আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি

শামসুল আরেফীন

16

(গত সংখ্যার পর)
ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদ
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদ বাংলাদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে এই অনুষদের যাত্রা শুরু। বর্তমানে এই অনুষদে অধ্যাপক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের সুপরিচিত ও বরিষ্ঠ অধ্যাপক অমল ভূষণ নাগ। এই অনুষদে সহকারী ডিনের দায়িত্ব পালন করছেন এম. মঈনুল হক। এখানে রয়েছে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম), ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং, মার্কেটিং ও ফিন্যান্স ডিসিপ্লিন। এই অনুষদে শিক্ষার্থীদেরকে অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ আন্তরিকতার সাথে শিক্ষা প্রদানে সচেষ্ট। এখানে তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেয়া হয় বেশি।
এ কারণে শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট ওয়ার্ক, প্রেজেন্টেশন, রোল প্লেয়িং এবং প্রোগ্রাম শেষে ইন্টার্নশিপ সম্পাদন করতে হয়। এখানে কম্পিউটার ভিত্তিক বিভিন্ন সফটওয়্যার, যেমন, ডাটাবেজ সফটওয়্যার ও স্টাটিসটিক্যাল সফটওয়্যার শেখানোর জন্য ১৪০টি কম্পিউটার নিয়ে গঠিত ২টি বিশাল কম্পিউটার ল্যাবও রয়েছে, যেখানে একই সময়ে ১৪০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদানের সুবিধার্থে এই অনুষদে প্রত্যেক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য আরও ৬০টি কম্পিউটার রয়েছে।
এই অনুষদ থেকে এ পর্যন্ত প্রচুর শিক্ষার্থী পাশ করে বেরিয়েছেন এবং এঁদের অনেকে দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানসমূহে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। এক্ষেত্রে জার্মানির এসএপি, এমাজন, অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টপেক ব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রের ডাইম কমিউনিটি ব্যাংক, অস্ট্রেলিয়ার হেসোস এন্ড অ্যাসোসিয়েটস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সোসাইটি জেনারেল কর্পোরেট এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং; বাংলাদেশের এইচএসবিসি, এবি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ছাড়াও আইডিএলসি, লংকা বাংলা, রিজেন্ট এয়ারলাইন, ইউএস বাংলা, নভো এয়ার, গ্রামীণ ফোন, বাংলালিংক, রবিএক্সিয়াটা, নিউজ২৪ চ্যানেল, সময় টিভি, কেডিএস, প্যাসিফিক জিনস, ইয়ংওয়ান, ফিনলে, এমজিএইচ, নাভানা, এমআইডিএএস এবং কেনপার্ক বাংলাদেশ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।
হিসেবমতে, দেশে-বিদেশে ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদ থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের ২০ শতাংশ ব্যাংকে, ১৭ শতাংশ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠানে, ১১ শতাংশ গার্মেন্টসে, ৩ শতাংশ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে, ১০ শতাংশ উদ্যোক্তা হিসেবে এবং বাকিরা বেসরকারি সংস্থা, যেমন, টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি, রিয়েল স্টেট ইন্ডাস্ট্রি, মেরিন এন্ড শিফ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রি, আইটি ইন্ডাস্ট্রি, ট্রেডিং এন্ড সাপ্লাই চেইন, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি এবং হেলথ ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত।
গণিত বিভাগ
চট্টগ্রামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে একমাত্র প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে বেসিক সায়েন্সের মধ্যে গণিত বিভাগে অনার্স পড়ার সুযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালের শুরুতে এই বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. ইফতেখার মনির। আধুনিক বিশ্বের চাহিদার কথা মাথায় রেখে গণিত বিভাগের কারিকুলাম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন এখান থেকে ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষার্থীরা গণিতের তত্ত্বীয় দিকের পাশাপাশি ব্যবহারিক দিকেও যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। সেই লক্ষ্যে গণিতের ৫টি এবং কম্পিউটারের ২টি ব্যবহারিক কোর্স কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞান এবং প্রকৌশলের প্রতিটি শাখায়, এমনকি অর্থনীতি ও ব্যবসা-শিক্ষার বড়ো একটি অংশজুড়ে রয়েছে গণিতের প্রভাব। গণিতে দক্ষতা ব্যতিত উক্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখাসমূহে অবাধে বিচরণ করা বর্তমান আধুনিক বিশ্বে দুরূহ।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখন তৃতীয় বর্ষ শেষ করেছেন। বিভাগটি নতুন হলেও এরই মধ্যে এর অর্জন উল্লেখ করার মতো। ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ গণিত সমিতি ও চুয়েট আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের গণিত অলিম্পিয়াডের মতো প্রতিযোগিতায় এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন।
ইংরেজি বিভাগ
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগ বাংলাদেশে স্বনামধন্য। এই বিভাগ ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বর্তমানে এই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে রয়েছেন জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোহীত উল আলম। এই বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাদাত জামান খান। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের (এঁদের ৫ জন দেশে ও দেশের বাইরে পিএইচডি করছেন) দ্বারা এখানে শুধু ইংরেজি সাহিত্যই পড়ানো হয় না, ইতিহাস, দর্শন, বাংলা সাহিত্য, ভাষা বিজ্ঞান, সমালোচনা সাহিত্য এবং নাটকও পড়ানো হয়। এক্ষেত্রে সহায়তার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক শিক্ষক ও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০টি কম্পিউটার রয়েছে।
ভাষা ও সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যাতে স্বচ্ছন্দে বিচরণ করতে পারেন, এসব পড়ানো হয় সেই কারণে। শিক্ষার্থীদেরকে নাটক পড়ার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে নাটক মঞ্চায়ন ও নাটকে অভিনয়ও করতে হয়। প্রতিটি জাতীয় দিবসে বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত নানারকম সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তাঁদের চমৎকার অংশগ্রহণ থাকে।
এই বিভাগ পড়ালেখার পাশাপাশি এক্সট্রা একাডেমিক এক্টিভিটিস-এর উপর জোর দেয়। একারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কে অংশ নিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
বিভাগটির সবচে’ বড়ো ঐতিহ্য হলো, ১. ২০০৩ সাল থেকে এখানে নিয়মিতভাবে মাসিক সাহিত্য সেমিনার আয়োজন ২. শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল লেখা নিয়ে ‘ব্রিকোলাজ’ নামে প্রতি বছর ম্যাগাজিন প্রকাশ ৩. ‘ক্লাউড-৯’ নামে প্রতি বছর দেয়ালিকা প্রকাশ।
এছাড়াও বলা দরকার, বিভাগ থেকে রিসার্চ জার্নালও প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত দু’টি জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, এই বিভাগে শিক্ষার্থীদের যথাযথ শিক্ষা দানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রয়েছে। একারণে দেখা যায়, এই বিভাগ থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়েছেন। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়া প্রায় ৫০০ জনের নাম জানা গেছে। এঁদের মধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯জন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজে ২০জন শিক্ষকতা করছেন।
৫০ জন ব্যাংকার, ১জন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ১জন আনসার অ্যাডজুটেন্ট অফিসার, ১জন কলেজের কর্মকর্তা, ১জন ইউএনডিপির কর্মকর্তা, ১জন গ্রামীণ ফোনের কমার্শিয়াল এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং ১জন বাংলালিংকে কর্পোরেট অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। ১জন বাহরাইনে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রশিক্ষক এবং আরেকজন জাপানের টোকিওতে জাপান সরকারের রিশিকোশাই ফাউন্ডেশনে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন।
অর্থনীতি বিভাগ
২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে অর্থনীতি বিভাগের সূচনা ঘটে। বর্তমানে এই বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের অর্থনীতি বিষয়ে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের সুবিধার্থে এখানে ৩০ টি কম্পিউটার নিয়ে গঠিত একটি কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার করা হয়। তাদের শিক্ষা প্রদানে সহায়তাকল্পে বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষক ও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য আরও ৩০টি কম্পিউটার রয়েছে।
অর্থনৈতিক সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রায়োগিক শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা প্রদানের উদ্দেশ্যে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রজেক্ট ওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, কম্পিউটারের বিভিন্ন কোর্স করানো হয় এবং মাস্টার্সে থিসিস করানো হয়। এই বিভাগে মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানের কারণে এখান থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের অনেকে দেশ-বিদেশের নানা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্ট্যন্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইউসিবিএল, এসসিবি, ব্যাংক এশিয়া, এনআরবি গ্লোবাল প্রভৃতি ব্যাংকসহ কেনপার্ক বাংলাদেশ, ইয়ংওয়ান, ইউনিসেফ, সেলিম এন্ড ব্রাদার্স, ফোর এইচ গ্রুপ, ওয়াসা (জাইকা প্রজেক্ট), সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কন্টিনেন্টাল শিপিং, ডিভিশনাল কমিশন অফিস-চট্টগ্রাম এবং গো গ্রিন টুর এন্ড ট্রাভেলস প্রভৃতি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করা হয় বলেই এখান থেকে শিক্ষার্থীরা পাশ করে বেরিয়ে যাওয়ার পর দেশে-বিদেশে যোগ্য ও উচ্চ পদে সমাসীন হচ্ছেন, এতে কোন সন্দেহ নেই।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগে যে-সব শিক্ষার্থী ভর্তি হন, তাঁরা দক্ষ শিক্ষকদের কাছে শিক্ষা অর্জনের সুবিধা ছাড়াও এই শিক্ষা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে লাইব্রেরি, ওয়াইফাই (ডরভর), অডিটোরিয়াম এবং এসি সুবিধা পেয়ে থাকেন। ল্যাবরেটরি সুবিধার কথা বিভাগগুলোর বিবরণে বলা হয়েছে। তারপরও অল্প কথায় বলা দরকার যে, বিভাগগুলোতে ৮টি কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। এই ৮টি কম্পিউটার ল্যাব, এছাড়া প্রশাসনিক ভবন এবং বিভাগগুলোর শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য মোট কম্পিউটার সংখ্যা ৫৮০।
ক্লাসরুমে ব্যবহারের জন্য ১০০টি প্রজেক্টর রয়েছে। লাইব্রেরি সুবিধা সম্পর্কে বলতে হয়, এই ইউনিভার্সিটির রয়েছে প্রশংসা করার মতো লাইব্রেরি। প্রবর্তক মোড়ে ইউনিভার্সিটি ভবনের ৩য় তলায় কেন্দ্রিয় লাইব্রেরি অবস্থিত। এর ৪টি সেমিনার লাইব্রেরি রয়েছে আইন বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদ ও অর্থনীতি বিভাগে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও ওয়াইফাই (Wifi) আওতাভুক্ত কেন্দ্রিয় লাইব্রেরি ও সেমিনার লাইব্রেরিসমূহের কার্যক্রম অনলাইনে (KOHA integrated Library management system) সম্পন্ন করা হয়। ইউনিভার্সিটির প্রাতিষ্ঠানিক Repository হিসেবে DSpace (ডিস্পেস) নামক সফটওয়্যারটি ইন্সটল করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত রিসার্চ আউটপুটকে আর্কাইভ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রিয় লাইব্রেরি ও সেমিনার লাইব্রেরিগুলোতে প্রায় ৬০,০০০ গ্রন্থ, ১৫০০ জার্নাল এবং ৭০০ অডিও ভিজ্যুয়াল শিক্ষাসামগ্রী আছে। বলা বাহুল্য, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি এখন ইউজিসি ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং INASP-PERII Consortium–এর সদস্য। ফলে, এই লাইব্রেরির জন্য পৃথিবীর বিখ্যাত পাবলিশার্স, যেমন, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, ইবাসকো (EBASCO), Wiley, Annual Reviews, Brill, IEEE, Emerald, ACM Digital Library, SAGE Journals ইত্যাদির e-journals-এ Access সুবিধা আছে। একারণে ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের পক্ষে লক্ষাধিক e-journals পড়ার এবং E-Books করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি প্রদত্ত আরও সুবিধার মধ্যে রয়েছে, মেরিট স্কলারশীপ, দরিদ্র অথচ মেধাবী এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটা-সহ বিভিন্ন কোটায় প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ওয়েভার প্রদান। ইউনিভার্সিটিতে অগ্নিকান্ড থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অগ্নিনির্বাপক ও প্রতিরোধক যন্ত্রের ব্যবস্থাও আছে। এখন এসব সুবিধার সাথে যোগ হয়েছে ছাত্রীনিবাস।
ছাত্রীনিবাসের বিবরণ
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রী প্রায় ৪৫ শতাংশ। তাই তাঁদের আবাসনের অসুবিধা নিরসনের জন্য নানাভাবে সমৃদ্ধ একটি ছাত্রীনিবাস স্থাপন করা হয়েছে নগরীর সাগরিকা রোডের কাছাকাছি দৃষ্টিনন্দন স্থানে। এতে ১৬০ জন ছাত্রী থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ছাত্রীর জন্য রয়েছে আলাদা খাট ও বিছানা; পড়ার টেবিল ও চেয়ার; নিজস্ব কেবিনেট ও ড্রেসিং টেবিল। প্রতিটি কক্ষেই এটাচ বাথরুম আছে। আরও সুবিধার মধ্যে রয়েছে: ১. লাঞ্চ ও ডিনারের সুব্যবস্থা ২. বিনোদনের জন্য ডাইনিং/লবীতে টিভি ৩. ২৪ ঘন্টা জেনারেটর, ইন্টারকম সুবিধা ৪. নিরাপত্তার জন্য মহিলা আনসার টিমের ব্যবস্থা।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ছাত্রীনিবাসের ছাদ থেকে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুবিধাও রয়েছে।
প্রভোস্ট ও গৃহ শিক্ষক দ্বারা ছাত্রীনিবাসটি পরিচালিত হবে। ইউনিভার্সিটির নিজস্ব বাসে করে ছাত্রীরা ছাত্রীনিবাস থেকে ইউনিভার্সিটিতে এবং ইউনিভার্সিটি থেকে ছাত্রীনিবাসে যাতায়াত করার সুবিধা পাবেন।
একটা কথা এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে মানসম্মত উচ্চ শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, ক্রীড়া ও বিজ্ঞান-সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার লক্ষ্যে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠান, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়। না বললেই নয়, ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদে কর্পোরেট কর্মকর্তারা নিয়মিত এসে শিক্ষার্থীদের কাছে সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভবিষ্যত পরিকল্পনা হলো, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গাইডেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে এদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা। (সমাপ্ত)