অশনি সংকেত! করোনার ভয়াবহ রূপ চট্টগ্রামে

30

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস এর দ্বিতীয় ঢেউ-এর তাÐব চলছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। করোনায় নতুন করে শনাক্ত যেমন বাড়ছে, তেমন বাড়ছে মৃত্যুর হারও। একইসাথে চট্টগ্রামে। ঢাকার পরে চট্টগ্রামে সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ। গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত এসংক্রান্ত শীর্ষ প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে একদিনেই সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে ২৯১ জন। মৃত্যুর হার যদিও কম তবে একদিনে সারা দেশে ২৫২৫ জন আক্রান্তের মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ আক্রান্তের খবরে উদ্বেগ ও আশক্সক্ষার ডালপালা নতুন করে মেলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বলা যায়, পার্শ্ববর্তী ভারতসহ যুক্তরাজ্য, চীন ও ইউরোপে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ-এর চূড়ান্ত সংক্রমণ শুরু হয়েছে। ইউরোপসহ যুক্তরাজ্য ও আমেরিকা আঞ্চলিক কড়াকড়ি শুরু করেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও, আবারও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে কয়েকদিন নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার বাড়তির দিকে। মৃত্যুর সংখ্যাও একই বৃত্তে ওঠানামা করছে। পরিস্থিতি আমাদের জন্য অশনি সংকেত দিচ্ছে, আসলে আমাদের করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে! আমরা লক্ষ করে আসছি, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেঊ এর আশক্সক্ষা করা হয়েছে সেই দুই মাস আগে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০সেপ্টেম্বর গণভবণে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তÍতি নেয়ার আহবান জানান। এরপর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কমিটি একটু নড়েচড়ে বসতে দেখা গেলেও সাধারণ মানুষ এ নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন মনে হলেও সচেতনতার বালাই নেই। অফিস, আদালত, বাজার, রাস্তাঘাট, মসজিদ, মন্দির, জানাজা, সমাবেশ সবকিছুই হচ্ছে স্বাভাবিক নিয়মে। সরকার ইতোমধ্যে সাধারণ নাগরিকদের মাস্ক পরানোর জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি অভিযান শুরু করলেও তাতে খুব একটা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আশার কথা মাস্ক পরা নিয়ে সরকার আরো কঠোর হচ্ছে, না পরলে জেলে যেতে হতে পারে বলেও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ জন্য কেন্দ্র থেকে মাঠ প্রশাসনের কাছে নির্দেশনা প্রেরণের খবরও পাওয়া গেছে। আমরা জানি, সরকার ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত যে আইন করেছে, এবার তা কার্যকরের আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশা করা যায়, কিছুটা হলেও নাগরিক সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, করোনার মত মরণব্যাধি নিয়ে এমন অবহেলা ও নিয়ম না মানার সংস্কৃতি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ১ম দফার সংক্রমণে আমরা তা বুঝতে পারলেও সর্ট মেমোরির বাঙালি হুজুগেই সব ভুলে যায়। এখনও প্রান্তিক জনপদে বা শহরের নিম্ন মধ্যম আয়ের মানুষগুলোকে, বড়াই করে বলতে দেখা যায়, করোনা তাদের কিছুই করতে পারবেনা। আবার অনেকে ধর্মীয় ভাবাবেগে বলে থাকেন, কারোনায় বিশ্বাস করলে ঈমান চলে যাবে। অথচ তাদের জানা থাকা উচিৎ আরোগ্য যেমন ¯্রষ্টার দান, রোগও ¯্রষ্টার পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য একধরনের পরীক্ষা। মহান ¯্রষ্টা তাঁর অনেক প্রিয় নবী-রাসূল ও মহাপুরুষদেরও রোগশোক দিয়েছেন। এছাড়া জীবন-শৃঙ্খলা, খাদ্য আভ্যাস, আচা-আচরণ, নিয়মানবর্তীতা, ধৈর্যশক্তি ও নীতি-নৈতিকতা তথা সত্যনিষ্ঠার পরীক্ষা হয় এর মাধ্যমে। সুতরাং যারা বিভ্রান্ত ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুঝুঁকিতে নিক্ষেপ করছেন, তারা মূলত অপরাধ করছেন, তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ৭ দফা সুপারিশ দিয়েছে। সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কিছু রোডম্যাপও তারা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। ওই সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও বিতরণ। এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কয়েকটি দিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। এমনকি দ্রুত ভ্যাকসিন পেতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো অগ্রিম টাকা দেওয়ার পরামর্শও জাতীয় কমিটি। আশার কথা, এসব সুপারিশ আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভ্যাকসিন সংগ্রহে উদ্যোগী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তিন কোটি ভ্যাকসিন বিনা মূল্যে বিতরণের কথা ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা মনে করি, ভ্যকসিনের এ সুখবরের সাথে সাথে করোনা মহামারি মোকাবেলায় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে, বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রতি সুদৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা বরাবরের মতো আবারও বলতে চাই যে, সরকারের একার পক্ষে মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলা সম্ভব নয়। এজন্য সাধারণ জনগণের সচেতনতা জরুরি। আইন ও নিয়ম মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে দ্বিতীয় ঢেউয়ে কঠোর পরিণতি বরণ করতে হতে পারে বলেই আমাদের আশঙ্কা। এজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহŸান জানাচ্ছি।