রবি-দৃষ্টি ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্বোধনে মেয়র

আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর পথ প্রদর্শক

নিজস্ব প্রতিবেদক

8

‘রবি-দৃষ্টি ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৯’ গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ বির্তক প্রতিযোগিতা চলবে। গতকাল সকালে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ৮ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এতে অতিথি ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পিআইবি চেয়ানম্যান আবেদ খান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্য ও রবির চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ শাহেদ আলম।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আগামী প্রজন্মের পথ প্রদর্শক হবে আজকের বিতার্কিকরাই, এরা সবাই যুক্তিবাদী এবং যুক্তির তীক্ষèতাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির আশাপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে ডেঙ্গুর মত রোগ থেকে নিজেকে যেমন দূরে রাখতে পারবে, তেমনি পরিবারকেও সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।
তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লোগো আঁকা প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য ‘দৃষ্টি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে পরামর্শ দেন। একই সাথে বিজয়ী সেরা প্রতিযোগীকে তার পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন।
পিআইবির চেয়ারম্যান আবেদ খান বলেন, আগস্ট মাস জাতীয় শোকের মাস। এই মাসেই আমরা শোককে শক্তিতে পরিণত করার চেষ্টা করব। আর এর অন্যতম এক মাধ্যম হতে পারে বিতর্ক। তিনি বলেন, ‘হারতে না জানলে জেতা যায় না। বিতর্কে অংশগ্রহণকারী সবাই জিতবে এমনটা না। তাই হারলে হতাশ না হয়ে জেতার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ১৮ মিনিটের ভাষণই আমাদের স্বাধীনতার দ্বার খুলে দিয়েছে। আমাদেরকে দিয়েছে একটি স্বাধীন দেশ। আর এই স্বাধীন দেশের পতাকার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে আগামী প্রজন্মকে।
রবির চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ শাহেদ আলম বলেন, বই হারাবে না, পত্রিকাও হারাবে না শুধু মাধ্যমগুলো পরিবর্তন হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আজ ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন বুক ও অনলাইন পত্রিকাগুলো। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে তবুও সেগুলো ছাপিয়ে ইতিবাচক দিকগুলোই আমাদের গ্রহণ করা উচিত।
বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আগের দিনে তথ্য বিনোদন ও শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম ছিল বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন। বর্তমানে অনেক মাধ্যমের প্রসার ঘটেছে। তাই প্রতিযোগিতাও অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র কর্মসময় বাড়িয়ে এবং অনুষ্ঠানের মানোন্নয়ন করে দর্শকের চাহিদা পূরণে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার ৪৮টি স্কুল নিয়ে আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা। যা সম্প্রচার হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে।
সভাপতির বক্তব্যে দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি মাসুদ বকুল বলেন, এই প্রজন্মের শিক্ষার্থী অনেক বেশি মেধাবী, দক্ষ ও যুক্তিনির্ভর। যদি আমরা চট্টগ্রামকে নিয়ে কিছু করি সেটা হবে বাংলাদেশের অর্জন। চট্টগ্রামকে যেভাবে বিলবোর্ড মুক্ত করা হল, দেশের সব শহর যদি এটা অনুসরণ করে তাহলে আমরা সুন্দর বাংলাদেশ পাব।
উল্লেখ্য, রবি দৃষ্টি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এবার স্কুল বিতর্কের ২৭তম এই আয়োজনে চট্টগ্রামের ৩৬টি স্কুল, ১৬তম বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কে সারা দেশের ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৭তম কলেজ বিতর্কে সারা দেশের ১৬টি কলেজ অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনাতনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্যে রাখেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহ সভাপতি সাইফ চৌধুরী, লেখক ও সাংবাদিক শওকত বাঙ্গালি, প্রাক্তন বিতার্কিক, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিযোগিতা কমিটির আহবায়ক শামসুল তাবরিজ সনেট, দৃষ্টির সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাবের শাহ, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন মুন্না ও প্রতিযোগিতা কমিটির সমন্বকারী কাজী আরফাত।