আজ আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস

5

আজ আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী প্রকাশ মহাত্মা গান্ধীর জন্মবাষির্কীও। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভারতের আনীত প্রস্তাবে সর্বসম্মতিক্রমে মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবস ২ অক্টোবরকে ‘আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে গান্ধীজীর অস্ত্র ছিল অসহযোগ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ। তিনি অহিংস ও সত্যাগ্রহ আন্দোলনের দ্বারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে পরাজিত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তাঁর বিভিন্ন আন্দোলনের ভিত্তি ছিল অহিংসা। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, তাঁর আত্মত্যাগ, তাঁর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি অঙ্গীকার এই যুগেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি বলে গেছেন, ‘Be the change you want to see in the world’- অর্থাৎ আপনি নিজের সেই পরিবর্তন হন যা আপনি সারা বিশ্বের সবার মধ্যে দেখতে চান।
নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ও আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রথম প্রেসিডেন্ট আলবার্ট লুসিলিসহ অনেক মহান নেতা স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য তাদের আন্দোলনকে পরিচালনা করতে অহিংস দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
চট্টগ্রামে মহাত্মা গান্ধীর আগমন ঘটেছিল দুইবার। প্রথমবার তাঁর আগমন ঘটেছিল ১৯২১ সালের ৩১ আগস্ট এবং পরেরবার এসেছিলেন ১৯২৫ সালের ১২ মে। ইতিহাসের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রামের অগ্রণী ভূমিকায় অভিভূত হয়ে তখন মহাত্মা গান্ধী লিখেছিলেন- ‘Chittagong to the fore’- সবার আগে চট্টগ্রাম।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, গান্ধীজী নোয়াখালী জেলাতেও ঘুরে গেছেন। তখন প্রায় চারমাস অবস্থান করেন তিনি। এসময় তিনি সেখানে অসংখ্য গ্রাম সফর করেন। তাঁর উপস্থিতি, শান্তির প্রচেষ্টা এবং উভয় সম্প্রদায়ের জন্য তাঁর স¤প্রীতির বাণী বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। নোয়াখালীতে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত গান্ধী আশ্রমের কথা সকলেই মনে রেখেছেন।
১৯৪৮ সালের ৩০ শে জানুয়ারি দিল্লীতে আততায়ীর গুলিতে গান্ধীজি মৃত্যবরণ করেন। গান্ধীজীর মৃত্যুর পর বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন,
‘Generations to come, it may well be, will scarce believe that such a man as this one ever in flesh and blood walked upon this Earth’।
গান্ধীজি অদ্বিতীয়, অপ্রতিরোধ্য এবং পথ প্রদর্শক। সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার জন্য গান্ধীবাদি দর্শন আজকের দিনেও খুবই প্রাসঙ্গিক।
বর্তমান সময়ে গান্ধীজীর দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করা হয়েছে যা ভারতীয় হাইকমিশননের ওয়েবসাইট ও অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে রয়েছে। তথ্যচিত্রটি দেখতে এবং লিংকে পরিদর্শন করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি