এবারও এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস!

আগের মতো এবারও প্রশ্ন এসেছে ফেসবুকে পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা আগে

পূর্বদেশ ডেস্ক

93

কঠোর নিরাপত্তা, শিক্ষামন্ত্রীর শক্ত পদক্ষেপ আর কড়া হুঁশিয়ারিতেও কোনো কাজ হয়নি; এবারও এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দিনই বাংলা প্রথমপত্র প্রশ্ন ফাঁস হলো। আগের মতো এবারও প্রশ্ন এসেছে ফেসবুকে এবং তা পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা আগে! তিন ঘণ্টার পরীক্ষা দুপুর ১ টায় শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফেসবুকে আসা প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়। বিষয়টি জানানো হলেও শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কথা মানতে নারাজ। বৃহস্পতিবার সারাদেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এসএসসিতে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে হচ্ছে সব বোর্ডের পরীক্ষা।
গত বছর এসএসসির পর জেএসসি এমনকি প্রাথমিক সমাপনীর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত কিছু দিন ধরে কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা থেকে ২৫ মিনিট আগে একাধিক ফেসবুক ও মেসেঞ্জার গ্রæপে উত্তরসহ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন পাওয়া যায়। পরীক্ষা শুরুর ঠিক ২৪ মিনিট আগে ‘@@@@ নধহমষধ ২হফ চধঢ়বৎ @@@@@’ নামে একটি মেসেঞ্জার গ্রæপে ইমেজ আকারে আসে বাংলা প্রথম পত্র ‘খ’ সেট বহুনির্বাচনী প্রশ্ন। ষ পৃষ্ঠা ১১, কলাম ৫
ষ প্রথম পৃষ্ঠার পর

তা বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যায়।
প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এবার পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলেও তাতে শৈথিল্যই দেখা গেছে।
সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে সরকারি ল্যাবরেটরি বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ‘সব ধরনের পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা বাতিল করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। নাহিদ বলেছিলেন, ‘আমরা খুবই ডেসপারেট, খুবই অ্যাগ্রেসিভ এ (প্রশ্ন ফাঁস) বিষয়ে। যদি কোথাও কেউ কোনোভাবে প্রশ্ন ফাঁসের চে’া করে, তিনি কোনোভাবেই রেহাই পাবেন না। কী হবে, আমিও সেটা ধারণা করতে পারি না। চরম একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইলে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমারকে জানালে তিনি বিডিনিউজকে জানান, ‘নিউজ করতে চাইলে করেন, যা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই নিয়েছি। আমরা জানি প্রশ্ন ফাঁস হয়নি’। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আর কোনো মন্তব্যই করতে রাজি হননি তিনি।
যেভাবে মিলল প্রশ্ন :
‘চঝঈ ক্স ঔঝঈ ক্স ঝঝঈ ক্স ঐঝঈ ঊীধস ঐবষঢ়রহম ঈবহঃবৎ’ নামক একটি ফেসবুক গ্রæপে ১ ফেব্রæয়ারি রাত ১২ টা ৪৯ মিনিটে ঝধফরধ ওংষধস ঝবঃঁ নামক ফিসবুক আইডি থেকে প্রশ্ন ফাঁসের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পোস্টে লেখা হয় ‘ঝঝঈ ছ ২০১৮ ইঅঘএখঅ ১ঝঞ চঅচঊজ ঋজঊঊ ঞঊ উওইঙঔঅউঊজ খঅএইঊ ওঘইঙঢ গঊ’।
ওই ফেসবুক আইডিতে রাত ১২ টা ৫০ মিনিটে মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে ‘@@@@ নধহমষধ ২হফ চধঢ়বৎ @@@@@’ নামক একটি মেসেঞ্জার গ্রæপে যুক্ত হতে বলা হয়। গ্রæপে যুক্ত হওয়ার পর সকাল ৯ টা ৩৬ মিনিটে গউ ঞধসরস কযধহ নামক এক আইডি থেকে ‘খ’ সেটের প্রশ্নের ছবি দেওয়া হয়। একই সাথে হাতে লেখা দু’টি উত্তরপত্রের ছবিও দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে ঝধফরধ ওংষধস ঝবঃঁ নামের সেই ফেসবুক আইডি থেকে পরবর্তী প্রশ্ন ফাঁসের কথা জানিয়ে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। ‘শুনো সবাই আজকে আমরা জাস্ট দেখলাম যে কাজ হবে কি না, এখন শিওর যে কাজ হবে। আর আজকে রাতে তোমাদের ৩ সেট রিটেন দিয়া দিমু ওইগুলা পড়লেই কমন আর গঈছ সকালে ৮.৩০ থেকে ৯.০০ টার মধ্যে আন্সারসহ দিমু।।।। আশা করি সবাই বুঝতে পারছো।।।।।।।।’।
প্রশ্ন মূল্য ৩০০/- মাত্র
প্রশ্ন নিতে চাইলে অউগওঞ ঈঅজউ ঊজ ছবি দেন অথবা ২০০/- অউঠঅঘঈঊ’। মেসেঞ্জার গ্রæপ ছাড়াও বিভিন্ন ফেসবুক গ্রæপ ঘেঁটেও প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মিলেছে। ‘চঝঈ ঔঝঈ ঝঝঈ ঐঝঈ জবধষ ছঁবংঃরড়হ ঙঁঃ অষষ ইড়ধৎফ ১০০% ঈড়সসড়হ’, ‘ঝঝঈ ছঁবংঃরড়হ ঙঁঃ’, ‘ঝঝঈ ছঁবংঃরড়হ ঙঁঃ ১০০% ঈড়সসড়হ অষষ ইউ ্ জবুঁষঃ ঈযধহমব ২০১৮+১৯+২০অষষ ইড়ধৎউ’ নামে ফেসবুক গ্রæপগুলোতেও প্রশ্ন ইমেজ আকারে পরীক্ষার আগেই দেওয়া হয়েছে।