বাঁশখালী হাসপাতালেই আক্রান্ত ৬

আক্রান্ত অ্যাম্বুলেন্স চালক দিশেহারা এমটিল্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

13

সর্দি ও জ্বরে আক্রান্ত রোগী। বাড়ি দূর্গম পশ্চিম উপকূল। খোঁজ মিলতেই দুই যাত্রীসহ অ্যাম্বুলেন্স ছুটে গেল সেই রোগীর ঘরে। নমুনা সংগ্রহ করে একজন হাসপাতালে ফিরলেও অপরজনকে সেসব নমুনা পৌঁছে দিতে হয়েছে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি
ল্যাবে। গত তিনমাস ধরে এভাবেই প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করেছেন বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটি (ল্যাব) পরিতোষ বড়ুয়া ও অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. আলমগীর। এরমধ্যে আলমগীর গত ১ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে গেছেন। সঙ্গীহীন এমটি (ল্যাব) পরিতোষ বড়ুয়া এখন দিশেহারা।
জানা যায়, দূরে কোথাও করোনা আক্রান্ত রোগী মিললেই তাৎক্ষণিক ওই রোগীর পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করতে হয়। আর দ্রুতসময়ে নমুনা সংগ্রহে পরিতোষ ও আলমগীর ছিল একে অপরের পরিপূরক। আলমগীর আক্রান্ত হওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে নমুনা সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আবার এমটিল্যাবসহ অন্যান্যরা কষ্ট করে নমুনা সংগ্রহ করলেও তা দ্রুত সময়ে ল্যাবে পাঠানো না গেলে সেসব নমুনার কার্যকারিতা কমে যাবে। অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় গত দুইদিন ধরে সংগৃহীত প্রায় ৪০টি নমুনা ল্যাবে পাঠাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হাসপাতাল সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে তিনজন চিকিৎসকসহ ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন। কেউ কেউ সুস্থ হয়ে আবারো কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে গাড়ি চালক অসুস্থ হওয়ায় সবচেয়ে বড়ধরণের বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের পর গাড়ি চালকের অভাবে সেগুলো ল্যাবে পাঠানো যায়নি। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়ি ও চালক থাকলেও সেগুলোও ব্যবহার করা হচ্ছে না। যে কারনে গত দুইদিন ধরে সংগৃহীত প্রায় ৪০টি নমুনা হাসপাতালেই আটকে আছে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার পূর্বদেশকে বলেন, ‘এমটিল্যাব না থাকলে বিকল্প কেউ নমুনা সংগ্রহ করবে। যতটুকু জানি নমুনা সংগ্রহে হাসপাতালে প্রশিক্ষিত লোক আছে। আবার গাড়ি চালক না থাকলেও বিশেষ উপায়ে নমুনা ল্যাবে দ্রুত পাঠাতে হবে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি খোঁজ নিচ্ছি’।
এমটিল্যাব পরিতোষ বড়ুয়া পূর্বদেশকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত তিন শতাধিক নমুনা নিজেই সংগ্রহ করেছি। এছাড়াও ডাইরেক্টর অফিস ও সিভিল সার্জন অফিসেও নমুনা সংগ্রহে ডেকে পাঠানো হয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার পরেও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। একপ্রকার করোনা রোগীদের সাথেই বসতি গড়েছি বলতে পারেন।
অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. আলমগীর পূর্বদেশকে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। রোগীর বাড়ি, ল্যাব ও সরকারি কাজেই সারাদিন কেটেছে আমার। শেষ পর্যন্ত নিজেই আক্রান্ত হলাম। আমি অসুস্থ থাকায় শুনেছি নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়নি। বড় স্যারের একজন গাড়ি চালক আছে। উনাকে পাঠানো গেলেই নমুনাগুলো দ্রুত পৌঁছে যেতো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, ‘আক্রান্ত হলেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবজ্ঞা করা হয়। এতদিন ধরে যে লোকগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে তাদের পাশে কেউ থাকে না। এমনকি আইসোলেশন কিংবা কোয়ারেন্টিনে থাকলেও এদের খোঁজ কেউ রাখে না। কোনো কারনে এমটিল্যাব আক্রান্ত
হলে বাঁশখালীতে নমুনা সংগ্রহে ভাটা পড়বে। করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হওয়ার আগে বিকল্প যারা আছেন তাদেরকে সক্রিয় করতে হবে’।