আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি

শামসুল আরেফীন

28

আন্তর্জাতিক মানের উচ্চ শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও অঙ্গীকার নিয়ে ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। উদ্যোক্তা প্রাক্তন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুরুতে ২টি অনুষদের অধীনে বিভাগ ছিল ৩টি। বর্তমানে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ৬টি অনুষদের অধীনে ১০টি বিভাগ। এছাড়া প্রবর্তক মোড়ের দু’টি ভবন ছাড়াও দামপাড়ায়, হাজারি লেইনে, জিইসি-র মোড়ে আরও তিনটি সুবিশাল ও সুদৃশ্য ভবন রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুসারে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাসের সব শর্ত পূরণ করায় ইউজিসি এবং শিক্ষামন্ত্রণালয় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে পাঠদানে নিয়োজিত প্রতিটি ভবনকে অনুমোদিত স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা করেছে অনেক আগে। এই ঘোষণা সংক্রান্ত চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিকে অভিনন্দনও জানিয়েছে স্থায়ী ক্যাম্পাসের শর্ত পূরণ করে অনুমোদিত স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাপ্ত হওয়ায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি কর্তৃক ঘোষিত প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভবনসমূহে যে-সব বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে, প্রতিটি বিষয়ও ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ১০ টি বিভাগের অধীনে ১৪ টি প্রোগ্রাম হলো ১.ব্যাচেলর অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (বি.বি.এ.) ২. ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ৩. ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ইলেক্ট্রিকাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ৪. ব্যাচেলর অব আর্টস (অনার্স) ইন ইংলিশ ৫. ব্যাচেলর অব ল’স এলএল.বি. (অনার্স) ৬. ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ৭. ব্যাচেলর অব সায়েন্স (অনার্স) ইন ম্যাথমেটিক্স ৮. ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স ইন ইকোনোমিক্স ৯. মাস্টার অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (এম.বি.এ.)-২বছর ১০. মাস্টার অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (এম.বি.এ.)-১বছর ১১. এক্সিকিউটিভ মাস্টার অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (ই.এম.বি.এ.)-১ বছর ৬ মাস ১২. মাস্টার অব আর্টস ইন ইংলিশ ১৩. মাস্টার অব সোশ্যাল সায়েন্স ইন ইকোনোমিক্স ১৪. মাস্টার অব ল’স (এলএল.এম.) ।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ২০৬ জন স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং ১৩০ জন অতিথি শিক্ষক মিলে মোট ৩৩৬ জন শিক্ষক প্রায় ১০,০০০ শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করছেন। এসব শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই বিদেশে ডিগ্রিপ্রাপ্ত, আবার অনেকেই পিএইচডি হোল্ডার। ফলে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সাফল্যও উল্লেখযোগ্য। এ-ক্ষেত্রে বিভাগগুলোর বিবরণ ও সাফল্য তুলে ধরা দরকার।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞানের আধুনিকতম শাখা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। একে তথ্য-প্রযুক্তির মূল চালিকা শক্তি বলা হয়। সময়োপযোগী শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ইউনিভার্সিটি ২০০২ সালে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ চালু করে। বর্তমানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও এই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. তৌফিক সাঈদ।
এই বিভাগে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদানের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলি ছাড়াও রয়েছে প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা। যেমন, এখানে ২০০টি কম্পিউটার নিয়ে গঠিত ৫টি কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রয়েছে ২টি সার্কিট ও ইলেকট্রনিক্স, ১টি কমিউনিকেশন এবং ১টি মাইক্রোপ্রসেসর ল্যাব। এছাড়াও প্রত্যেক শিক্ষক ও অফিসে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য আরও ৪০টি কম্পিউটার রয়েছে।
এই বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন ধাপে রিভিউর মাধ্যমে একটি উন্নত কারিকুলাম শিক্ষা দানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
এখানকার শিক্ষার্থীরা এই কারিকুলামের ভিত্তিতে শিক্ষা অর্জন ছাড়াও বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে থাকেন। তাঁরা জাতীয় পর্যায়ের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, ন্যাশনাল উইমেন হেকাথন, গেমিং কনটেস্ট-এ অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
এই বিভাগ থেকে আজ পর্যন্ত পাশ করে বেরিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রচুর। এঁদের অনেকে কোরিয়া, জাপান, সুইডেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, স্পেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স কমপ্লিট করে সেসব দেশে চাকরি করছেন। এঁদের মধ্য থেকে ১ জন ফ্রান্স থেকে, আরেকজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ১জন ছাত্র ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি)-র মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ১ জন শিক্ষার্থী বিশ্বের সবচে’ বড়ো প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফ্টে প্রোগ্রামার হিসেবে আছেন। ১জন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়স স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে, আরেকজন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এছাড়া দেশে সরকারি-আধা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগে উচ্চ পদে অনেকে কর্মরত আছেন। এক্ষেত্রে গ্রামীণ ফোন, রবিএক্সিয়াটা, বাংলালিংক, আমরা নেটওয়ার্ক, হ্যালো ওয়ার্ল্ড-সহ ব্যাংক, বীমা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সামরিক প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগেও অনেকে কাজ করছেন।
ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
আধুনিক বিশ্বে তথ্য-প্রযুক্তি থেকে শুরু করে উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিনোদনের মাধ্যম ইত্যাদি সবকিছুরই চালিকা শক্তি ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালের জানুুয়ারি মাসে। বর্তমানে এই বিভাগের চেয়ারম্যান টুটন চন্দ্র মল্লিক। মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে সার্কিট ল্যাব, ইলেকট্রনিক ল্যাব, মেশিন ল্যাব, পাওয়ার ল্যাব, কমিউনিকেশন ল্যাব, ফিজিক্স ল্যাব, কেমিস্ট্রি ল্যাব, কন্ট্রোল সিস্টেম ল্যাব ও মাইক্রো কন্ট্রোলার ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সকল ল্যাব এই বিভাগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে দুইশতাধিক কম্পিউটার নিয়ে গঠিত ৫টি কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার করা হয়। এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা মূলত পাওয়ার, কমিউনিকেশন ও ইলেকট্রনিক্স মেজরসমূহ নিয়ে পড়ালেখা করে থাকেন। শেষ বর্ষে এসে একটি প্রজেক্ট/থিসিস কর্ম সম্পাদন করেন। এতে তাঁদের ৪ বছরের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার প্রতিফলন ঘটে। তাঁরা অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর এবং ট্রেনিং-এ অংশগ্রহণ করে থাকেন। যেমন, নরসিংদিস্থ টিআইসিআই-তে তাঁরা মাসব্যাপী নিয়মিত প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ পর্যন্ত জেলা ও বিভাগভিত্তিক এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়, যেমন, ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা, রোবটিক্স প্রতিযোগিতা ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
এই বিভাগ থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের সফলতা উল্লেখ করার মতো। এঁদের ১জন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু (চধৎফঁব) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করে ওখানে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে, ১জন জার্মানির সেইগেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং আরেক জন জার্মানির ব্রেমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করে জার্মানিতেই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। দেশের বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রি, ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন প্রায় ২০০জন। ৬/৭জন নিজস্ব কনসাল্টিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ফার্ম পরিচালনা করছেন। ২জন পিডিবি-তে, ৩জন পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করছেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগে শিক্ষকতা করছেন ৫জন। কানাডার কিউবেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩জন সফলতার সাথে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছেন। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ব¦বিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছেন ২০জন।
আর্কিটেকচার বিভাগ
চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে একমাত্র প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এই বিভাগ রয়েছে। ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি এই বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এই বিভাগের চেয়ারম্যান সোহেল এম শাকুর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত স্থাপত্য শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অর্জনের সুবিধার্থে এখানে রয়েছে ১০টি ডিজাইন স্টুডিও, জুরি স্পেস ও ৩টি থিওরি রুম প্রভৃতি। প্রতিটি ডিজাইন স্টুডিওতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য নিজস্ব ডিজাইন টেবিল, আলাদা কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সব সুবিধা রয়েছে। থিওরি রুমে প্রজেক্টরের ব্যবস্থা আছে। অচিরেই ১টি হেরিটেজ ল্যাব, ১টি সেমিনার রুম ও ১টি এনভাইরোনমেন্ট ল্যাব তৈরি হচ্ছে।
এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছেন। এই বিভাগ গবেষণায়ও রাখছে অবদান। ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর থেকে ০১ মাস ব্যাপি ডেনমার্কের রয়েল ডেনিশ একাডেমির আর্কিটেকচার বিভাগের ৩ জন শিক্ষক ও ২৮ জন শিক্ষার্থী প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ক্রিটিকাল সাসটেইনেবিলিটি চিটাগং’ নামক প্রজেক্টের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি আর্কিটেকচার বিভাগে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে রয়েল ডেনিশ একাডেমি পরবর্তীতে এই আর্কিটেকচার বিভাগ ও চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনীরও আয়োজন করে। এই বিভাগ থেকে পাশ করে বেরিয়ে যাওয়া একটি মাত্র ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনেকে গ্রে স্কেল, স্টাইল লিভিং, ডিজাইন ড্রাইভ, অ্যালাইন আর্কিটেক্টস ও রাস্ এসোসিয়েটস প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
আইন বিভাগ
২০০৩ সালের জুলাই মাসে আইন বিভাগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই অনুষদে ও বিভাগে দীর্ঘকাল ধরে অ্যাডজাঙ্কট ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রাক্তন ডিন প্রফেসর ড. মো. মোরশেদ মাহমুদ খান। বর্তমানে এই বিভাগের চেয়ারম্যান তানজিনা আলম চৌধুরী। বিভাগটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানসম্মত ও সর্বাধুনিক কারিকুলামের ভিত্তিতে অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ এখানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদান করছেন। এক্ষেত্রে সহায়তার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক শিক্ষকের, এছাড়া অফিসে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য ৩০টি কম্পিউটার রয়েছে। এছাড়াও বিভাগে রয়েছে ‘ডিবেট ক্লাব অব ল’ এবং ‘মুট কোর্ট ক্লাব’, যা শিক্ষার্থীদের বিতর্ক ও বিভিন্ন ধরনের আদালতের প্রক্রিয়ার সাথে পরিচিত করে। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহে সেমিনার, প্রজেক্ট প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। এতে দেয়ালিকা প্রকাশ করা হয়। তাঁরা ‘জ্যুরিস্ট’ নামক একটি ম্যাগাজিনও প্রকাশ করে থাকেন।
শীতকালে দরিদ্রদের মধ্যে শীতবস্ত্র প্রদান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে এই বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দেন। তাঁরা সাধারণ মানুষকে আইন সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে কমিউনিটি সার্ভিসও প্রদান করেন।
বস্তুত যথাযথ আইন শিক্ষা, পাশাপাশি মানবিক শিক্ষা প্রদানের কারণে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ বাংলাদেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে অগ্রগণ্য। এই বিভাগ বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছে। এই বিভাগ থেকে বেরিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ২৫ জন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ব¦বিদ্যালয়ে আইন বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। ১৯ জন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনে বিচারক হিসেবে কর্মরত আছেন। সুপ্রিম কোর্টে ২৫০ জনসহ বিভিন্ন কোর্টে আট শতাধিকজন আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত আছেন। বস্তুত বাংলাদেশের অন্য কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের মতো সফল নয়।
(চলবে…)