আজ রাঙ্গুনিয়া হানাদারমুক্ত দিবস

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

29

আজ ১৫ ডিসেম্বর হায়েনাদের দখল থেকে মুক্ত হয়েছিল রাঙ্গুনিয়া। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করে। এ উপজেলায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল রাঙ্গুনিয়া আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, রাণীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, কোদালা চা বাগান, পোমরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কর্ণফুলী নদীর তীরে বনবিভাগের সরফভাটার চিরিঙ্গা বনবিট কার্যালয়।
১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা এ সব ঘাঁটি থেকে তল্পিতল্পা নিয়ে নীরবে সরে পড়ে। ডিসেম্বরের শুরু থেকে মুক্তিযোদ্ধারা সহকারী সেক্টর কমান্ডার অশোক মিত্র কারবারির তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে কোদালা চা বাগানসহ শিলক, পদুয়া ও সরফভাটার পাহাড়ি এলাকায় হানাদার বাহিনীর ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে চতুর্দিকে অবস্থান নেয়। ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে চারদিক থেকে একযোগে আক্রমণ চালায়। ফলে পরদিন ১৫ ডিসেম্বর তারা রাঙ্গুনিয়া ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার খাইরুল বশর মুন্সি বলেন, ১৪ ডিসেম্বরের অপারেশনে হানাদার বাহিনীর শতাধিক সৈন্য গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। তাদের মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। আক্রমণের মুখে পাকিস্তানী অন্যান্য সৈন্যরা ভোরে ক্যাম্প ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি ঘরবাড়ি ও রাণীরহাট বাজারে অগ্নিসংযোগ করে। ওইদিন সংঘর্ষে আবদুস ছোবহান, মতিউর রহমান, বিপুল দাশ, ফণী মহাজন, মোহন বাঁশি, রাতুল বড়ুয়া, বাবুল মুৎসুদ্ধি, সায়ের আহমদ, নাজের শাহ, আবুল কাসেম, বশির আহমদ, দৌলত মিয়াসহ প্রায় ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেন।
পাকিস্তানি সৈন্যরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মরিয়মনগরের বড় হুজুরের দীঘির পাড়ে মাটি চাপা দেয়। এর আগেও রাজাকার আল বদরদের সহায়তায় ওই স্থানে শহীদ আহমদ শাহ ও মোহাম্মদ শাহসহ এলাকার অনেক মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছিল হানাদাররা। বর্তমানে ওই স্থানটি গণকবর হিসেবে চিহ্নিত। ১৫ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাতীয় পতাকা উড্ডয়ন করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে স্বাধীনতাকামী মানুষ রাঙ্গুনিয়ায় বিজয় মিছিল বের করেন। সকাল সাড়ে ৭টার পর মুক্তিযোদ্ধারা ঘাঁটিগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এভাবেই ১৫ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় রাঙ্গুনিয়া।