেন। এখানে সড়ক দিয়েও হাঁটতে দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ পথচারিদের।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, নিউমার্কেটসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হকার উচ্ছেদ করে শহরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু করে চসিক। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পরিকল্পনাও নিয়েছে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ‘বিউটিফিকেশন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ফুটপাতগুলোকেও নান্দনিক করার পদক্ষেপ নেয় চসিক। পাশাপাশি উচ্ছেদ হওয়া হকাররা যেন নির্ধারিত সময়ে (বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত) নির্বিঘেœ ব্যবসা করতে পারেন তাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রকল্পটিতে। প্রাথমিকভাবে প্রবর্তক মোড়, নিউ মার্কেট এলাকার গোলচত্বর মোড়, টাইগার পাস মোড়, কাজীর দেউড়ি মোড়, লালদীঘি মোড়কে বিউটিফিকেশনের আওতায় আনা হয়েছে। নিউমার্কেট এলাকার ডিজাইন দুই অংশে ভাগ করে করা হচ্ছে। প্রথম অংশে কোতোয়ালী মোড় থেকে নিউমার্কেট এবং দ্বিতীয় অংশে নিউমার্কেট চত্বরসহ পুরোনো রেল স্টেশন পর্যন্ত এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জানুয়ারির মধ্যেই এই অংশের ডিজাইন কাজ শেষ হবে। এছাড়া সার্ভে কাজ চলছে বাকি মোড়গুলোর। ইতোমধ্যে কাজির দেউড়ি মোড়ে আউটার স্টেডিয়ামের ফুটপাতটিতে বিউটিফিকেশনের কাজ শুরু হয়েছে।
কথা হলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস পূর্বদেশকে জানান, ‘নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন এবং ফুটপাতগুলো পথচারিদের চলাচলের জন্য হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। হকারদের জন্য একটি নির্ধারিত সময় বেধে দেয়া হয়েছে। আমরা নিউমার্কেটসহ অনেক স্থানের হকার উচ্ছেদ করেছি। এখন মেয়র মহোদয় হকারদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছেন। তারপরেও দিনের বেলায় ফুটপাত দখল হলে আমরা আবারো অ্যাকশনে যাবো।’