অভিনন্দন ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল

11

ক্রিকেটের ভূমিপুত্র স্বয়ং ইংল্যান্ড শক্তিশালী প্রতিদ্ব›দ্বী নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দীর্ঘ চারদশক পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ছোঁয়া পেল। সেই সাথে অর্জন করল ক্রিকেট বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি । ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনালে বিজয়ী ইংল্যান্ড দলকে উষ্ণ অভিনন্দন। রবিবার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ফাইনালটি দেখা গেল লর্ডসে। ৩০ হাজার ক্রিকেটপ্রেমি দর্শকে ঠাসা লর্ডসের বিখ্যাত গ্যালারি। ক্রিকেট গৌরবময় রোমাঞ্চকর ও অনিশ্চয়তার খেলা। সেই রোমাঞ্চ সেই অনিশ্চয়তা ছিল ম্যাচের প্রতিটি পরতে, প্রতিটি বেট-বলে। ক্রিকেট রোমাঞ্চের কত যে রং হতে পারে তা দেখিয়েছে রবিবার রাতের ফাইনাল। গ্যালারির দর্শকদের পাশাপাশি টেলিভিশনে বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক উপভোগ করেছে ক্রিকেট-উত্তেজনার রূপ। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ বলটি পর্যন্ত পেন্ডুলামের মতো দুলেছে দুই দলের ভাগ্য। অনিশ্চয়তার যে রহস্যময় সৌন্দর্য থাকে, লর্ডসে তা-ই মেলে ধরেছিল ক্রিকেট। দুই দলের ক্রিকেটারদের দক্ষতা, শারীরিক যোগ্যতা ও মানসিক শক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়ে গেল ফাইনালের ম্যাচটিতে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের সঙ্গে একাত্ম হয়েছে গ্যালারি। এমনকি বাংলাদেশেও প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পাড়ায়-মহল্লায় সমর্থকদের কখনো আনন্দে ভাসিয়েছে, কখনো হতাশায় ডুবিয়েছে গতকালের ম্যাচটি। সব মিলিয়ে অন্য সব ম্যাচকে, এমনকি বিশ্বকাপের অন্য সব ফাইনাল ম্যাচকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ। প্রথম ৫০ ওভারের শ্বাসরুদ্ধকর খেলাটাই হয়ে গড়াল সুপার ওভারে। সেখানেও তীব্র রোমাঞ্চ। আবার টাই! শেষ পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারিত হলো বাউন্ডারিতে, যেখানে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড; ক্রিকেট সাম্রাজ্যের নতুন রাজা।
ফাইনালের প্রথম অংশে ম্যাচ টাই হয়। এরপর খেলা গড়াল সুপার ওভারে। সেই সুপার ওভারে ইংল্যান্ড আগে ব্যাট করে করল ১৫ রান। নিউজিল্যান্ড সেই রান তুললে আবার হলো টাই। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী বেশি বাউন্ডারি হাঁকায় জয় পায় ইংল্যান্ড। ফাইনালে ২৬টি বাউন্ডারি ইংলিশদের আর কিউইদের ১৭টি। সেই হিসেবেই জয়ী ঘোষিত হয় ইংল্যান্ড। ভাগ্য নিজের হাতে করে ট্রফি তুলে দিল ইংল্যান্ডের হাতে। ম্যান অব দ্য ফাইনাল হয়েছেন বিজয়ী দলের বেন স্টোকস। ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪১ রান করে নিউজিল্যান্ড।
নির্ধারিত ওভারের শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল সমান, ২৪১। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। এর আগে ১৯৭৯, ১৯৮৩ ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। চতুর্থবার বিধাতা মুখ ফিরিয়ে নেয়নি ইংলিশদের থেকে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে আমাদেরও উল্লাস কম নয়।
১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আইসিসি ট্রফির ফাইনালে কেনিয়াকে দুই উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপে প্রথমবার যোগ দিয়েই বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের আগমনী বার্তা জানিয়ে দিয়ে এসেছিল টাইগাররা।
এরপর ধীরে ধীরে ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের সামর্থ্য জানান দিতে শুরু করে। এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলও উজ্জ্বল। আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকাকে হারিয়ে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দেয়। তবে বিশ্বকাপের ফাইনালে না থেকেও ছিল বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে ছিল লাল-সবুজের এ লড়াই।
দেশের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার লড়াইয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভালোভাবেই টিকেছিলেন সাকিব আল হাসান। আট ম্যাচ খেলে ৬০৬ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে প্রশংসা কুড়ান তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন এক দুর্নিবার শক্তি এটা ক্রিকেটবোদ্ধারা মেনে নিচ্ছেন। তবে এটাও ঠিক বড় টুর্নামেন্টে চাপের মুহূর্তগুলো ধৈর্য্য ও বিচক্ষণতা দিয়ে জিততে শিখতে হয়। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় নার্ভ ধরে রাখতে হয়। এই দক্ষতা বোধ হয় এখনও অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জায়গায় অনেক উন্নতি করেছেন; কিন্তু জয়ের মানসিকতা না থাকলে দলীয়ভাবে জেতা সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, এজন্য বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের খেলোয়াড়দের দেশের বাইরে নানা কন্ডিশনে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের জেলায় জেলায় মাঠ ও উইকেটের উন্নয়ন করতে হবে। যেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী মাঠ আছে, সেখানে পিচগুলোতে ভিন্নতা আনতে হবে। বিশ্বে ক্রিকেট আমাদের নতুন পরিচয়ে পরিচিত করেছে। এখন ক্রিকেট পরিচর্যায় আমাদের সযত্ন হতে হবে।আগামী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আরো ভালো করবে এমন প্রত্যাশা রাখছি।