আনোয়ারা প্রতিনিধি

আনোয়ারায় বৃহত্তম জশনে জুলুস

92

 

মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মধ্যদিয়ে গতকাল শনিবার আনোয়ারায় অনুষ্ঠিত হয়েছে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)। জুলুসে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি শরিক হন। জুলুসটি হামদ, নাত, জিকির সহকারে উপজেলার অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামা’আত, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা, ছাত্রসেনা গত কয়েক বছর ধরে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন উপলক্ষে এ জুলুসের আয়োজন করে। আনোয়ারা ছাড়াও পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও আশাপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা এতে যোগ দেন। দুপুর ২টায় আনোয়ারা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে দুই শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে যাত্রা শুরু করে জুলুস মালঘর, খাসখামা, সওারহাট আনোয়ারা, কালাবিবির দীঘি, সেন্টার, চৌমুহনিসহ গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কালাবিবির দীঘি মোড়ে সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়।
জুলুসে নেতৃত্ব দেন বারীয়া দরবারের পীর সৈয়্যদ মুহাম্মদ বদরুদ্দোজা বারী। প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এমএ মতিন। উদ্বোধক ছিলেন মাওলানা

ওষখাইন আলীনগর দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহ সুফী ইলিয়াছ রজা।
মাওলানা এসএম শাহজাহানের সভাপতিত্বে ও মুফতি কাজী শাকের আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় জুলুস পরবর্তী সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা জুলফিকার আলী চৌধুরী মুফতি বখতিয়ার উদ্দিন আল কাদেরী।
উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফ্রন্ট নেতা মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন সিদ্দিকী, মাস্টার মুহাম্মদ এয়াকুব আলী, ডিআইএম জাহাঙ্গীর আলম, মুজিবুর রহমান, মাস্টার আবদুল হালিম, মাওলানা মুজিবুল হক চিশতী, নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।
সমাবেশে দরবারে বারীয়ার পীর সৈয়্যদ মুহাম্মদ বদরুদ্দোজা বারী বলেন, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শান্তি স¤প্রীতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত নাস্তিক্যবাদ। ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ানোর পাঁয়তারার বিপরীতে সুন্নি ওলামা জনতা ও বুদ্ধিজীবীদের ইসলামের সূফিতাত্তি¡ক মানবতাবাদী দর্শন, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংগঠনিক উপায় তুলে ধরতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা এমএ মতিন বলেন, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক মুসলিম রোহিঙ্গা নির্যাতন বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছে। সে দেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের সকল প্রকার নাগরিক ও মানবিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের কোনো মুসলমান বসে থাকতে পারে না। আমাদের সবাইকে এই গণহত্যার প্রতিবাদে আরও সোচ্চার হতে হবে।
তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের প্রতি যে মানবিকতা দেখিয়েছে, তা রোল মডেল হয়ে থাকবে। এখন কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
শাহ সুফী ইলিয়াছ রজা বলেন, ইসলামকে ধ্বংস করতে ইহুদিরা সারা বিশ্বে নানা ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্রেও বিরুদ্ধে মুসলমানদের সোচ্চার হতে হবে।