অযোধ্যায় শিবসেনা-বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা

15

ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণে সরকারের ওপর চাপ গৃষ্টি করতে দুদিনের কর্মসূচি করছে শিবসেনা ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। কর্মসূচিতে অংশ নিতে শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরে শনিবারই উত্তর প্রদেশের এ শহরটিতে আসছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি, আনন্দবাজার। রোববার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) অযোধ্যায় আয়োজন করছে ‘ধর্ম সংসদ’। এতে প্রায় দুই লাখ অনুসারী যোগ দেবেন বলেও প্রত্যাশা আয়োজকদের। শনিবার অযোধ্যায় প্রার্থনার কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে জনসংযোগ ও সরযূ নদীর তীরে আরতি করার কথা রয়েছে উদ্ধবের। ভিএইচপির রোববারের আয়োজনেও থাকবেন শিবসেনা প্রধান। আগামী মে-তে সাধারণ নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকারকে চাপ দিয়ে রামমন্দির প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি দেখতে চায় সংগঠন দুটি। সে কারণেই এমন কর্মসূচি, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।
আনন্দবাজার বলছে, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর অযোধ্যায় এটিই ভিএইচপির সবচেয়ে বড় ‘ধর্মসভা’ হতে যাচ্ছে। এতে কট্টরপন্থি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ৫০-৬০ হাজার সদস্যও থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অযোধ্যায় রামমন্দির প্রতিষ্ঠায় একইদিন বেঙ্গালুরু ও নাগপুরেও সমাবেশ করার কথা রয়েছে ভিএইচপির। কট্টরপন্থি এ সংগঠনটি বলেছে, ‘যুদ্ধের আগে’ এটিই শেষ দামামা। এরপরও সরকার তারিখ না জানালে তারা নিজ উদ্যোগে রামমন্দির বানানোর কাজে হাত দেবেন।
শিবসেনা ও ভিএইচপির কর্মসূচি ঘিরে শহরটিতে তুমুল উত্তেজনা ও শঙ্কা বিরাজ করছে। সংখ্যালঘু মুসমানেরা আছেন আতঙ্কে। ভয়ে অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলেও দাবি স্থানীয় সংগঠনগুলোর। তবে কর্মসূচিগুলো একেবারেই অহিংস, বলছেন সংগঠনদুটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাই বলে বসে নেই যোগী আদিত্যনাথের সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অযোধ্যায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। থাকছে ড্রোন দিয়ে নজরদারির ব্যবস্থাও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে ধর্মের জিগির তুলে নিজেদের অবস্থার আরও পোক্ত করতেই এক হয়েছে শিবসেনা ও ভিএইচপি। এমনিতেই নানা বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও রামমন্দির নিয়ে তাদের এ ঐক্য বিজেপির ওপরও তুমুল চাপ গৃষ্টি করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যদিও শিবসেনা বলছে, তাদের এ কর্মসূচি মোটেও রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার লক্ষ্য থেকে ঠিক করা হয়নি।