রোহিঙ্গা বিতাড়ন

আইসিসির চিঠির জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ

পূর্বদেশ ডেস্ক

18

রোহিঙ্গা বিতাড়ন নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা যায় কি না, সে বিষয়ে মতামত চেয়ে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পাঠানো চিঠির জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু রোম সংবিধিতে সই করেছে, সেহেতু আইসিসির চিঠির জবাব দেওয়ার এক ধরনের বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যেসব তথ্য চেয়েছে, আমরা কেবল সেগুলোই তাদের দিয়েছি। বাংলাদেশ এখনও মনে করে, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই এ সঙ্কটের সমাধান সম্ভব। রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতবছর নিউ ইয়র্কে যে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সে দিকে ইংগিত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিষয়গুলো এখনও আলোচনায় আছে। আর আমরা এ বিষয়ে আন্তরিক।”
লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে, তার বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আছে কি না-তা জানতে চেয়েছে হেগের ওই আদালতের কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদা গত এপ্রিলে একটি আবেদন করেন। বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে তার এই প্রশ্নের মূল কারণ হল-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এ আদালতের সদস্য হলেও মিয়ানামার তা নয়। আইসিসি বিষয়টি বিচারের এখতিয়ার রাখে বলে রুল পাওয়া গেলে রোহিঙ্গা বিতাড়নের বিষয়ে তদন্ত করার পথ তৈরি হবে বলে ফাতোও বেনসুদার আশা করছেন। খবর বিডিনিউজের
তার ওই আবেদনের পর বাংলাদেশ সরকারের মতামত চেয়ে গত মাসে চিঠি দেয় আইসিসি। প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-১ এর ওই চিঠিতে বাংলাদেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে বা গোপনে তিনটি বিষয়ে লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয়। বিষয় তিনটি হল-১. মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সীমান্তে চলে আসা এবং তাদের উপস্থিতি ঘিরে সামগ্রিক পরিস্থিতি; ২. রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে বিতাড়নের যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের এখতিয়ার আছে কি না এবং ৩. প্রসিকিউটরের আবেদনে উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়ে যথাযথ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের মতামত, যা ওই আবেদন বিবেচনায় চেম্বারকে সহায়তা করতে পারে।
বাংলাদেশ আইসিসিতে মিয়ানমারের বিচারের পক্ষে মত দিয়েছে কি না-সেই প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, “আইসিসি যেসব তথ্য চেয়েছে, আর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা যা যা জানি, তার সবই আমরা তাদের জানিয়েছি। বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম মেনেই বাংলাদেশ সব কিছু করে।”