আবারও দুর্ঘটনায় ইউএস-বাংলা

28

এ বছরের মার্চে নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলা বিমানটির দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের শোক এখনও শুকায়নি। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে বিমানটি চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণের মাধ্যমে আরও একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল, বেঁচে গেল প্রায় দেড়শতাধিক যাত্রী, বিমানে কর্তাব্যক্তি ও ক্রু । বুধবার ইউএস বাংলা দুর্ঘটনার খবরটি ছিল টক অব দ্যা কান্ট্রি। বৈমানিকের দক্ষতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে আরও একটি ট্র্র্যাজেডি থেকে বিমানটি রক্ষা পেলেও বিমানটির ফিটনেস, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটির যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া থেকে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটির অবস্থা সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউএস বাংলা উড়োজাহাজে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা মন্তব্য প্রচার হচ্ছে। অপরদিকে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ এটিকে স্বাভাবিক যান্ত্রিক ত্রুটি বলে উড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস চালাচ্ছেন। এতে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ প্রসারিত হচ্ছে। জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমসহ দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদে বেসামরিক বিমানপরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন এর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়, ইউএস-বাংলার জরুরি অবতরণের ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সার্বিক বিষয় তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা আশা করি, তদন্ত কমিটি আন্তরিকতা ও দায়িত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করবেন। প্রকৃত ঘটনা ও দোষত্রুটি খতিয়ে দেখে বিমান কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের অবহেলাজনিত কারণ খুঁজে পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। এর সাথে আমরা একথাও বলতে চাই, কাঠমান্ডু ট্র্যাজেডির পর ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষেককে আরো অধিক সতর্কতার সাথে তাদের বিমান পরিচালনা ও ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু চট্টগ্রামের ঘটনায় আমরা বিপরীতটাই দেখতে পেয়েছি। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিক স্বার্থে আকাশ পথে উড়োজাহাজে বিনিয়োগ করছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের লাভ-লাভ লভ্যাংশ থাকতেই হবে। তাই বলে শূণ্য বাতাসে যেনতেন করে অর্ধ শতাধিক মানুষ নিয়ে বিমানটি উড়াল দেবে-তা হতে পারে না। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষের জানা উচিৎ কাঠমান্ডু ঘটনার পর বিমানটির প্রতি যাত্রীদের আস্তা এমনিতে হ্রাস পেয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের ঘটনা এ আস্থা শূন্যের কোটায় নামবে। সুতরাং ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে- এ বিমানকে নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করে তোলার বিষয়টি। দেশে বসরকারি বিমান চলাচল ব্যবস্থার স¤প্রসারণ ঘটেছে, এটি ইতিবাচক। এর ফলে যাত্রীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে টিকিট বিক্রির একটি প্রবণতা গড়ে উঠেছে। তবে এ ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলো তাদের বহরে যেসব উড়োজাহাজ যুক্ত করে থাকে, সেগুলো কতটা নিরাপদ তা সাধারণ মানুষের অজানা। উড়োজাহাজগুলো বেশি পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ কিনা এমন প্রশ্ন বা সংশয় রয়েছে যাত্রীদের মনে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উচিত এসব বিষয় নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই করা। বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোকে ব্যবসা প্রসারের পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, গত বুধবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বিএস ১৪১ কক্সবাজারে নামার কথা ছিল বেলা সাড়ে ১২টায়। কক্সবাজারের আকাশেই নোজ হুইল কাজ না করার বিষয়টি বুঝতে পারেন বৈমানিক। পরে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রামে উড়িয়ে নিয়ে এসে বেলা ১টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। ওই ফ্লাইটে ১৬৪ জন যাত্রী এবং ৭ জন ক্রু ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ১১ জন ছিল শিশু।