অষ্টমবর্ষে পূর্বদেশ পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাক অবিরত

33

আজ পূর্বদেশের সপ্তম বর্ষপূর্তি, পা রাখতে যাচ্ছে অষ্টমবর্ষে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের সর্বস্তরের পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী ও আমাদের শতাধিক সহকর্মীদের আন্তরিকতা, একনিষ্ঠতা ও আশীর্বাদে সফলতার এক বিস্তীর্ণ বেলাভূমিতে পূর্বদেশ। প্রত্যেকের সহমত, সহপথ ও সাহচর্য পূর্বদেশের যাত্রাকে করেছে বর্ণিল এবং হিমালয়সম সফলতা। আজ সে সফলতার চূড়ায় দাঁড়িয়ে সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। ‘চিটাগাং সবার আগে’ স্লোগানকে ধারণ করে পূর্বদেশ ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর (এক ম্যাজিক টাইম) যে যাত্রা শুরু করেছিল এখনও সে প্রত্যয়ের উপর দাঁড়িয়ে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের বন্দনায় এগিয়ে চলছে দৈনিক পূর্বদেশ।
সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এ স্তম্ভের গাঁথুনি যত মজবুত হবে, রাষ্ট্র তত উন্নত হবে। গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হবে। আমরা পূর্বদেশকে সে মজবুত স্তম্ভে দাঁড় করাতে প্রয়াসী। আমরা বলে আসছি, চট্টগ্রামে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টির উপলব্ধি থেকে পূর্বদেশের সাথে আমাদের অভিসার। আমরা ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত সুদীর্ঘ সাত বছর এমন এক নতুন ইতিহাসের একটি সুন্দর ক্ষেত্র গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করে আসছি। আমাদের এ প্রচেষ্টা নিরন্তর চলবে।
চট্টগ্রাম দেশের সংবাদপত্র জগতে একটি গৌরবজনক অবস্থান সৃষ্টি করেছে-সে সুদূর উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে। বিশ শতক পুরোটাই হিসাব করলে দৈনিক. সাপ্তাহিক ও বিভিন্ন সাময়িকী মিলে দুই শতাধিক পত্রিকা জন্ম দিয়েছে এ চট্টগ্রাম। সবচেয়ে গৌরবের কথা হচ্ছে বিশ শতকের শুরুতে পুরো বাংলাজুড়ে প্রথম যে দৈনিকের প্রকাশ (দৈনিক জ্যোতি) এর জন্ম এ চট্টগ্রামেই। জ্যোতি চট্টগ্রাম থেকে যে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে ছিল তা পুরো ভারত উপমহাদেশকেই নাড়া দিয়েছিল। কিন্তু জ্যোতির রশ্মি বেশিদিন টেকেনি। অকালে অন্তর্ধান ঘটেছিল। এভাবে বহু পত্রিকা ইতিহাসের খাতায় নাম লিখিয়ে খ্যাতি ও নাম-যশ জুড়িয়ে অজানা গন্তব্যে চলে গেছে। অপরদিকে টিকে থাকার; চট্টগ্রামের সবুজ ছায়ায় থেকে দেশকে আলোকিত করার গৌরবময় ইতিহাসও আছে। সেই ইতিহাসের সুতোয় পূর্বদেশ নিজেদের শক্তভাবে আটকাতে সচেষ্ট। আমরা নয় পাঠকই বলছেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের লাখো পাঠকের আস্থায় এ পূর্বদেশ। এজন্য অবশ্যই আমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে অসংখ্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
সংবাদপত্রকে বলা হয় জাতির দর্পণ। কারণ সংবাদপত্রের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল ও সুন্দর জাতি গঠন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি গণমানুষের আস্থা সৃষ্টি এবং স্বাধীনতার চেতনার ভিত্তিতে দেশ গঠনের জন্য সরকার ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। সংবাদপত্র একদিকে দেশ ও জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে লালনে সরকার ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে অপরদিকে আগামীর সকল সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রতি মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে সহায়তা করে। আমরা আস্থার সাথে বলতে পারি, গত সাত বছর যাবৎ দৈনিক পূর্বদেশ সংবাদপত্রের এ মৌলিক দর্শনকে বাস্তবায়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে আসছে, আগামীতেও আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট হব।
আমরা আজ সুন্দর একটা সময় অতিক্রম করতে যাচ্ছি, আর তা হল আর মাত্র চারদিন পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের ঊনচল্লিশ বছরে পা রাখছে দেশ। বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা ও বিজয় জাতি হিসাবে বিশ্বে আমাদের গৌরবান্বিত করেছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি তাকে আরো অর্থবহ করে তোলার যে সংগ্রাম বাঙালি জাতি ও আমাদের সরকারগুলো দীর্ঘ চারদশকের অধিক সময় ধরে করে আসছে বর্তমান সরকার এটিকে একটি সফল ও চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমাদের অবশ্যই বর্তমান সরকারের গঠনমূলক কর্মসূচি এবং বাস্তবায়নে আন্তরিকতার প্রশংসা করতে হবে। আমরা জানি, ২০২১ সালে উদ্যাপন করা হবে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী । একইসাথে ২০২০ সাল স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বছর উদযাপন করা হবে। এ বছরটিকে সরকারের পক্ষ থেকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশ, জাতি ও বর্তমান সরকারের জন্য বছরদুটি সৌভাগ্যের বলা যায়। এ দুই উৎসবকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা সফল বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। ফলে চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরো ব্যাপকভিত্তিতে এজেন্ডাভুক্ত করেছে সরকার। আমরা নিঃসঙ্কোচে বলতে চাই, সরকার বিগত মেয়াদসহ বর্তমান সময়ের শেষ দিন পর্যন্ত যা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে-তা এযাবৎকাল আর কোন সরকারের পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। এটি অবশ্যই চট্টগ্রামের জন্য একটি মাইলফলক। আমরা চাই, চট্টগ্রাম হয়ে উঠুক সত্যিকারের একটি বাণিজ্যিক রাজধানী যেখানে দেশি-বিদেশি সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সর্বশেষ বিজয়ের এ মাসে যাদের ত্যাগের বিনিময়ে সবুজ বাংলার স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তাদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানাচ্ছি। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, দৈনিক পূর্বদেশের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম নজির আহমদ মাস্টারকে। আমরা আবারও ঘোষণা করতে চাই, চট্টগ্রামের যেকোন অগ্রসরতা এবং যেকোন সৃজনশীলতা লালনের সাথে দৈনিক পূর্বদেশ পাশেই থাকবে। প্রত্যাশা করি, আমাদের পথ চলায় চট্টগ্রামবাসী তাদের সহযোগিতার হাত আরো ব্যাপকভাবে প্রসারিত করবেন। পূর্বদেশ হৃদয় ছুঁয়ে থাকবে অবিরত, বেঁচে থাকবে হাজার বছর।