অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিরোধী পদক্ষেপ : ট্রাম্প

18

সিরিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ব্যাপারে ‘অল্প সময়ের মধ্যেই’ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি ও তার প্রশাসন দৌমা শহরে রাসায়নিক হামলার বিষয়টি ‘অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে’ দেখছেন। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামলায় পূর্ব ঘৌটার বেশকিছু মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বিবিসি দৌমা শহরে ৮৫ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেট। বেশ কয়েকটি চিকিৎসক, পর্যবেক্ষক ও একটিভিস্ট গ্রুপ ওই বিষাক্ত রাসায়নিক হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। তবে সিরীয় সরকার ও রাশিয়া দৌমায় কোনও ধরনের রাসায়নিক হামলার কথা অস্বীকার করেছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের কাছ থেকে হামলায় সমর্থন আদায়ের জন্য ট্রাম্প তার বিদেশে সফর বাতিল করেন।
বুধবার তিনি একই টুইটার বার্তায় বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র আসছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার আরেক টুইটে তিনি বলেন, তিনি কখনই বলেননি অভিযানের সময় বলেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘এটা খুব দ্রুতও হতে পারে বার তাড়াতাড়ি নাও হতে পারে’। এরপর তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিরিয়া ইস্যুতে আমরা বৈঠকে বসছি আমাদের আরও কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই এগুলো খুব দ্রুতই নেওয়া হবে’। একই দিন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস সংসদীয় সভাকে বলেন, আমি বিশ্বাস করি সেখানে (সিরিয়া) রাসায়নিক হামলা হয়েছে আর আমরা প্রকৃত প্রমাণ খুঁজছি।
পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ায় হামলার প্রস্তুতির কথা ভাবলেও সিরিয়ার প্রধান মিত্র রাশিয়া এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। জাতিসংঘের রাশিয়ার দূত ভ্যাসিলে নেবেনজিয়া বলেছেন, তিনি রাশিা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাদ দিতে পারছেন না। বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হবে যুদ্ধের বিপদ ঠেকানো’। বৃহস্পতিবারই ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাটক্রো বলেন, তিনি সিরীয় সরকার দৌমায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে তার কাছে এমন প্রমাণ রয়েছে। আর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র দফতর থেকে বলা হয়েছে, দেশটির মন্ত্রীরা সিরিয়ায় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতেই থেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে তারা রাজি হয়েছেন। এদিকে হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন। আর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য জরুরি বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।