অভিনন্দন অনূর্ধ্ব ঊনিশের ক্রিকেটবিশ্ব জয়

9

এ যেন এক রূপকথার গল্প। যে গল্পের শুরু ও শেষ রুদ্ধশ্বাসে ভরপুর ছিল। যে গল্পের নায়কদের কপালে পরাজয়ের লেপন ছিল না। জয়েই শুরু, জয়েই শেষ। এ শেষ জয়েই তারা তাদের দেশ বাংলাদেশকে এনে দিল সোনা মোড়ানো বিশ্বকাপ ট্রপি। চ্যাম্পিয়ানের গর্বিত কীর্তি। বলছি, একঝাঁক আলোয় ঝলমল করা বাংলার যুবকদের কথা, যারা সোমবার বিশ্বসেরা ক্রিকেট টিম ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জিতে নিল। এ জয়ে দেশব্যাপী বয়ে যাচ্ছে বাঁধভাঙা আনন্দ। দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলের নেতারা বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে বিজয়ী যুবকদের গণসংবর্ধনা দেয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে ইতোমধ্যে। দেশ ও জাতির সাথে এ বিজয়ে আমরাও এ আনন্দে আত্মহারা। সাবাস বাংলাদেশ, সাবাস টিম ক্রিকেট অনূর্ধ্ব ১৯। অভিনন্দন তোমাদের। তোমাদের বিজয়ের আনন্দে আমরাও অংশীদার। তাদের কৃতিত্বের সর্বশেষটাই ছিল শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয়। এ বিজয় চির স্মরণীয়, কারণ যেকোনো ধরনের ক্রিকেটে এবারই প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো টাইগাররা। এর আগে জাতীয় দল হোক বা বয়সভিক্তিক ক্রিকেটেও কখনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। আমরা আশা করি, যুবকদের এ জয়, আমাদের ক্রিকেট টিমগুলোকে আরো অধিক অনুপ্রানিত করবে। বিশেষ করে, পাকিস্তানে দেশের জাতীয় ক্রিকেট দল যখন কোন আশার আলোয় দেখাতে পারছেনা, তখন ভারতের বিরুদ্ধে তারুণ্যের এ বিজয় জাতীয় দলকেও শক্তি যোগাবে- আশা করা যায়। আমরা আশা করি, বিজয়ের এ ধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেটারদের প্রতি আগের চেয়ে অধিক যতœশীল হবে। গতকাল বাংলাদেশের এ ঐতিহাসিক বিজয়ের পর, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী সংবাদগুলোর অধিকাংশই ছিল অনূর্ধ্ব ঊনিশ থেকে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ এবং তাদের পারফরমেন্স নিয়ে। সংবাদে বলা হয়, অনূর্ধ্ব ঊনিশের প্রায় ৭০ভাগ খেলোয়াড় নানা কারণে খেলার মাঠ থেকে বিদায় নেন। বাকি ত্রিশভাগ মাত্র জাতীয় দলে খেললেও মুশফিকুর রহিম ও মিরাজের মত সবাই জ্বলে উঠতে পারেনি। অন্যদিকে ভারতের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ৭০ ভাগই অনূর্ধ্ব ঊনিশ থেকে স্থান করে নেয়। তারা বরাবরই জাতীয় দলে দেশের পক্ষে সেরাটাই খেলে আসছেন মাঠে। বিষয়টি গভীর ভাবনার ও চিন্তার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এ বিষয়ে তাদের মনোযোগ বৃদ্ধি করবেন। আমরা আশা করি, বিশ্ববিজেতা এ যুবকদের আগামীতে আরো ভালোভাবে জাতীয় টিমে খেলার পরিবেশ সৃষ্টি করে ক্রিকেট বোর্ড তাদের প্রতি অধিকতর যতœশীল হবেন।
উল্লেখ্য যে, খেলার শুরুতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪৭ দশমিক ২ ওভারে ১৭৭ রান করে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৮ দশমিক ৫ ওভারে দলীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান। কিন্তু এরপর ১৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর অধিনায়কের মতোই দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন আকবর। আকবর-ইমন-রাকিবুল হাসানের কৌশলী বেটে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ জয়ের দিকে এগিয়ে যায়, যদিও এসময় বৃষ্টি বাংলাদেশের রানের গতিতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটিয়েছিল। বৃষ্টি শেষে আবারো ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ডিএল পদ্ধতিতে তখন যুব টাইগারদের দরকার হয় ৩০ বলে সাত রান। সেই রান নিতে কোনো বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশকে। আকবরের ৪৩ এবং রাকিবুলের ৯ রানের ইনিংসে ভর করে অনায়াসেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় যুবা টাইগাররা।