অর্থপাচার ও মগের মুল্লুক সংশয়-অভিধা

8

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী

বিগত সপ্তাহে বিভিন্ন অবৈধ অনৈতিক পন্থায় উপার্জিত হাজার হাজার কোটি টাকা এবং তা বিদেশে পাচারের সংশ্লিষ্টতায় জনৈক পি.কে. হালদারের ঘটনা মহামান্য হাইকোর্টের বিচক্ষণ আমলে এসেছে। অত্যন্ত সত্য-বস্তুনিষ্ঠ-নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দের কঠোর নির্দেশনা পুরো জাতি-রাষ্ট্রকে অপরিসীম প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেছে। দেশ ‘মগের মল্লুকে’ পরিণত হয়েছে কী না; তা নিয়ে তাঁদের সংশয় দুর্বৃত্তায়নের সামগ্রিক দৃশ্যপটকে নতুন করে উপস্থাপন করেছে। এভাবে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের ঘটনায় যারপরনাই দেশবাসী চরম ক্ষুব্ধ। অবশ্যই এসব দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বিভিন্ন সংস্থার গৃহীত উদ্যোগ প্রশসংসার দাবি রাখে। দেশের আইনের শাসন সুরক্ষা এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গণমানুষের কষ্টার্জিত মেধা-শ্রমের বিপরীতে প্রদেয় কর-ভ্যাট ইত্যাদির লুণ্ঠনে স্বল্প সংখ্যক ঘৃণ্য ব্যক্তির লোভ লালসায় কূট চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বর্তমান সরকার তথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে অকল্পনীয় বিস্ময়কর অর্জন এবং বিশ্বে বাঙালি জাতি-রাষ্ট্রকে সুমহান মর্যাদায় আসীন করার অভূতপূর্ব অহংবোধকে ন্যূনতম ম্লান কার যাবে না। আপামর দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এই দুর্বৃত্তায়ন প্রতিরোধে অব্যাহত শক্তিমান করবে- নিঃসন্দেহে তা বলা যায়। নিকট অতীতের সামগ্রিক সন্ত্রাস-দুর্নীতি-জঙ্গিবাদ বিরোধী সরকারের অবস্থান দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উঁচুমার্কে সমাদৃত। চলমান করোনাকালীন আর্থ-সামাজিক পুনরোদ্ধারের উদ্যোগ এবং দ্বিতীয় তরঙ্গের প্রক্ষেপিত ভয়াবহতার অনুধাবন ও এর প্রতিরোধে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণে নানাবিধ ঔষধ-ভ্যাকসিন ক্রয়-সরবরাহের ক্ষেত্রে যাতে কোন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত দৃশ্যপট তৈরি না হয় সে দিকে কঠিন-কঠোর নজরদারী নিশ্চিত করতে হবে।
বস্তুতপক্ষে বিধিবদ্ধ সমাজে বিপরীতমুখী কর্মকান্ডকে দুর্নীতি বলা হয়ে থাকে। সমসাময়িক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ চরিতার্থে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের অবৈধ জনস্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপকেই দুর্নীতির মোড়কে উপস্থাপন করা হয়। সকল দেশ বা সমাজে দুর্নীতিমূলক আচরণ করার প্রবণতার কারণসমূহ মূলতঃ এক ও অভিন্ন। তবে এর ব্যাপ্তি, ব্যাপকতা ও ধরন সকল সমাজে একই রকম নয়। যেসব প্রধান কারণে দুর্নীতি হয়ে থাকে তা হলো সামাজিক পরিবেশ ও মূল্যবোধ এবং দুর্নীতিমূলক আচরণ দমনে গৃহীত ব্যবস্থার দুর্বল সমন্বয়। এটি একটি সহজ সমীকরণ যে, দমনমূলক ব্যবস্থা কঠিন হলেই দুর্নীতির ব্যাপকতা কম এবং শিথিল হলে তার অধিক বিস্তার ঘটে। বাংলাদেশের দুর্নীতির প্রকৃতি-পরিধি-ধরণ ও কারণ স্বভাবতঃ ভারতসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মত। বিশিষ্ট সমাজ-অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক গুন্নার মিরডলের মতে ‘সংস্কার, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ইত্যাদি কোন কিছুতেই আমার কোন আস্থা নেই যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্নীতি দূরীকরণের কোন চেষ্টা না হচ্ছে’। প্রসঙ্গত তাঁর মতানুসারে ভারতের মত দরিদ্র দেশসমূহে দুর্নীতিকে সহজ ও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার প্রবণতা কত যে ভয়ঙ্কর তা রাষ্ট্র পরিচালকদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে এবং এসব দেশসমূহে দুর্নীতি দমনই হল প্রধানতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার।
‘অভাবে স্বভাব নষ্ট’ এই ধরনের প্রচলিত ধারণা বর্তমান সমাজে কার্যকর নয় কারণ অভাবী বা দরিদ্র শ্রেণির দুর্নীতি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারে না; কিন্তু মধ্যবিত্ত বা বিত্তশালী বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধিষ্ঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের পক্ষে দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়া এবং এর বিস্তৃতি ঘটানো খুবই সহজ। উদাহরণস্বরূপ ১৯৮৫ সালের ২৫ জুন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার National Institute of Public Finance and Policy কর্তৃক প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যায় যে, ১৯৮৩-৮৪ সালে কালো টাকার পরিমান ছিল ৩১৫৮৪ কোটি থেকে ৩৭৭৮৬ কোটি টাকা অর্থাৎ তা মূল অভ্যন্তরীন উৎপাদনের (GDP) প্রায় ১৮ থেকে ২১ শতাংশ। রিপোর্ট অনুসারে ১৯৭৫-৭৬ সালে কর আদায়ের আওতার বাইরে ছিল প্রায় ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ।
বাংলাদেশে দুর্নীতির চিত্র ছিল খুবই প্রকট। পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ক্রমান্বয়ে ৪ বছর দেশ বিশে^র দুর্নীতির শীর্ষ অবস্থানে ছিল। দুর্নীতি দমন না করে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবৈধ সামরিক শক্তি সমর্থিত কথিত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল-জোটের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তাদের গঠিত সরকার দুর্নীতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে; যে কারণে বিশ্বে বাংলাদেশ দুর্নীতির শীর্ষ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল প্রায় পাঁচবার। কিন্তু অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক চিত্র হচ্ছে ২০০৯ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দক্ষ সরকার পরিচালনায় দুর্নীতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং সকলক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অবস্থান সুদৃঢ় করতে পেরেছিলেন বলেই ২০১৭ সালে নভেম্বর মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের ১৭৩টি দেশের সরকার প্রধানদের মধ্যে সততার জন্য বিশ্বে শীর্ষ পাঁচটি আসনের মধ্যে নিজেকে তৃতীয় স্থানে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন।
উল্লেখিত বিষয় সম্পর্কে ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে জাতীয় দৈনিক জনকন্ঠে ‘সততার রেনেসাঁ ঃ জয়তু শেখ হাসিনা’ শিরোনামে প্রকাশিত আমার লেখায় বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছি। ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর দেশের সকল দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন এবং সরকার পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গহণ করেছে। ইতিমধ্যেই তার যথার্থ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমনে সরকারের সৎ সাহস ও সদিচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেসব সরকার দুর্নীতি বিরোধী অভিযান বাস্তবায়ন করতে না পারে গবেষকগণ সেসব সরকারগুলোকে ‘‘Soft Government’’ বলে থাকেন। এই প্রসঙ্গে Peter H. Odegard- যথার্থই বলেছেন“In last analysis venality can be eliminated only where power to do so is linked with the desire to do so.”
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা যায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদেশী সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে জাতিকে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে নতুন অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন প্রক্রিয়ার সূচনা করেন। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে মানুষের আহার, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা দেন; যার লক্ষ্য ছিল-দুর্নীতি দমন; ক্ষেতে খামারে ও কলকারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি; জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্যে দ্রæত অগ্রগতি সাধিত করার মানসে ১৯৭৫ সালের ৬জুন বঙ্গবন্ধু সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী মহলকে ঐক্যবদ্ধ করে এক মঞ্চ তৈরি করেন, যার নাম দেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু এই দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও জনশ্রæতি মতে; আমাদের দেশে ইষঁব ঈড়ষষধৎ ঈড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ তথা দরিদ্র ও নি¤œবিত্ত দুর্নীতির চেয়ে ডযরঃব ঈড়ষষধৎ ঈড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ অর্থাৎ মধ্য ও উচ্চবিত্ত বা সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের দুর্নীতি সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের নানাবিধ টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে যে প্রভাব বিস্তার করছেনা তা কী নিঃসংশয়ে বলা যায়? দুদক এবং আদালত যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে তাঁদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির নানা গুঞ্জন রয়েছে। ‘শর্ষের মধ্যে ভূত’ থাকলে দুর্নীতি থেকে পরিপূর্ণ পরিত্রাণ পাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকেনা। দুর্নীতির প্রধান উৎসগুলো সম্পর্কে সবারই কমবেশি জানা আছে কিন্তু এইসব নষ্ট চরিত্রের বিকৃত মানসিকতাপূর্ণ চরিত্রগুলোকে পচা শামুকের সাথে তুলনা করা যায়। সমুদ্রে পচা শামুক যেমন শক্ত দেয়াল তৈরি করে যা ঢেউয়ের আঘাতেও ভাঙ্গার উপায় থাকেনা। এরকম অর্থলোভী, বিত্ত ও ক্ষমতা লিপ্সু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির মাধ্যমে দেয়াল তৈরি করে ইতিমধ্যেই যেভাবে দেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ করছে তাদের কঠোরহস্তে আইনের আওতায় এনে দমন করা না গেলে এই অবস্থা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।
দুর্নীতি দমনের নামে নিরীহ জনগণের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে, বেনামে বা ছদ্মনামে কথিত অভিযোগকারীর অভিযোগ আমলে নিয়ে অনৈতিক আর্থিক যোগসাজশ বা অবৈধ সুযোগ লাভে প্রভাব বা চাপ সৃষ্টির বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত বা ব্যক্তিস্বার্থে নিরীহ ও সৎ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অপচেষ্টা কিনা তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। অভিযোগকারীর যথার্থ নাম, ঠিকানা, পরিচয় ইত্যাদি নিশ্চিত হয়ে যে কোন তদন্ত কার্যক্রম অবশ্যই সমর্থনযোগ্য। এই শর্ত অবশ্যই যুক্ত করতে হবে যে, অভিযোগকারীর অভিযোগ যদি বস্তুনিষ্ট, নিরপেক্ষ, পবিত্র দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করে তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয় তাহলে অভিযোগকারীকেও কঠিন শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে। অন্যথায় যদি বিনাকারণে বা প্রভাবিত তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ, নির্লোভ, নির্মোহ ব্যক্তিকে শাস্তি পেতে হয় তা দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ভয়াবহ নৈরাজ্যের সৃষ্টি করবে। ফলে আত্মসম্মান ও আত্মমর্যদাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের অসহায়ত্ব এবং হতাশা আত্মহননের পথে ধাবিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সঠিক পন্থায় শুধু একটি সংস্থা নয় একাধিক সংস্থার মেধাবী ও নির্লোভ ব্যক্তিদের সমন্বিত উদ্যোগে যথার্থ দুর্নীতি নির্মূলে সুফল বয়ে আনবে নিঃসন্দেহে তা বলা যায়। সঠিক পথে যথার্থ পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করতেই হবে; না হলে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে জাতির ইতিহাসের অধ্যায়ে আমরা দায়বদ্ধ হয়ে থাকব।
২৯ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে বার্লিন ভিত্তিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআই-বিশে^র ১৮০ টি দেশের ২০১৮ সনের দুর্নীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ বিগত সালে পেয়েছিল ২৮ আর এবার পেয়েছে ২৬। তুলনামূলক বিবেচনায় উপরের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৯ তম; নিকট অতীতে যা ছিল ১৪৩ তম। নিচের দিক থেকে পূর্বের অবস্থান ছিল ১৭ তম যা ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশর অবস্থানকে ১৩ তম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের সমান অবস্থানে ছিল আফ্রিকার দেশ উগান্ডা ও মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বনি¤œ এবং এশিয়ায় চতুর্থ সর্বনি¤œ অবস্থান সুনিশ্চিত করেছিল। উক্ত পরিসংখ্যানে ৮৮ নম্বর পেয়ে তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে ছিল ডেনমার্ক অর্থাৎ পৃথিবীতে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ ডেনমার্ক। ৮৫ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ৪ টি দেশ যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড, সিংগাপুর, ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন। ৮৭ নম্বর পেয়ে নিউজিল্যান্ড ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভূটানের অবস্থান ছিল খুবই আশাব্যঞ্জক। উল্লেখিত সূচকে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে ২৫তম অবস্থান নিশ্চিত করে ভূটানের স্কোর ছিল ৬৮। বিশ্বে ৪১ নম্বর পেয়ে ৭৮ তম অবস্থানে এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থান ছিল ভারত।
যদিও কোন দেশই শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত নয়; তারপরেও দুর্নীতির একটা সহনীয় মাত্রা থাকা প্রয়োজন; যা পুরো জাতিকে যেন বিপদগ্রস্ত করতে না পারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা যথাসময়ে যথার্থ অর্থে যে দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান সুস্পষ্ট করেছেন তা দেশ-জাতিকে অনেক বেশি উজ্জীবিত এবং আশান্বিত করেছে। ইতোমধ্যে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জনগণ তাঁর উপর অধিকতর আস্থাবান হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এর যথাযথ তত্ত¡াবধান, পুনঃযাচাই ও মূল্যায়নের জন্য নৈতিকতার মাপকাঠিতে অনন্য উচ্চতায় দেশে যাঁরা রয়েছেন তাঁদেরকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। দুর্নীতি নির্মূলে অঙ্গীকার এবং সত্যিকার অর্থে দৃশ্যমান বাস্তবায়ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ ও করোনাকালীন পর্যুদস্ত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে – এটিই সকলের প্রত্যাশা। অন্যথায় সকলের দায়বদ্ধতা কোন না কোন সময় অপ্রিয় প্রশ্নবিদ্ধ-চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হতে হবে। বিশ্বকবি রবীঠাকুরের ‘ন্যায়দন্ড’ কবিতার পংক্তি উচ্চারণে এই ক্ষুদ্র নিবন্ধের ইতি টানতে চাই –
‘ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা, হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা তোমার আদেশে।
যেন রসনায় মম সত্যবাক্য ঝলি উঠে খরখড়গসম তোমার ইঙ্গিতে।
যেন রাখি তব মান তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজ স্থান
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে’

লেখক : শিক্ষাবিদ, সমাজ-অপরাধবিজ্ঞানী, সাবেক উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।