অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সুরাহার পথ উন্মুক্ত হোক

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

13

চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ভারতের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডবিøউইএফ) ভারতীয় শাখা ইন্ডিয়ান ইকোনমিক ফোরাম ২০১৯-এ যোগদানের বিষয় থাকলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষিয় বৈঠকসহ ১২টি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। দৈনিক পূর্বদেশসহ জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে নিম্নআয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়াসহ বাংলাদেশের সা¤প্রতিক সময়ের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরবেন । পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং বিগত কয়েক বছরে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার সরকারের ব্যাপক সাফল্যের কথাও উল্লেখ করবেন। এছাড়া ভারতের তিনটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ নেতাদের সঙ্গে যৌথভাবে বৈঠক ও মতবিনিময় করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এসবের বাইরে ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন তিনি। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরে দু’দেশের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। ৫ অক্টোবর দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের পর যোগাযোগ, সংস্কৃতি, কারিগরি সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে অন্তত আটটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে; তবে এ সংখ্যা দশেও উন্নীত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে তিস্তার পানিবণ্টন এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুর কারণে। হত্যা, ধ্বংস ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে কয়েক দফায় ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক কারণে অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও বাংলাদেশের পক্ষে বছরের পর বছর তাদের ‘দেখভাল’ করা সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতসহ বিশ্ব স¤প্রদায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, এটা আমাদের প্রত্যাশা। বলার অপেক্ষা রাখে না, কানেকটিভিটি, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলসহ বিভিন্ন ইস্যু বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। উন্নয়ন ও অগ্রগতি, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও ভারত অভিন্ন মনোভাব পোষণ করে। নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবেও বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যকার স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছে। ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট প্রশ্নে ভারতের প্রত্যাশা পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ ধারাবাহিকতায় বহুল প্রত্যাশিত পানিবণ্টন সমস্যারও নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশের জন্য তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং বাণিজ্য বাধা অপসারণ গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যু নিয়ে জল কম গড়ায়নি; তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকার আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। এক্ষেত্রে তিস্তা প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের মমতা দিদি নমনীয় না হলে তাকে বাদ দিয়েই চুক্তি সই করতে পারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ বিদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করার ক্ষমতা কেন্দ্রের রয়েছে। বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুসহ অমীমাংসিত সব সমস্যার নিষ্পত্তিতে আমরা ভারতের মোদি সরকারের আগ্রহ ও আন্তরিকতা দেখার অপেক্ষায় আছি।