বিশেষ সম্পাদকীয়

অর্ধযুগ পেরিয়ে পূর্বদেশ

মুজিবুর রহমান

48

বৃহত্তর চট্টগ্রামের সব শ্রেণির পাঠকের আস্থা-ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আরও একটি বছর পেরিয়ে গেল দৈনিক পূর্বদেশ। ছয়টি বছর বা অর্ধযুগ পেরিয়ে আজ ৭ বছরে পদার্পণ করেছে পাঠকপ্রিয় এ পত্রিকাটি। পূর্বদেশ এর এ পথচলায়-এগিয়ে চলায় গত ছয়টি বছর যাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমাদের কাছে প্রেরণা হিসেবে ছিল আজকের দিনে সেই সম্মানিত শুভানুধ্যায়ীদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
চারদিকে এখন নির্বাচনী ডামাডোল। জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত উৎসবমুখর হওয়া এমন সময়ে পূর্বদেশ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের কাছে আরও উৎসাহব্যাঞ্জক এবং বর্ণিল হয়ে উঠেছে।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, সঠিক তথ্য আর সত্য প্রকাশের দৃপ্ত শপথে ১২.১২.১২-তে আমাদের পথচলা শুরু হয়েছিল। বিগত সময়গুলো আমরা সেই লক্ষ্যে অবিচল থেকে এ অঞ্চল এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কথা বলেছি সব সত্য ও সুন্দরকে তুলে ধরেছি, অনিয়ম-অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি দৃঢ়ভাবেই। আমরা সেই পথেই এগিয়ে চলছি। আমাদের এ দৃঢ়তা অব্যাহত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যেমন বিপ্লব ঘটছে তেমনি মানুষের রুচিবোধ-চাহিদাও বদলে যাচ্ছে। মানুষ এখন যে কোনো সেবা ও পণ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রথমেই সেটির মান যাচাই করছে। মানসম্মত কি-না তা দেখেই মানুষ সেবা গ্রহণ করছে। সংবাদপত্রও মানুষের আত্মিক চাহিদার সেবা। এ কারণে মানুষ এখন পত্রিকাটি হাতে নেওয়ার আগে বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে থাকে। এক. পত্রিকাটির সংবাদ উপস্থাপন পরিচ্ছন্ন কি-না। দুই. পত্রিকাটির সংবাদে বৈচিত্র্য আছে কি-না। তিন. প্রকাশিত সংবাদগুলোর সত্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু। পূর্বদেশ এই তিন ধরনের চাহিদাকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ কারণেই পত্রিকাটি এখন জনপ্রিয়তায় সবাইকে ছাড়িয়ে এমনটি আমরা দাবি করতে পারি।
অনলাইন গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আবির্ভাবের কারণে বর্তমান সময়ে প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য সত্যিকারের একটি চ্যালেঞ্জ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন আকাশে-বাতাসে নানা খবর উড়ে বেড়ায়। নানা ধরনের ভুল আর বিভ্রান্তির এই সময়ে খবরের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করার ব্যাপারটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের। কেননা, অনলাইন গণমাধ্যমের সংবাদ প্রত্যাহারের সুযোগ থাকলেও প্রিন্ট মিডিয়ায় সে সুযোগ নেই। সে কারণে প্রকাশের আগে তথ্যগুলো সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখন প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের কাছে চ্যালেঞ্জ। আমরা সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে, সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষায় সদা-সর্বদা সচেষ্ট।
সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে বিবেচনা করা হয়। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাই পূর্বদেশ সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিবাচক দৃঙ্গিভঙ্গিরই প্রতিফলন ঘটাতে চায়। পূর্বদেশ আঞ্চলিক পত্রিকা হিসেবে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
এ বছরে, আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে আমরা প্রিয় নগরী চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্বার্থে, দেশ ও মানুষের পক্ষে নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে চাই।
প্রিয় পাঠক, আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ও সুপরামর্শ আমাদের কাম্য। এ পথে এগিয়ে চলার শক্তি আপনারাই। আপনাদের ভালোবাসা, পাশে থাকা পূর্বদেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সবার প্রতি শুভেচ্ছা ও বিন¤্র শ্রদ্ধা।
মুজিবুর রহমান : সম্পাদক, পূর্বদেশ

বিনম্র শ্রদ্ধা
নজির আহমদ মাস্টার কর্মগুণেই আমাদের মাঝে থাকবেন অনন্তকাল
বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক পূর্বদেশ প্রতিষ্ঠার আরও একটি বছর পেরিয়ে গেল। দেশের সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার হিসেবে পরিচিত হাজার বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসে অনন্য অবদান রাখা বীর প্রসবিনী চট্টগ্রামে মুক্তবুদ্ধি ও সৃজনশীলতার চর্চার ধারবাহিকতায় পূর্বদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মরহুম মাস্টার নজির আহমদ। পূর্বদেশ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। মহৎপ্রাণ এ শিক্ষাবিদ আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন যুগের পর যুগ ধরে।উন্নয়নসহ নানাক্ষেত্রে বরাবরই বঞ্চনার শিকার চট্টগ্রামের অন্যতম অনগ্রসর জনপদ বাঁশখালীর নাপোড়ার বাসিন্দা আলহাজ মাস্টার নজির আহমদ। শিক্ষকতার মহান পেশায় আলোকিত মানুষ গড়ার পাশাপাশি আলোকময় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাকেই যিনি নিজের জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর হাত ধরেই বাঁশখালীর দুর্গম অজপাড়ায় গড়ে উঠেছে অনেক স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা। কর্মময় জীবনে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অসামান্য তাড়না অনুভব করতেন যে কর্ম্যােদমী ব্যক্তিত্ব; সেই কর্মগুণেই ‘মাস্টার’ শব্দটি কখন যে নিজের নামের অংশ করে নিয়েছেন তা নিজেও জানতেন না। বাঁশখালী ছাপিয়ে চট্টগ্রামের মানুষের মুখে যিনি ‘নজির আহমদ মাস্টার’ নামে সমধিক পরিচিতি লাভ করেছেন, সেই আলোকিত মানুষটির হাতেই পূর্বদিগন্তের সংবাদপত্র জগতে জন্ম নিয়েছিল আজকের পাঠকপ্রিয় দৈনিক পূর্বদেশ। তাঁর হাতের স্পর্শ থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি গেল কয়েক বছর ধরেই। কিন্তু তিনি তাঁর কর্মগুণেই আমাদের মাঝে আছেন, থাকবেন অনন্তকাল। তার আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমরা পথ চলছি। আজকের দিনে আমরা পরম শ্রদ্ধাভরে তাঁকে স্মরণ করছি।