আওয়ামী লীগ নেতা মাসুমের দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

2

ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের দুটি অস্ত্রের নিবন্ধন বাতিল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এফ কবির আহমেদ মানিক নিজের ও এলাকাবাসীর ‘নিরাপত্তাহীনতার’ কথা বলে আবেদনটি করেছিলেন। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এই সদস্য এক দশকের বেশি সময় ধরে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার আবেদনে সাড়া দিয়ে উপ-সচিব আব্দুল জলিলের স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। সেখানে দিদারুল আলম মাসুমের নামে থাকা দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রের নিবন্ধন বাতিল করে অস্ত্র ও গুলি সরকারের হেফাজতে জব্দ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর মানিক বলেন, ‘বৈধ অস্ত্রে অবৈধ গুলি ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন মাসুম। সে জন্য আমি ও এলাকার মানুষ সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি’। লালখান বাজার এলাকার বিভিন্ন ‘হত্যাকান্ডের’ সঙ্গে মাসুমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে মানিক বলেন, ‘কথায় কথায় সে অস্ত্র প্রদর্শন করে। তার অতীতের রেকর্ডও বলে সে কেমন। এসব কারণে আমি সরকারের কাছে আবেদন করেছি’।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘গত বুধবার আমরা চিঠি পেয়েই খুলশী থানাকে নির্দেশ দিয়েছি দিদারুল আলম মাসুমের নামে ইস্যু করা অস্ত্রগুলো জব্দ করার জন্য’।
খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চিঠি পেয়ে তিনি দিদারুল আলম মাসুমের অস্ত্র জব্দ করতে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। বাসা থেকে জানিয়েছে তিনি চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছেন। তাই অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য আমরা নোটিস দিয়েছি’।
অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনার কথা ‘শুনেছেন’ বলে জানিয়েছেন দিদারুল আলম মাসুম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, ‘আমার অস্ত্র কখনও অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়নি। আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমি কাউন্সিলর নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ায় বর্তমান কাউন্সিলর আমার বিরুদ্ধে লেগেছে’। তিনি বলেন, ‘তারা আমার যে ছবিটি দিয়ে অভিযোগ করেছে, সেটি ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম যখন চট্টগ্রাম নগরী অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তখন সেটি ব্যবহার হয়েছিল’। ‘নিরস্ত্র’ করার আদেশ হওয়ায় এখন নিজেই ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ ভুগছেন বলে দাবি করেন ক্ষমতাসীন দলের এই স্থানীয় নেতা। খবর বিডিনিউজের
লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম চট্টগ্রামে নানা কারণে আলোচিত। বিভিন্ন সময়ে লালখান বাজার এলাকায় বিভিন্ন সংঘর্ষ ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার নাম এসেছে। গণমাধ্যমে অস্ত্র হাতে ছবি ছাপা হওয়ায় তিনি সমালোচিতও হন। মাসুম ১৯৯৭-৯৮ সালে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রায় তিন বছর কারাবাসের পর দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে ছিলেন মাসুম। ২০১৩ সাল থেকে তিনি লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
২০১৭ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে নিজের বাসার সামনে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে মাসুমের বিরুদ্ধে। সুদীপ্ত হত্যায় জড়িতরা সবাই মাসুমের অনুসারী এবং তার নির্দেশেই ওই হত্যাকান্ড ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে নগর ছাত্রলীগের একাংশের। লালখান বাজারকেন্দ্রিক আরো অন্ততঃ দুটি খুনের ঘটনায় মাসুমের অনুসারীদের দায়ী করে আসছে আওয়ামী লীগের একাংশ।
এক সময়ে তিনি চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে বিভিন্ন সময়ে নিজেকে সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ আফসারুল আমিনের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন মাসুম। বর্তমানে তিনি সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে নগরীর রাজনীতিতে পরিচিত।