আনোয়ারায় শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী লিয়াকত আটক

আনোয়ারা প্রতিনিধি

23

অবশেষে পুলিশের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন পারকি বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি ও শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী খান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। গত শনিবার রাতে পারকি বাজারের উত্তর পাশ থেকে একশটি ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।
তিনি স্থানীয় দুধকুমড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের পুত্র। তার বিরুদ্ধে গতকাল আনোয়ারা থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ জানান, আটক লিয়াকত একজন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছিল পুলিশ। কিন্তু সে বিভিন্ন জায়গায় লোক লাগিয়ে রাখায় অভিযানের খবর পেয়ে বেশ
কয়েকবার পালিয়ে যায়। ঈদের পর থেকে তাকে ধরার জন্য পুলিশ মাঠে নামে।
তিনি জানান, ইয়াবা ব্যবসায় তার জড়িত থাকার সকল তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে গত শনিবার রাতে সোর্সের মাধ্যমে বিক্রি করার সময় একশটি ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লিয়াকত তার বাবার পরিবার থেকে আলাদা হয়ে বসবাস করেন। পারকি সৈকতে লিয়াকতের মালিকানাধীন তিনটি দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানে রয়েছে গোপন কক্ষ। আর সে গোপন কক্ষে চলে মদ, ইয়াবা ও অনৈতিক সব কর্মকান্ড। গত ১০ বছরেরও অধিক সময় তিনি পারকি সৈকতে এসব ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
পারকি সৈকতে দোকান করার আগে তার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু বর্তমানে পাকাবাড়ি, গাড়ি ও জমি-জমার মালিক। এ ব্যবসায় জড়িত হওয়ার পর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শিক্ষিত ও স্মার্ট হওয়ার সুবাদে সৈকতে বেড়াতে আসা যুবকদের সাথে সহজে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী গোপন কক্ষ ভাড়া দিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডের সুযোগ করে দেন। তিনি স্কুল-কলেজের বিপথগামী অনেক শিক্ষার্থীকে নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের মাধ্যমে মদ, ইয়াবা ও অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। শুধু তাই নয়, সৈকত ও এর আশপাশের এলাকায় মাদকের আড়তদারিও তার হাতে বলে জানা যায়।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় মাদকের এক শীর্ষ গডফাদারের ছত্রছায়ায় লিয়াকত মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করেন। গত শনিবার রাতে তিনি আটক হওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিশেষ মহলের তদবির শুরু হয়। কিন্তু পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি।