আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু

150

তুমি নেই আছে শুধু তোমার স্মৃতি রেখে যাওয়া আদর্শ। ভুলি নাই ভুলবো না আজীবন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর যিনি আওয়ামীলীকে সু-সংগঠিত করেছেন আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের কাÐারি মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। তিনি একাধারে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি শিক্ষানুরাগী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মহলে পরিচিতি করেন। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ৭৭ জাতি ব্যবসায়ী সমিতির ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আমি তাঁর সান্নিধ্যে এসে দীর্ঘ ২৬ বছর পাশে ছিলাম। আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মত বড় মাপের মহৎ হৃদয়বান জাতীয় নেতার সাহচর্য লাভের সুযোগ হয়েছে। বিশ্বস্থতার সহিত মৃত্যুর আগ পযর্ন্ত তার অভিভাবকত্বে তাঁর সহিত জনগণের সেবামূলক কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তাঁকে নিবিড়ভাবে দেখেছি, মিশেছি। সুখ, দুঃখের সঙ্গী হয়েছি। আমি দেখেছি, তাঁর মধ্যে এক নরম প্রকৃতির হৃদয়, মানুষকে ভালবাসার উদার মন-মানসিকতা। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সমস্ত লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসা¤প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রসৈনিক অর্থ সরবরাহকারী ছিলেন, তিনি স্বাধীনতা উত্তর কালের সেই সব বিরল রাজনীতিবিদের অন্যতম। যিনি আওয়ামীগের দুঃসময়ে হাল ধরেছেন, রাজনীতি করেছেন নিজের অর্থ ব্যয় করেছেন। একটা মানুষের সঙ্গে চলে যায় গোটা একটি পৃথিবী। কথাটি লিখেছেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। আসলে সব মানুষই জীবনে নিজ নিজ ক্ষেত্র গড়ে তোলে আপন আপন ভুবন। আর যার কর্মে কীর্তিতে, মেধায়, মননে, স্নেহ, ভালবাসায় ও সখ্যতায় অন্যন্য স্বাক্ষর রেখে যায়। তারা সারা জীবন ধরে তৈরি করে এক একটি বিচিত্র ও বর্ণিল অনন্য পৃথিবী। অবিনাশী যৌথ স্মৃতির অংশীদার। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা বর্ষিয়ান আওয়ামীলীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিল এমনি এক অসাধারণ মহাপুরুষ। যার সঙ্গে সঙ্গে চলে গেছে বিশাল এক প্রাণবন্ত জগৎ। তিনি বঙ্গবুন্ধুর আদর্শ ধারণ করে সংগঠন ও জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর জীবনী থেকে নতুন প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে। জীবনে অনেকবার মন্ত্রীত্বের সুযোগ পেয়েও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হয়নি। তিনি অত্যন্ত দুরদর্শী ও বিচক্ষণ রাজনীতির ধারক ছিলেন। চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগের অভিভাবক ও ধারক বাহক ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন রাজকীয় এবং বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। রাজনীতিতে যেমন ব্যবসা, ব্যাংক, বীমা ও শিল্প স্থাপনে তিনি ছিলেন একজন উচ্চ মাপের সফল ব্যক্তিত্ব। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নেতা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তাঁর অবদান অপরিসীম। যেকোন কঠিন সময়ে দলের জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত এক কর্মী। ক্রমেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগের একজন অভিভাবক। তাঁর মৃত্যু চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগকে শুধু অভিভাবকহীন করেনি, দেশের সামগ্রীক রাজনীতিতে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। যদিও তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তবুও তিনি আমাদের অন্তরে চির জাগ্রত। প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে। ১৯৪৫ ইংরেজি ৩ মে আনোয়ারা উপজেলা হাইলধর গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাহার পিতার ছিলেন এডভোকেট আলহাজ্ব নূরজ্জামান চৌধুরী, মাতার নাম খোরশেদা বেগম। ২০১২ ইংরেজি ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুর এক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৮৬ ইংরেজীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আমরা উনার সাথে পরিচয় হই, আমার বাড়ীতে নির্বাচনী গণসংযোগ করতে গিয়ে আমার ঘরে যাই, আমার বাবা মরহুম নুরুল হক চৌধুরীকে বলেন, তোমার ছেলেকে আমার দরকার। ১৯৮৬ ইংরেজিতে আমি নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ এর সাথে জড়িত ছিলাম। সংসদ নির্বাচন ১০ দিন আগে আমার খালু বর্তমান উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মরহুম নুরুল আলম চৌধুরী ও আমার বাবার অনুরোধ মরহুম নুরুল আলম চৌধুরী ও আমার সাথে সার্সন রোড়ে বাসায় সন্ধ্যা ৭.০০ টাই যাই। উপর থেকে বাবু ভাই নিচে নেমে ঘুরে আসলে আমি তার পা, ধরে কদমবুচি করি, তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন তুমি আমার আত্মীয়, তুমি কেন অন্য দল করবে, আমি বললাম ঠিক আছে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ করব। ১৯৮৬ ইংরেজিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর একদিন বাবু ভাই এর বান্ডেল রোড় বশিরুজ্জামান চেম্বার অফিসে ডাকে, আমি ডাকে যাই। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমাকে ভিতরে যেতে বলে, আমি ভিতরে যাই, ভিতরে গিয়ে দেখি বর্তমান সিটি মেয়র আ.জ.ম নাসির ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নুরুল হাকিম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মরহুম নুরুল আলম চৌধুরী এমপি, বাবু ভাই তখন নুরুল আলম চৌধুরীকে বলেন তোমার ভাগিনা এসেছে। আমার হাতে একটি খামের ভিতর ১০ লক্ষ টাকার চেক দেন। আমি তা নিয়ে আমার বাবার সাথে দেখা করি। আমার বাবা চেক ফেরত দিতে বললে আমি সন্ধ্যায় তার বাসায় গিয়ে চেকখানা ফেরত দিলাম। আমি বলেছি আমি ব্যবসা বুঝি না টাকা দিয়ে কি করব। তারপর বাবু ভাইকে আমি দাবি করলাম আপনি আমাকে কিভাবে দেখবেন। বাবু ভাই বলিলেন ওনার ছেলে-মেয়েদের মতো দেখবে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেভাবে দেখেছে, কোন দিন আমাকে ভুলেনি ওনার সান্নিধ্যে এসে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। খ্যাতি, পরিচিতি, ভালবাসা, সম্মান, অনেক কিছু, বাবু ভাই আমাকে ইউসিবিএল এ চাকুরী প্রদান করেন। আমি বাবু ভাই এর লোক হওয়াতে ১৯৯৩ ইংরেজি চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেন। আমি বাবু ভাই বড় ছেলে মাননীয় ভূমিমন্ত্রী ও আনোয়ারা কর্ণফুলী হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী (জাবেদ), মেঝ ছেলে দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও বানিজ্য সম্পাদক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড এর (ইসি) চেয়ারম্যান আনিছুজ্জামান চৌধুরী রনি ও ছোট ছেলে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড এর (পরিচালক) আসিফুজ্জামান চৌধুরী জিমি ওনাদের বাবার মত পরিবারের একজন মনে করে, ইহা আমার পরম পাওয়া ও আমার শ্রদ্ধাভাজন মাতৃতুল্য বেগম নুরুন নাহারজ্জামান বাবু ভাই এর মত স্নেহ করেন, বাবু ভাইয়ের সান্নিধ্যে এসে ওনার ছেলদের সাথে পরিচয়, বাবু ভাই এর মেঝ ছেলে আনিছুজ্জামান চৌধুরী রনি ও মাননীয় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী (জাবেদ) আমার জীবনকে পরিবর্তন করেছে। তাঁদের সহযোগিতায় আজ আমি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্বে ও আর আই , সিকিউরিটি কর্ণধার এবং আখতারুজ্জামান সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তাদের পরিবারের সাথে বেঈমানি করিলে আমি তো মোনাফেক হয়ে যাব। আমৃত্যু পর্যন্ত তাদের পরিবারের সাথে আছি এবং থাকব। আমি বঙ্গবন্ধু ও বাবু ভাইয়ের আদর্শের সৈনিক। আমি বাবু ভাইকে আইডল/আদর্শ মনে করি। আল্লাহর রাসূল আমার মা বাবার পর আখতারুজ্জামান বাবু ও তার পরিবার, আমার কাছে অমূল্য রতœ। বাবু ভাইয়ের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে ওনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ যেন ওনাকে জান্নাত দান করুক, আমিন।
লেখক : সহ- সভাপতি
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম